সাক্ষাৎকারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ডিজি

নজরদারিতে শীর্ষ ৫০ ইয়াবা গডফাদার

দেশ বিদেশ

শুভ্র দেব | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৬
মাদকের করাল গ্রাসে ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ। দেশের সর্বত্র মাদকের ছড়াছড়ি। সমাজের উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত সকল শ্রেণিতে মাদক সেবনের মাত্রা বেড়ে গেছে। আর যারা মাদকদ্রব্য আমদানি, বহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত তারা দেশের শত্রু। এসব শত্রুর তালিকা এখন আমাদের হাতে। প্রথমেই দেশের শীর্ষ ৫০ ইয়াবা গডফাদারের তালিকা নিয়ে মাঠে নেমেছি। তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। শিগগিরই তাদের ধরে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। মানবজমিনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি গত ২৯শে জুন দায়িত্ব পান। যোগদানের পর থেকে তিনি এই অধিদপ্তরের কর্মকাণ্ড নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অধিদপ্তরে যোগ হয়েছে কাজের নতুন মাত্রা। মানবজমিনকে তিনি বলেন, দেশে কয়েক হাজার মাদক ব্যবসায়ী আছে। যাচাই-বাছাই করে ৫০ জন ইয়াবা গডফাদারের তালিকা নিয়ে এখন কাজ করা হচ্ছে। এসব গডফাদাররা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। তারা তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক দিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয় ইয়াবা। গডফাদারদের ধরে শাস্তির ব্যবস্থা করলে দেশ থেকে ইয়াবা নির্মূল করা যাবে। ডিজি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকাণ্ড এখন থেকে আরো বেগবান করা হবে। অধিদপ্তরকে আরো ঢেলে সাজানোর কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত এই অধিদপ্তর ১৭০৬ জনবল নিয়ে কাজ করছে। কর্মকাণ্ডকে আরো বেশি গতিশীল করার জন্য জনবল বাড়িয়ে ৮৪২১ জন করার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে। এতে করে অধিদপ্তরের কাজের গতি বাড়বে। পাশাপাশি কম সময়ে আরো বেশি কাজ সম্পাদন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় মাদক নিরাময় কেন্দ্রকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যা করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনার ৫ শয্যা বিশিষ্ট নিয়াময় কেন্দ্রগুলোকে ১০ শয্যা করার চেষ্টা চলছে।  গেন্ডারিয়ার ঢাকা মেট্রোর মাদক বিরোধী অভিযানের সঙ্গে জড়িত ১৪টি সার্কেল ভেঙে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করা হয়েছে। গেন্ডারিয়া থেকে ইতিমধ্য ৭টি সার্কেলকে অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের ৫ তলায় আনা হয়েছে। কারণ গেন্ডারিয়া থেকে এসে তাদের জন্য উত্তরায়-গুলশানে অভিযান চালানো অনেক কষ্টকর। কোথাও কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে গেন্ডারিয়া থেকে আসতে আসতে মাদকব্যবসায়ীরা পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ডিজি বলেন, মাদক বিরোধী অভিযানের ইন্সপেক্টর-সিপাহীরা খাকি পোশাক পরতে চাইতো না। তিনি আসার পর তারা পোশাক পরতে বাধ্য হয়েছেন। এমনকি ফাঁকিবাজ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের কাজে আরো সক্রিয় করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীদের মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগসাজোশের ব্যাপারে তিনি বলেন, দৃশ্যত নাই। তবে কাউকে যদি পাওয়া যায় সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই অধিদপ্তরের কর্মী হয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজোশ করা ঠিক হবে না। কারণ মাদক নির্মূল করা না গেলে সমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। ঢাকার অলিতে-গলিতে মাদকের ছড়াছড়ি নিয়ে তিনি বলেন, মাদক নির্মূলের জন্য পুলিশ, র‌্যাবসহ আরো কিছু সংস্থা কাজ করছে। সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণ থাকলেই মাদক নির্মূল করা সময়ের ব্যাপার।
 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন