‘ওদের জন্য কাজ করি বলেই আমাকে পাশে রাখতে চায়’

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার থেকে | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:১৩
ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতির সঙ্গে আমার সখ্য। তাই সে সময় থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করা অনেকটা নেশাই বলা যায়। স্কুল জীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলাম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমাকে অনুপ্রাণিত করত। সে সময়ে তাঁর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ছাত্রলীগের একজন নিবেদিত কর্মী ছিলাম। আজও তারই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে দলের একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। দলের সুদিনে দুর্দিনে দলের এ জেলার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করে দলীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। ১৯৭৫ সালের থেকে ছাত্রলীগকে গতিশীল করতে কাজ করেছি। মনে পড়ে ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্টে জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে মৌলভীবাজারে মশাল মিছিল ও কালো পতাকা প্রদর্শনের কারণে জেল খেটেছি। প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে সেখানেও দলের জন্য সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সেখানে আর ফিরে যাইনি। এখন আমার জন্ম মাটি মৌলভীবাজারেই নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য আর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। গতকাল মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে এমনটিই জানালেন জেলা আওয়ামী লীগের অন্যতম সদস্য, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, সাবেক বৃটিশ কাউন্সিলর ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক, শিল্পপতি এমএ রহিম (সিআইপি)। নির্বাচনী মাঠে দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মুখে তার প্রার্থীতা নিয়ে জোরাল গুঞ্জন রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে দলের একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দাবি করছেন এবং বিবেচনায় নিচ্ছেন। তাই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ (রাজনগর-মৌলভীবাজার) আসন থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন দলের নিবেদিত প্রাণ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা নির্বাচনে দলের স্বার্থে প্রার্থী হওয়ার জন্য আমাকে অনুরোধ করছেন। তারা নির্বাচনে প্রার্থী হতে নানা ভাবে আমাকে অনুপ্রাণিত করছেন। যে হেতু আমি রাজনীতি করি দলের নেতাকর্মীদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়েই আমাকে আগাতে হবে। দলের মাননীয় সভানেত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে আমাকে এই আসনে প্রার্থী হতে বলেন তা হলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করব। আর জণগণের ভালোবাসায় আমার দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাস, ইনশাআল্লাহ দলের নেতাকর্মীসহ সকলের সহযোগিতা ও দোয়ায় নৌকা প্রতীকের বিজয়ও নিশ্চত হবে। কারণ আমিও এখানকার জনগণের মত এই সংসদীয় এলাকার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি চাই। তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে মৌলভীবাজার-৩ (রাজনগর-মৌলভীবাজার) সংসদীয় এলাকা ছাড়াও পুরো জেলার মানুষের কল্যাণে আমার সাধ্যানুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। এ জেলার মানুষ আমাকে আপন করে তাঁদের হৃদয়ে ঠাঁই দিয়েছে। আমিও তাদের ভালোবাসার প্রতিদান স্বরূপ নিঃস্বার্থ কাজ করে যাচ্ছি। আমি সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষার আলো সবার ঘরে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানা নির্মাণ করেছি এবং করছি। যাতে কিছুটা হলেও এ অঞ্চলের কর্মহীন মানুষের কর্মস্থানের সুযোগ হয়। গরিব, দুঃখী অসহায় মানুষ ও সমাজ কল্যাণে আমার মহত উদ্দেশ্য থাকার কারণেই হয়ত স্থানীয় জনগণ আমাকে তাদের হৃদয়ে ঠাঁই দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি তাদের এমন ভালোবাসার যোগ্য প্রতিদানও পেয়েছি। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন গেল জেলা পরিষদ নির্বাচনে দুই জন সাবেক এমপির সঙ্গে প্রার্থী হয়েও অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরেছি। আমি সামান্য ভোটে হারলেও তাদের এমন ভালোবাসার প্রতিদানে কৃতজ্ঞ। কোন পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া হঠাৎ এই নির্বাচনে অংশ নিয়েও এত ভোট পাওয়া এটা আমার রাজনৈতিক জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি। আর এটাই আমার রাজনৈতিক জীবনের চলার পথের পাথেয়। ওদের আমি মনে প্রাণে ভালোবাসি। তাদের কল্যাণে কাজ করি বলেই তাদের পাশে আমাকে রাখতে চায়। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে চায়। এটা আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। অনেক বড় সম্মান। আমি এই সম্মানের মর্যাদা দিতে চাই। তাদের জন্য আরো কাজ করতে চাই। আমি দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে মামলা, হামলা ও জেল, জুলুম খেটেছি। এমন সব প্রতিকূলতা সহ্য করে দলের নিবেদিত কর্মী হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে এ জেলার দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে চাই। সর্বোপরি মানুষ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করতে চাই। এমএ রহিম (সিআইপি) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের ইউছুফনগর রাতগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ৩ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে তিনি ২য়। ১৯৭৭ সালে মৌলভীবাজার সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি ১৯৮০ সালে একই কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমকম প্রথম বর্ষ সম্পন্ন করেন। ১৯৮২ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য ব্রিটেন চলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি পড়া লেখার পাশাপাশি সেখানকার অবহেলিত বাঙ্গালি কমিউনিটি কে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে নানা সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রথমে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন। পরে সাংগঠনিক ও সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতেও ওতপ্রোতভাবে জড়ান এবং টাওয়ার হ্যামলেটের ১ম বাংলাদেশী বৃটিশ কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। যুক্তরাজ্য থাকাকালে সেখানকার বাঙালি কমিউনিটি, আওয়ামী লীগের রাজনীতির একজন সফল নিবেদিত প্রাণ কর্মী ছিলেন। একজন সফল কাউন্সিলর হিসেবেও পেয়েছেন একাধিক সম্মাননা পুরস্কারও। তাছাড়া সেখানে একজন প্রতিষ্ঠিত সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও রয়েছে তার সুনাম ও খ্যাতি। দেশে এসেও বসে নেই তিনি। ব্যবসা ও রাজনীতির পাশাপাশি নানা সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও জড়িত হয়ে তরুণ সমাজকে ভালে কাজে অনুপ্রাণিত করছেন। তিনি বলেন, আমার প্রত্যাশা ও স্বপ্ন হলো সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়া। আর শিক্ষিত বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত সৃষ্টি করা। যেটি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়তে যে স্বপ্ন দেখতেন। এই মহান নেতা ও তাঁর সুযোগ্য কন্যার পদাঙ্ক অনুস্মরণ করে সে লক্ষেই আমি কাজ করে যাচ্ছি। এর আলোকেই যুক্তরাজ্যেও আমি একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করে সেখানে বাঙালি ও বৃটিশ ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ করে দিয়েছি। নিজ গ্রামে আমার প্রয়াত বাবার নামে আলহাজ মখলিছুর রহমান ডিগ্রি কলেজ নির্মাণ করেছি। যেখানে দরিদ্র শিক্ষার্থী শতভাগ বিনা বেতনে ও নানা সুযোগ-সুবিধায় পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে। আমার মায়ের নামে কর্পুলনেছা এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা তৈরি করেছি। আরো একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণের লক্ষে কাজ চলছে। আর কর্মসংস্থানের জন্য সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ব্যবসা,শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কলকারখান নির্মাণ করেছি ও করছি। আশা রাখছি সকলের সহযোগিতা, দোয়া ও আশীর্বাদে এই কাজে এগিয়ে যাব। এমএ রহিম ব্যক্তি জীবনে বিবাহিত। তার স্ত্রী নাসিমা রহিমও উচ্চ শিক্ষিত। এই দম্পতির রয়েছেন ৫ সন্তান। তারা সবাই যুক্তরাজ্যে লেখাপড়া করছেন।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন