অফিস উপস্থিতি টেলিফোন সেবা নিয়ে মাঠ প্রশাসনকে ১৮ নির্দেশনা

এক্সক্লুসিভ

দীন ইসলাম | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩২
ঠিক সময়ে অফিস উপস্থিতি ও টেলিফোন সেবা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনকে ১৮টি নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে গত ৩১শে আগস্ট এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণের সেবা দিতে সব সময় সচেষ্ট থাকা প্রজাতন্ত্রের সব কর্মচারীর সার্বক্ষণিক দায়িত্ব। এ জন্য সরকারি কর্মচারীদের সময়ানুবর্তিতা ও নিয়মানুবর্তিতা হওয়া আবশ্যক। ঠিক সময়ে দপ্তরে উপস্থিতির কারণে কাজের জন্য অনেক বেশি সময় পাওয়া যায়। কার্যক্রম ঠিক সময়ে শেষ করা যায় ও সেবাপ্রত্যাশীরা যথাযথ সেবা পায়। পাশাপাশি দপ্তরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। দপ্তরে দেরিতে উপস্থিতি প্রতিরোধের জন্য ‘দি গভর্নমেন্ট সার্ভেন্টস (ডিসিপ্লিন অ্যান্ড আপিল) রুলস, ১৯৮৫, দি গভর্নমেন্ট সার্ভেন্টস (কন্ডাক্ট) রুলস, ১৯৭৯ এবং দি পাবলিক এমপ্লইস ডিসিপ্লিন অর্ডিন্যান্সে কঠোর বিধি-বিধান রয়েছে। এরপরও লক্ষ্য করা যাচ্ছে কোনো কোনো সরকারি কর্মচারী ঠিক সময়ে নিজ নিজ দপ্তরে উপস্থিত হন না। এতে করে সেবা প্রত্যাশীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। এ কারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১৮ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকার নির্ধারিত অফিস সময় অনুযায়ী দপ্তরে উপস্থিত হতে হবে। হাজিরা খাতায় অফিসে আসা (আগমন) ও যাওয়ার (প্রস্থান) কলামে সময় উল্লেখ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধান ঠিক সময়ে অফিসে উপস্থিত হওয়া এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হাজিরা খাতা পরীক্ষা করবেন। পূর্ব নির্ধারিত বা তাৎক্ষণিক জরুরি প্রয়োজনে ঠিক সময়ে দপ্তরে উপস্থিত হতে না পারলে সংশ্লিষ্ট গোপনীয় সহকারী বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়ে রাখতে হবে। সরকারি কাজে দপ্তরের বাইরে থাকলে সংশ্লিষ্ট গোপনীয় সহকারী বা অন্যান্য কর্মচারীকে সব ফোন রিসিভ এবং সেবা প্রত্যাশীকে সেবা দেয়ার নির্দেশনা দিতে হবে। ভদ্রোচিত ভাষায় সব টেলিফোন কল রিসিভ করতে সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করতে হবে। কর্মকর্তাদের তথ্য ঠিকভাবে জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো সেবা প্রত্যাশীর নাম, পদবি/পরিচয় ও মোবাইল নম্বর রেখে নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তাকে ওই তথ্য জানাতে হবে। এছাড়া কোনো কর্মকর্তা কর্মস্থলের বাইরে থাকাকালে কোনো জরুরি চিঠি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক পরবর্তী কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন এবং নির্দেশনা দেবেন। সরকারি টেলিফোন সব সময় সচল রাখতে হবে। এতে বলা হয়, প্রত্যেক কর্মকর্তার জন্য কর্পোরেট সিমের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি টেলিফোন ও কর্পোরেট সিম নম্বর সংশ্লিষ্ট এলাকার জনবহুল ও দৃশ্যমান স্থানের বোর্ডে প্রচার করতে হবে। সরকারি টেলিফোন ও কর্পোরেট সিম নম্বর সংশ্লিষ্ট টেলিফোন নির্দেশিকা বা দপ্তরের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করতে হবে। সব সময় ডিজিটাল সেবা দেয়ার বিষয়টি উৎসাহিত করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা টেলিফোন কল রিসিভ করার অবস্থায় না থাকলে মেসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া বা সংক্ষিপ্ত আলাপের মাধ্যমে পরে ফোন করার অনুমতি নিতে হবে। নির্দেশনার বলা হয়েছে, এসব বিষয়গুলো ঠিকভাবে অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন