যৌথটহলের প্রস্তাব নিয়ে বিএনপির প্রশ্ন

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার, ৫:৫৫
রোহিঙ্গা ইস্যুতে যৌথটহলের প্রস্তাব নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার প্রস্তাব দিচ্ছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আর বাংলাদেশের বিজিবি যৌথভাবে টহল দিয়ে অভিযান চালাবে। কিন্তু কোথায় এবং কার বিরুদ্ধে এ অভিযান চালানো হবে? যাদের হত্যা ও ধর্ষণ করা হচ্ছে, যাদের শিশুদের মেরে ফেলা হচ্ছে; গ্রামের পর গ্রাম আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে? সেখানে বিজিবি থাকবে? সরকার পুরোপুরি নতজানু হলেই এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলো নেয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে গতকাল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে যুবদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রশ্ন তুলেছেন। মির্জা আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেনÑ রোহিঙ্গা ইস্যুতে রাজনীতি করতে চায় বিএনপি। আমি বলতে চাই, বিএনপি নয়Ñ আওয়ামী লীগ এই ইস্যুতে রাজনীতি করতে চান। এই জন্যই তারা এমন যৌথটহল নিয়ে অভিযানের প্রস্তাব দিচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সারা বিশ্ব প্রতিবাদে সোচ্চার হলেও বাংলাদেশ সরকার এখনও দ্বিধাদ্বন্ধে রয়েছে। কারণ ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী, তুরস্কের ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর পর প্রথম জাতিসংঘ থেকে একটা বড় মানবাধিকার টিম আসছেন। অবিলম্বে রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধ করার তাগিদ দিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে নিরাপত্তা পরিষদকে চিঠি দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। বিশ্ব যখন সোচ্চা হয়ে ওঠেছে তখন অবশেষে প্রধানমন্ত্রী একটি বিরাট বহর নিয়ে কক্সবাজারে গেছেন, উখিয়ায় সফর করেছেন। আমরা কিছুটা খুশি দেরিতে হলেও প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দেখতে এবং ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে গেছেন। এতোদিন বোধোদয় হয়েছে! তবে এখনও পুরোপুরি বোধোদয় হয়নি। সুযোগ পেলেই বিএনপিকে দোষারোপ করেন। মির্জা আলমগীর অভিযোগ করে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার গতকাল সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছে, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমার সরকারকে চাপ দেয়া উচিত। কিন্তু মিয়ানমার সরকার যে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালাচ্ছে তার জন্য নিন্দা জানাননি। সংসদে নিন্দা প্রস্তাব আনার সাহস করেনি। অথচ জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান বলেছেন, সুস্পষ্টভাবে মিয়ানমারে গণহত্যা চলছে এবং জাতিধ্বংস করার নিধনে যেটাকে ‘ইফক্লিজিং’ বলে সেটার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা পরিষ্কার ভাষায় জানাচ্ছিÑ রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সরকারের এই গণহত্যার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। মিয়ানমার সরকারকে বলছি, অবিলম্বে তারা যেন রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা বন্ধ করে। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি’র নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে এই ধরণে গণহত্যার ঘটনা লজ্জা। বিএনপি মহাসচিব বলেন, মিয়ানমার সীমান্তে মাইন পোতা ও বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় সরকার নিরব। আজকে মিয়ানমার যখন তিন লক্ষ শরনার্থীকে আমাদের দেশে ঠেলে দিয়েছে তখন তো আমার দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আক্রান্ত হয়েছে। তাদের হেলিকপ্টারগুলো ঘুরছে, সীমান্তের পাশেই তাদের সেনাবাহিনী মাইন বসাচ্ছে। সেগুলো সম্পর্কে সরকার একটা কথাও বলছে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমস্যা সমাধানে কথা বলতে হবে, আলোচনা করতে হবে। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের মনোভাব আমরা ঠিক বুঝতে পারি না। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তখন সীমান্তে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তোমরা যদি এভাবে এগুতে থাকো তাহলে এই সেনাবাহিনী নিয়ে আমি তোমাদেরকে বাঁধা দিতে বাধ্য হবে। মিয়ানমার সরকার সেবার রোহিঙ্গাদের ফেরতও নিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলে সে সমস্যা দেখা দিলে তিনি ১৯৭৮ সালে চুক্তি করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করেছিলেন। সেই চুক্তির মধ্যে বলা আছে, ভবিষ্যতে যে কোন সমস্যা হলে বসতে হবে, কথা বলতে হবে এবং এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেগুলো করতে চায় না। আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা আলমগীর সরকারের উদ্দেশে বলেন, আপনারা নির্বাচন নির্বাচন বলে খুব ঢোল বাজাচ্ছেন। নির্বাচন এই দেশে আমরাও চাই। কারণ, ২০১৪ সালে আপনারা যে নির্বাচন করেছেন তা এ দেশের মানুষ গ্রহণ করেনি। জোর করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছেন। আর সামনে যখন নির্বাচনের সময় আসছে তখন আপনারা নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন কথা বলতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের কথা খুব স্পষ্ট যে, আপনারা সংবিধান পরিবর্তন করেছেন। সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাদ দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করেছেন। এক সময় এ দেশের মানুষ আপনাদের দেয়া তত্ত্বাবধায়ক প্রস্তাব মেনে নিয়েছিল। তিনবার সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার পর শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য গোটা বাংলাদেশকে অশান্তি, অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তাই আজ যত সংঘাত সমস্যা তৈরি হচ্ছে তার মূলে রয়েছে নির্বাচন। আশা করি সরকরের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সহায়ক সরকারের যে প্রস্তাব খালেদা জিয়া দেবেন সেই প্রস্তাব মোতাবেক একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে ও সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের পরিচালনায় সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ বুলু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন ও যুবদল দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন বক্তব্য দেন।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের ব্যাপক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন: ইউএনএইচআরসি

উল্টো পথে গাড়ি জরিমানা গুনলেন প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিএনপির তিন প্রস্তাব

মালিতে বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী নিহত

নারায়ণগঞ্জে ঘুষ গ্রহণকালে হাতেনাতে গ্রেপ্তার ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার

ধর্ষণের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ স্বাস্থ্যকর্মীরা

‘প্রধানমন্ত্রীর উপর হামলা চেষ্টার খবর ভিত্তিহীন’

‘প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চক্রান্তের খবর সম্পূর্ণ ভূয়া’

‘জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চক্রান্ত’

বান্দরবানের রোহিঙ্গারা কোন মনোযোগই পাচ্ছেন না

টেকনাফে চার লাখ ৯৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই রোহিঙ্গা আটক

যুবলীগ নেতাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ

ধুমপানে বাধা দেয়ায় দোকানিকে সিগারেটের ছ্যাঁকা

পারমাণবিক যুদ্ধের হিম আতঙ্ক

লেবার নেতা হিসেবে সাদিক খানকে দেখতে চান বৃটিশ ভোটাররা

কর্ণফুলীতে বিএনপির তিন প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন