মিয়ানমারে লড়াইরত উগ্রপন্থি আরসা আসলে কারা?

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, মঙ্গলবার
রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সেনাবাহিনীর নৃশংসতায় তোলপাড় চলছে বিশ্বজুড়ে। ২৫ শে আগস্ট সেখানে সহিংসতা শুরুর পর কমপক্ষে ৩ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম দেশ ছেড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। ২৫ শে আগস্ট পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি নামে রোহিঙ্গা উগ্রপন্থিরা। তারপর থেকেই রাখাইনে আগুন জ্বলছে। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া, গণ হারে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ করছে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা। জবাবে মিয়ানমার সরকার বলছে, নিজেদের বাড়িঘরে নিজেরাই আগুন দিয়েছে  রোহিঙ্গা মুসলিমরা, যাদেরকে তারা ‘টেরোরিস্ট’, বাঙালি বলে অভিহিত করছে।
প্রশ্ন হতে পারে, আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি (এআরএসএ বা আরসা) সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালালে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে কেন সাধারণ, নিরীহ রোহিঙ্গারা। এসব নিয়ে গত দু’সপ্তাহের বেশি সময় আলোচনা তুঙ্গে। আলোচনা শুধু ভারত উপমহাদেশে নয়, সারা বিশ্বজুড়ে। নিন্দা, ধিক্কার, প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বিশ্বের সচেতন সব মানুষ। কিন্তু একটি প্রশ্ন খুব কমই আলোচিত হয়েছে। তা হলো আসলে এই আরসা বা আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি কারা? আসলে হরকতাল ইয়াকিন বা বিশ্বাসীদের আন্দোলন নামেও পরিচিত আরসা। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, আরসা গ্রুপটিকে নেতৃত্ব দেয় সৌদি আরব প্রবাসী রোহিঙ্গাদের একটি কমিটি। আর তাদেরকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রশিক্ষণ দেয় রোহিঙ্গারা। গেরিলা যুদ্ধের কৌশল সম্পর্কে অভিজ্ঞতা দেয়া হয়। তবে এ নিয়ে সিএনএন’কে দেয়া সাক্ষাতকারে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে আরসা। তারা রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব করলেও সিএনএনকে বলেছে, তারা ধর্মনিরপেক্ষ। আইসিস বা  আল কায়েদার মতো ইসলামপন্থি সংগঠনের সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্র নেই।
তাদের নেতা কে?
আরসার সামনের সারিতে যিনি আছেন তার নাম আতা উল্লাহ। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের রিপোর্টে বলা হয়েছে তার জন্ম করাচিতে। পরে তিনি সৌদি আরবে চলে যান। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আতা উল্লাহ। সিএনএনকে তিনি বলেছেন, তার গ্রুপ সৌদি আরবের সমর্থকদের কাছ থেকে সমর্থন পায় না। অর্থাৎ তারা নিরপেক্ষ একটি গ্রুপ। তাদের সঙ্গে পাকিস্তান, বাংলাদেশ বা আফগানিস্তানের কোনো গ্রুপের কোনো সম্পর্ক বা যোগাযোগ নেই। তিনি আরো দাবি করেন, তারা সন্ত্রাসী নন। তারা কখনো সাধারণ মানুষের, বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালান না। তিনি বলেন, তাদের একমাত্র টার্গেট হলো নিপীড়নকারী সরকারি বাহিনী।
আরসা আসলে কি চায়?
আরসা বলছে, তারা উপকূলীয় রাজ্য রাখাইনে কার্যত বন্দি অবস্থায় যে ১০ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন তাদের পক্ষে লড়াই করছেন। তাদেরকে কোনো অধিকারই দেয়া হয় না। তাই তারা চলাফেরায় স্বাধীনতা, মৌলিক শিক্ষার অধিকার, স্বাস্থ্যসেবার অধিকার, নাগরিকত্বের জন্য লড়াই করছেন। ১৯৮২ সালে নাগরিকত্ব আইনের অধীনে রোহিঙ্গাদেরকে নাগরিকত্ব দাবি করলে আবেদনের অনুমোদন দেয়া হয়। শুধু তখনই তারা এ আবেদন করতে পারবেন যদি তারা সরকার স্বীকৃত ভাষায় কথা বলতে পারেন, তাদের পরিবার স্বাধীনতা অর্জনের আগে থেকেই মিয়ানমারে বসবাস করছে এমন প্রমাণ দেখাতে পারেন তবেই এমন আবেদন করতে পারেন। তাই অসংখ্য রোহিঙ্গা কখনোই সরকারি ডকুমেন্ট পান নি। কার্যত তারা রয়েছেন রাষ্ট্রহীন অবস্থায়।
তাদের সংখ্যা কত?
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বলছে, তারা সহিংসতায় প্রায় ৪০০ উগ্রপন্থিকে হত্যা করেছে। এ হিসাব এক সপ্তাহ আগের। কিন্তু বর্তমানে এ সংখ্যা কত তা জানা যাচ্ছে না। সরকার বলছে না বর্তমান সংখ্যা কতো। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা বলছে, নিহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যাচে। অভিযোগ করা হচ্ছে, পলায়নরত গ্রামবাসীদেরকে দলে ভেড়াচ্ছে আরসা। যুবক ও তরুণদের দেশেই থেকে যেতে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে এবং লড়াই করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, নারী ও শিশুদের পালিয়ে যেতে দেয়া হচ্ছে। গত অক্টোবরে মিয়ানমার সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে আরসা। ওই সময় তারা একটি সীমান্ত প্রহরা চৌকিতে হামলা চালায়। তাতে কমপক্ষে ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। যদিও আরসায় নতুন নতুন যোদ্ধা যোগ দিচ্ছে, তারা মিয়ানমারের শক্তিধর সেনাবাহিনীর সঙ্গে ম্যাচ করে উঠতে পারবে না।
কোথা থেকে আসে সাপোর্ট?
অভিযোগ আছে বাইরের সমর্থন ও আর্থিক সহায়তা পায় আরসা। কিন্তু এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন আতা উল্লাহ। তাহলে তারা সম্প্রতি যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তাতে সহযোগিতা আসছে কোথা থেকেÑ এক্ষেত্রে তারা নিজেরাই অর্থের যোগান দিয়ে থাকতে পারে। গত অক্টোবরে আরসা যখন হামলা চালায় তখন আতা উল্লাহ বলেছিলেন, তার যোদ্ধাদের হাতে কোনো অত্যাধুনিক অস্ত্র নেই। তিনি আরো বলেছিলেন, আমরা চাপাতি, তরবারি, ছুরি নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাই। সিজ করা অস্ত্র ব্যবহার করি তাদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে তাদের হাতে ছুরি নেই, মুখোশপরা সদস্যদের হাতে আছে অ্যাসল্ট রাইফেল। ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে তারা নতুন সদস্যদের দলে যোগ দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

nirvrosto

২০১৭-০৯-১৪ ১৬:১২:০৬

রোহিংগা বা তাদের পক্ষের কেউ কেন সশস্ত্র আক্রমণ চালাবে নিজ দেশের সেনাবাহিনী বা পুলিসগ সদস্যদের উপর ? অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে চীন সহ অন্য্যান্যরা নিরীহ নির্যাতিত মানুষদের দুর্দশা নিয়ে যে খেলা খেলছে তার শুরুটা করেছে রোহিংগারা নিজেরাই। সশস্ত্র বিপ্লব একটি দির্ঘস্থায়ী সঙ্ঘাতের জন্ম দেয়। এ দিক থেকে ভারতকে রক্ষা করেছেন মহাত্মা গান্ধী। সুভাষ বোসের নীতি অনুসরণ করলে ভারতের কপালে দুঃখ ছিল।

আপনার মতামত দিন

‘প্রধানমন্ত্রীর সামনে এখন বিদায়ের দুটি পথ খোলা’

আহত ২০, বিএনপির ৬১ জন আটক

১৩ বছরের প্রতিবন্ধীকে ৬৫ বছরের বৃদ্ধের ধর্ষণ

সাংসদের গাড়ি উল্টোপথে, ট্রাফিক পুলিশের বাধা(ভিডিওসহ)

পঙ্কজ রায়ের জামিন মঞ্জুর

আম্পায়ারের সঙ্গে সাকিবের এ কেমন আচরণ!

‘ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই না’

পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশন হচ্ছে ময়মনসিংহ

রাজধানীর নতুন থানা হাতিরঝিল

জঙ্গি হামলায় আরেক অর্থ সরবরাহকারী গ্রেপ্তার

সৌদি আরবে ২৪ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তারেক রহমানসহ চারজনের বিচার শুরু

আওয়ামী লীগের আমলেই সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় থাকে : ফখরুল

‘হাসপাতালে বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে মরদেহ আটকে রাখা যাবে না’

মা ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করলো যুবক

কানাডার উন্নয়নমন্ত্রী আসছেন মঙ্গলবার