(পর্ব-১)

কেন জাতিসমূহ ব্যর্থ?

বই থেকে নেয়া

| ২১ আগস্ট ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:৩২
চার বছর আগে বইটি প্রকাশের পরই বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তুলেছিল। বইটির নাম কেন জাতিসমূহ ব্যর্থ। ‘হোয়াই নেশনস ফেইল? দি অরিজিনস অব পাওয়ার, প্রোসপারিটি অ্যান্ড প্রোভার্টি’। সেই পুরনো প্রশ্ন, মানুষ গরিব কেন? এটা তার নিয়তি নাকি অন্য কিছু? একই প্রশ্ন উঠেছে দেশ ও জাতির প্রশ্নে। কিছু দেশ ধনী, আর ধনী। তাদের টাকা পায়সা, ধনদৌলত শুধু বাড়ে আর বাড়ে।
আর কিছু দেশ দরিদ্রই থেকে যায়। তার উন্নয়নের নামে কত রাজনীতি হয়, কিন্তু গরিবেরা গরিবই থেকে যায়। এটা কেন? কি তার কারণ?
এসব প্রশ্নের উত্তর খুজেছেন, বিশ্বখ্যাত দুই অর্থনীতিবিদ এসিমগলু এবং রবিনসন। তাদের নজর এড়ায়নি দক্ষিণ এশিয়ার দরিদ্র পীড়িত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলো।
১৯৭২ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কেনেথ জে এরো লিখেছেন, এসিমগলুু এবং রবিনসন এই বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন যে, কেন একইরকম দেখতে রাষ্ট্রগুলো তাদের অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক উন্নয়নে এতটা বেশি মতপার্থক্য দেখিয়ে থাকে। কোনো সমাজের উন্মুক্ততা এবং বিশেষ করে সৃজনশীল ধ্বংসযজ্ঞকে স্বাগত জানাতে উন্মুক্ত থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে এটা থাকে সেখানেই দেখা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সেখানে আইনের শাসন চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকারক হিসেবে প্রতিয়মান হয়। যেখানে দুয়ার বন্ধ থাকে, সেখানে আইনের শাসন বাসা বাঁধে না। উন্নয়ন কিছু সময় একটা চাকচিক্য এনে দিতে পারে। কিন্তু তা টিকে থাকার গ্যারান্টি থাকে না। দুই লেখক ঐতিহাসিক পরম্পরার আলোকে এই সত্যের চেহারা উন্মোচন করেছেন। সব শুনে আপনাদের চোখ কপালে উঠবে। ভাবতে বসবেন, তাহলে আমরা যে একদিনের গণতন্ত্র উৎসব করি, তার কী মানে। এই চর্চাও তো নানা টানাপোড়েনের মধ্যে থাকে। তাহলে একজীবনে সুখের মুখ দেখার ভরসা কী?
১৯৯২ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী গেরি এস বেকার লিখেছেন, লেখকদ্বয় দেখিয়েছেন, যখন দেশসমূহ তাদের সঠিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ার আগ্রহ দেখায়, তখন সেসব দেশে দেখা যায়, তারা একটি উন্মুক্ত বহুত্ববাদী রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাদের সেই রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক উচ্চপদে আসীনের একটা প্রতিযোগিতা থাকে। থাকে একটি ব্যাপকভিত্তিক নির্বাচকম-লী বা ভোটার। তারা নবীন রাজনৈতিক নেতাদের গ্রহণে কোনো সংকোচ দেখায় না। বরং নতুন প্রজন্মকে স্বাগত জানাতে বরণ ডালা নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুণে। গুম করে না।
২০১০ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী পিটার ডায়মন্ড লিখেছেন, একটা দেশের কখনো সমৃদ্ধি আসতে পারে না। কিন্তু যদি টেকসই সমৃদ্ধি অর্জন করা লক্ষ্য হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত দুটো শর্ত পূরণ করা অপরিহার্য। প্রথমত, একটি অংশগ্রহণমূলক বা অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, যারা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেবে।
দি এসেন্ট অব মানি বইয়ের লেখক নেইল ফার্গুসন লিখেছেন, যারা মনে করেন কোনো জাতির অর্থনীতির ভাগ্য তার ভৌগোলিক অবস্থা কিংবা সংস্কৃতি দ্বারা নির্দিষ্ট হয়ে থাকে, তাদের জন্য খারাপ সংবাদ এনেছেন ড্যারন এসিমগলু এবং জিম রবিনসন। তারা দেখিয়েছেন, মানুষের তৈরি করা প্রতিষ্ঠানগুলোই এসবের জন্য দায়ী। কোনো একটি দেশ দরিদ্র কি ধনী, তা তাদের ভূ-খ-গত অবস্থান কিংবা আমাদের পূর্ব পুরুষদের ধর্ম বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে না। দি এন্ড অব হিস্টরি অ্যান্ড লাস্ট ম্যান অ্যান্ড অরজিনস অব পলিটিক্যাল অর্ডারস বইয়ের লেখক ফ্রান্সিস ফুকুয়ামা লিখেছেন, ‘কেন কিছু দেশ ধনী আর কিছু দরিদ্র। তা ভূগোল, রোগবালাই বা সংস্কৃতি নির্ধারণ করে না। এটা নির্ভর করে সংশি¬ষ্ট দেশগুলোর প্রতিষ্ঠানগুলোর চরিত্র ও তার রাজনীতি।’
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট বৃটেন ও জার্মানির মতো দেশগুলো কেন ধনীই থাকছে। আর কেন সাব সাহারান আফ্রিকা, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে তাদের অবস্থার মধ্যে কেন এত তফাৎ? কেন একদিকের জনগণের বিপুল আয়। আর অন্যদিকের জনগণের নিম্ন আয়? জীবন মান এতটাই নিচু? এ বইটি তার উত্তর খুঁজেছে।
২০১২ সালে বইটি যখন প্রকাশিত হয়, মধ্যপ্রাচ্য তখন আরব বসন্তে কাঁপছে। যার সূচনা ঘটিয়েছিল তথাকথিত জেসমিন বিপ্ল¬ব। এই জেসমিন বিপ্ল¬বের সূচনায় ছিলেন একজন হকার। তার নাম মো. বোয়াজ্জি। সময়টা ২০১০ সালের ১৭ই ডিসেম্বর। তিনি প্রকাশ্যে রাস্তায় নিজেকে বলি দিয়েছিলেন। ২০১১ সালের ১৪ই জানুয়ারির মধ্যে প্রেসিডেন্ট বেন আলী, যিনি ১৯৮৭ সাল থেকে তিউনিসিয়া শাসন করছিলেন, তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। তিউনিসিয়ার অভিজাত শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈপ্ল¬বিক চিন্তা-চেতনা ও জনরোষ শক্তিশালী হচ্ছিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল।
মিশরে হোসনি মোবারক,  যিনি প্রায় ৩০ বছর কঠোরভাবে দেশ চালিয়েছিলেন। ২০১১ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি তিনি উৎখাত হন। বাহরাইন, লিবিয়া, সিরিয়া এবং ইয়েমেনের শাসকদের ভাগ্য অনিশ্চিত, যখন এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি তখন বইটির ভূমিকা লেখা হয়েছিল। ভূমিকায় লেখা হয়েছে, এসব দেশের অসন্তোষের বীজ তাদের দারিদ্র্যে নিহিত। মিশরীয় জনগণের আয়ের পরিমাণ হলো সেই পরিমাণ, যা কি না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের গড় আয়ের মাত্র ১২ শতাংশ। মিশরের ২০ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র্যে জীবন-যাপন করছে। মার্কিন-মিশর আয়ের বৈষম্য আমরা দেখি যতটা বিরাট, ততটা কিন্তু অন্য অঞ্চলের দেশগুলোর আয়ের সঙ্গে যদি তুলনা করা হয়, তখন দেখব আরে এটা তো খুব বেশি কম নয়। এর থেকেও শোচনীয় অবস্থা আছে। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আয়ের সঙ্গে উত্তর কোরিয়া, সিয়েরা লিওন এবং জিম্বাবুয়ের পার্থক্য আসমান জমিনের। এসব দেশের অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা দারিদ্র্যসীমায় বাস করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় মিশর কেন এত বেশি দরিদ্র? কি ধরনের টানাপোড়েন মিশরীয় জনগণকে অধিকতর সম্পদশালী হতে নিরুৎসাহিত করেছে? নীল নদের দেশ মিশরের অতীত এত গৌরবউজ্জ্বল হলেও কেন তাদের কড়াই টগবগিয়ে ফুটছে?
(চলবে) 


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মুগাবের পদত্যাগ, জিম্বাবুয়েজুড়ে উল্লাস

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...

তিন বাহিনীকে আধুনিক করতে সবই করবে সরকার

নিজেদের কার্যালয়ে এজাহার দায়েরের ক্ষমতা চায় দুদক

জাতিসংঘের সম্পৃক্ততায় আপত্তি মিয়ানমারের

চলতি সপ্তাহেই সমঝোতার আশা সুচির

বিচারক রেফারি মাত্র

বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গা নেতা নিখোঁজ

অভিশংসনের মুখে মুগাবে

মাঠ গোছাতে ব্যস্ত প্রার্থীরা

নিজাম হাজারীর লোকজন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করে

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নামে লুটপাট চলছে

দুদকের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মেয়র সাক্কু

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন টিটু রায়

আনসারুল্লাহ’র দুই জঙ্গি কলকাতায় গ্রেপ্তার

‘আওয়ামী লীগ ৪০টির বেশি আসন পাবে না’