কি করে বাদ পড়েন মুমিনুল!

শেষের পাতা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ২০ আগস্ট ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৫১
মুমিনুল হক সৌরভের ২২ টেস্টের ক্যারিয়ার, যার ১১ ম্যাচে টানা ফিফটির রেকর্ড।  ২০১৩ সালে টেস্ট দলে অভিষেকের পর থেকে ৪৬.৮৮ গড়ে করেছেন ১৬৮৮ রান। একটা সময় মুমিনুলের ব্যাটিং গড় তাকে স্যার ডন ব্রাডম্যানের পাশাপাশি বসিয়ে দিয়েছিল। সেই মুমিনুল প্রথমবারের টেস্ট দল থেকে বাদ পড়লেন। কী কারণ তার বাদ পড়া? তার বাদ পড়ার গুঞ্জন ছিল, কিন্তু গতকালের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটি সবার জন্য বিস্ময়কর হয়ে এলো। প্রধান নির্বাচক  মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ও কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে যে ব্যাখ্যা দিলেন তা ক্রিকেট বোদ্ধা থেকে শুরু করে ক্রিকেটপ্রেমীদের মেনে নেয়া বেশ কঠিন। মিনহাজুল আবেদিন বলেন, ‘মুমিনুলের সাম্প্রতিক যে ফর্ম, আমাদের কাছে যে পরিসংখ্যান আছে জানুয়ারি থেকে শ্রীলঙ্কা সিরিজ পর্যন্ত, ছয় ইনিংসে ওর একটি মাত্র ফিফটি।
এ পারফরম্যান্সের জন্যই ওকে রাখা হয়নি। তার পরও আমাদের পরিকল্পনায় আছে, প্রস্তুতির মধ্যেই আছে। যখন-যাকে দরকার, তখন ব্যবহার করা হবে।’ প্রধান নির্বাচকের উল্লেখিত সময় অনুসারে এই সময়ে মুমিনুল খেলেছিলেন মাত্র ৩ টেস্ট। যার সবকটিই দেশের বাইরে। তাহলে মাত্র ৩ টেস্টের পারফরম্যান্স বিবেচনাতেই বাদ দেয়া হলো তাকে!
সংবাদ সম্মেলনে একের পর এক প্রশ্নবাণে বিব্রত হতে হয়েছেন প্রধান নির্বাচক। তবে ইনিয়ে বিনিয়ে তিনি দোষটা চাপিয়েছেন টিম ম্যানেজম্যান্টের ঘাড়েও। এমনকি একটা সময় কিছুটা রেগেও যান তিনি। কারণ টিম ম্যানেজম্যান্টের অন্যতম অভিভাবক প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেও। আর তার সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘টিম ম্যানেজম্যান্টেরও একটা পরিকল্পনা আছে নানা খেলোয়াড় নিয়ে। টিম ম্যানেজম্যান্টের সঙ্গে আলোচনা করেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের প্রধান কোচও নির্বাচক প্যানেলের অন্তর্ভুক্ত। আপনারা এ নিয়ে যদি এভাবে জিজ্ঞেস করেন, তাহলে কিন্তু উত্তর দিতে পারবো না। কারণ অনেক কিছু আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একজনকে নিয়ে এভাবে জিজ্ঞেস করতে পারবেন না। আমাদের প্রধান কোচ কিন্তু নির্বাচক প্যানেলের অন্তর্ভুক্ত। টিম ম্যানেজমেন্ট চাইলেই পারবে না। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ প্রধান কোচকেও দেখা গেল একই সুরে কথা বলতে। তার কণ্ঠে আরো কঠোরতা। তিনি বলেন, ‘এসব প্রশ্ন তুলে আপনারা ক্রিকেটারদের কাজটাই কঠিন করে তুলছেন। কোনো ক্রিকেটারের প্রতি আমাদের কোনো অনুরাগ নেই। আমরা সেরা ক্রিকেটারদেরই দলে নেয়ার চেষ্টা করি এবং তাদের সেরাটা বের করে আনার চেষ্টা করি। বাংলাদেশ মানেই কেবল মুমিনুল নয়। এটা ১১ জন ক্রিকেটারের দল, যারা ম্যাচ জয়ে চেষ্টা করছে। আপনারা একজন-দুজনকে নিয়ে বেশি চিন্তিত। আমরা কোনো ক্রিকেটারকে আলাদা করছি না। সবাইকে সমানভাবে বিবেচনা করি। সবাইকে সমান সুযোগ দিচ্ছি।’
মুমিনুলের বাদ পড়ার কারণ কি শুধুই পারফরম্যান্স? নাকি প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে তার পছন্দের ক্রিকেটার সৌম্য সরকারকে জায়গা করে দিতেই বাদ দিলেন মুমিনুলকে? প্রধান নির্বাচক বারবারই বললেন সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই কারণ। কিন্তু সেই সঙ্গে স্বীকার করে নিলেন মুমিনুলকে বাদ দেয়া ছিল নির্বাচকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জেরও। তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জিং অবশ্যই। আমাদের কাছে যদি ১৮টি ভালো খেলোয়াড় থাকে, অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং থাকে আমরা কাকে নিবো কাকে নিবো না। এটা দলের জন্য ভালো দিক যে একটি জায়গায় দুজন-তিনজন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এমন খেলোয়াড় আছে যাদেরকে আপনি নিতে বাধ্য। শেষ পর্যন্ত বেছে নিতে হবে ১৪ জন। আমাদের কাছে ১৮ জন ভালো ক্রিকেটার আছে, প্রথম টেস্টের জন্য ১৪ জন বেছে নিয়েছি। একজনকে বাদ দিচ্ছি তার মানে এই নয় যে আমরা তাকে চোখের আড়াল করে দিচ্ছি। যাকে যখন টিমের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে দরকার হবে, অবশ্যই তাকে নেয়া হবে।’
১৯৯৯-এ দেশের প্রথম বিশ্বকাপের দলেই ছিলেন না মিনহাজুল অবেদীন নান্নু। সেই সময় সংবাদ কর্মীদের লিখনির চাপে তাকে দলে জায়গা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন নির্বাচকরা। মিনহাজুল আবেদীন এখন জাতীয় দলের নির্বাচক। সেই হিসেবে মুমিনুলের খারাপ সময়ে তার পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল বলেই মনে করেন ক্রিকেট বোদ্ধারা। আগেও নির্বাচকরা খারাপ সময়ে ক্রিকেটারদের পাশে থেকেছেন। তাহলে মুমিনুলের বেলায় কেন হলো না?  নান্নু বলেন, ‘এভাবে আমাকে বললে সেটা ঠিক হবে না। আমাদের প্রধান কোচ এখানে আছেন, উনাকেও ব্যাপারটি জিজ্ঞেস করতে পারেন। মুমিনুলের প্রসঙ্গে আপনারা ওর পরিসংখ্যানের দিকে যাচ্ছেন না। গত এক বছরে ওর গড় ২৮-এ নেমে এসেছে। ও যেভাবে ওর ক্যারিয়ার শুরু করেছিল, সেই মাত্রায় কিন্তু নেই। মুমিনুলকে কিন্তু মোরালি আমরা সব সময় সাপোর্ট করেছি। আমি, হাবিবুল বাশার সুমন সব সময় ওকে সাপোর্ট করি, আলোচনা করি। ওর ব্যাটিং দেখি। যথেষ্ট আলোচনা করি। শ্রীলঙ্কা থেকে ওকে ফিরিয়ে আনি ওকে আমরা ইমার্জিং কাপে খেলার সুযোগ করে দেই। বিকল্প হিসেবে সবসময় ওর চিন্তা করেছি। এটা এমন না যে আমরা ওকে চোখের আড়াল করে দিয়েছি। টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা আছে, প্রধান কোচও দল নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত। যেহেতেু ১৪ জনের স্কোয়াড, সেখানে একজন তৃতীয় ওপেনার বা একজন বাড়তি ব্যাটসম্যান নেয়া কষ্টকর হয়ে যায়। সামনে দেখবেন আমরা ওকে নিয়ে কী করি। হয়তো পরের সিরিজেই ওকে দেখতে পারেন।’

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মা ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করলো যুবক

দেখা হলো কথা হলো

দল থেকে বহিষ্কার মুগাবে

‘রোহিঙ্গাদের নির্যাতন যুদ্ধাপরাধের শামিল’

আন্ডা-বাচ্চা সব দেশে, বিদেশে কেন টাকা পাচার করবো

জেনেভায় বাংলাদেশের পক্ষে থাকবে জাপান

প্রেমিকের সঙ্গে পালাতে গিয়ে কিশোরী ধর্ষিত

আসামি ‘আতঙ্কে’ সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতারা

ত্রাণসামগ্রী বিক্রি করছে রোহিঙ্গারা

ভারতের সঙ্গে সম্প্রীতি নষ্ট করতেই রংপুরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা

সময় হলে বাধ্য হবে সরকার

কানাডার উন্নয়নমন্ত্রী আসছেন মঙ্গলবার

ব্যক্তির নামে সেনানিবাসের নামকরণ মঙ্গলজনক হবে না: মওদুদ

কায়রোয় আরব নেতাদের জরুরি বৈঠক

পুলিশি জেরার মুখে নেতানিয়াহু

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তার প্রস্তাব জাপানের