ডুবে গেছে আশ্রয় কেন্দ্র

বাংলারজমিন

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি | ১৯ আগস্ট ২০১৭, শনিবার
বন্যা যেন এই অঞ্চলের আর একটি দুর্ভোগ আর পিছু ছারে না খড়া লেগে আছে ভাঙন। শুধু অত্যাচার আর অত্যাচার। সুখ মিলবে কোথায় পথ খুঁজতে খুঁজতে হয়রান। এই অত্যাচার আর হয়রানের শিকার হয়েই পথ চলা যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে চরাঞ্চলসহ চিলমারীবাসীর। সেই কষ্ট আর দুঃখের কিছুটা লাঘব করতে হাজির হয় সরকার। হাতে নেয়া হয় আশ্রয়ণ প্রকল্প। আর চিলমারীতেও গড়ে ওঠে বেশ কিছু আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘর ও উঁচু স্থান তৈরি। এমনি একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প তৈরি করা হয় দুটি ইউনিয়নকে ঘিরে। রানীগঞ্জ ও নয়ারহাট ইউনিয়নের সীমানায় গড়ে তোলা হয় দক্ষিণ ওয়ারী আশ্রয়ণ প্রকল্প। প্রকল্পটি জনসাধারণের মাঝে বুঝে দেয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে দেখা দেয় ধস। ধস অবস্থায় তড়িঘড়ি করে ৬০টি পরিবারের মাঝে প্রকল্পের ঘর বুঝে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু এই প্রকল্পটি তৈরিতে মানা হয়নি সরকারি সকল নিয়ম কানুন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এই কারণেই সামান্য বন্যার পানিতে ডুবে গেছে আশ্রয়ণ প্রকল্পটি, শুধু তাই নয় মাঠের বিভিন্ন স্থানে ধসসহ দেখা দিয়েছে গর্ত। এ ছাড়াও যেকোনো মুহূর্তে ধসে যেতে পারে আবাসন আশ্রয়ণের ঘরগুলো। এদিকে আশ্রিত ৬০টি পরিবারসহ বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় আশপাশের প্রায় শতাধিক পরিবার আশ্রয় নেয় আশ্রয়ণের মাঠে। কিন্তু সেখানেও ঠাঁই নিতে না নিতেই বন্যার পানিতে ডুবে যায় মাঠটি। দিশাহারা হয়ে পড়ে আশ্রয় নেয়া মানুষজন। আশ্রয় নেয়া বানভাসিরা অভিযোগ করে বলেন এই মাঠ ও ঘর তৈরিতে ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়েছে মানা হয়নি সরকারি নিয়ম কানুন আর হামরা তো সাধারণ মানুষ কাকে কমু ভয় নাগে। এ সময় আশ্রয় নেয়া লোকজন আরো বলেন, হামরা কতদিন থাকি কষ্ট করে আছি কেউ কিছুই দিলে না। আইসে আর দেখি যায়। অসুখ হইলেও দেখার কেউ নাই। হামার আর কি অবস্থা খাবারও নাই ঔষধ দেবার লোকও নাই। কষ্ট হইলেও হামার সুখ হইলেও হামার তোমরা আর লেকি কি করবেন ফটোক তুলিও কি করবেন। তবে এক প্রশ্নের জবাবে এলাকার মাহফুজার, সামছুল হক, সুজ্জামালসহ অনেকে বলেন সরকার তো হামার ভালো চায় কিন্তু যামরা দায়িত্বে থাকে তামরা কি হামার ভালো চায়। আর চাইলে কি হামার গুলেক কষ্ট করতে হয়। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাঠটি পানির নিচে স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মির্জা মুরাদ হাসান বেগ বলেন, আমি সরেজমিন উক্ত প্রকল্প এলাকায় গিয়েছিলাম তাদের মাঝে অতিশিগগিরই সাহায্য পৌঁছানো হবে। এ ছাড়াও পানি কমতে শুরু করেছে দু’একদিনের মধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাঠটিও জেগে যাবে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন