জেএসডি’র আলোচনায় বক্তারা

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে জনমতের প্রতিফলন হয়েছে

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৮ আগস্ট ২০১৭, শুক্রবার
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ও রায়ের পর্যবেক্ষণে দেশের ১৬ কোটি মানুষের মনের কথা উঠে এসেছে। এতে জনমতের প্রতিফলন হয়েছে। প্রকৃত সত্যকে রায়ে তুলে এনেছেন প্রধান বিচারপ্রতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ৭ বিচারপতি। যখন রাষ্ট্রীয় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে তখন বিচার বিভাগের এমন রায় দেশের জন্য, মানুষের জন্য আশার আলো। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় : অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক ও বাংলাদশের রাজনীতি’ বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
এতে অংশ নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, বিচারপতিরা রায়ের পর্যবেক্ষণে মানুষের মনের কথাগুলো শিল্পীর মতো নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন। সংবিধান সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট কোনো কথা বললে তা মেনে নেওয়াটাই সংবিধান সম্মত। কিন্তু এখন দেখি রায়ের বিরুদ্ধে ঝড়ের বেগে নানা বক্তব্য আসছে। রায়ের পর বিচারপতিদের প্রভাবিত করার চেষ্টাও নৈতিক নয়। গত কয়েকদিন ধরে যা হচ্ছে, তা দুশ্চিন্তার বিষয়। শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ যেভাবে বিচার বিভাগের সঙ্গে লড়ছে, তাতে আমার সংশয় হচ্ছে না জানি আবার কোনো অবৈধ সরকার ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে কিনা।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আজ যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন, তাহলে বলতেন না যে, আমি একা দেশ স্বাধীন করেছি। বরং বলতেন, তোরা সবাই মিলে দেশ স্বাধীন করেছিস। ভয় পাসনি। অথচ সবাই মিলে দেশ স্বাধীন করার এই সত্যটাকে মানা হচ্ছে না। কেউ কি কোথাও দেখেছেন রায়ের পর বিচারপতিদের সঙ্গে দেখা করতে? এখন তাও হচ্ছে। ৭ বিবেকবান বিচারপতি তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আরো কিছু করতে হবে। সুশাসন না দিলে, ভালো রায় দিয়ে কী হবে বলেও প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের পরামর্শ ছাড়া সরকার চলতে পারছে না। যেভাবে ফোরটোয়েন্টি করা হচ্ছে তাতে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার নেই। সরকার এখন ফণা নামাচ্ছে; মূল রায় নিয়ে কথা নেই। আছে পর্যবেক্ষণ নিয়ে। সংসদ নেতারাও তো নিজের দলের এমপিদের বিশ্বাস করেন না। গত ভোটের সময় দেখেছি কেন্দ্রে কুকুর শুয়ে আছে। তেমন নির্বাচনেই এরা ক্ষমতায় আসে। সেই সরকার নিম্ন আদালতের ওপর এখন নির্যাতন চালাচ্ছে। আমরা যারা সম্প্রতি জেল খেটেছি তারা জানি। কোনো আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে না চাইলে দেয়া হচ্ছে আরো ১০ দিনের রিমান্ড। জামিন যোগ্য ধারায় জামিন দেয়া হচ্ছে না।
ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেয়া রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন. রায়ের সঙ্গে দ্বিমত করার তেমন সুযোগ নেই। এদেশে গণতন্ত্র নেই, আছে ছদ্ম গণতন্ত্র। এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে কী কারো কোনো দ্বিমত আছে? এখন বিচারপতিদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে ভাবছে অনেকে। এত ম্যাজিক আর কোনো সরকার দেখায়নি। সাত বিচারপ্রতি সর্বসম্মতিক্রমে যে রায় দিয়েছেন সে রায়ের মতো নির্জলা সত্য কথা আর হতে পারে না। কোন দেশ একজন মাত্র মানুষকে দিয়ে স্বাধীন হয় না। সরকারি দলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা কী নিয়ে তর্ক করেন। তাহলে জেনারেল ওসমানী, বঙ্গবীর কাদের ছিদ্দিকীসহ স্বাধীনতায় এতগুলো লোকের কোনো ভূমিকই ছিল না। তাহলে আপনারা স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিশ লাখ মানুষের মারা যাওয়ার কথা বলেন কেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব। তিনি বলেন, রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে দেশে মানুষ এখন স্বপ্ন দেখতে ভয় পায়। এখন শিশুকে ঘুম পাড়ানো হচ্ছে ‘রাবিশ’ বলে। এক মগের মুল্লুকের অবস্থা বিরাজ করছে। বিচারকরা বিচারের আসনে থাকবেন বলে তাদের পক্ষে কি কেউ কোনো কথা বলবেন না? প্রধান বিচারপতির জন্ম নিয়ে পর্যন্ত কথা তোলা হয়েছে। এখন দেশে কথা বলার স্বাধীনতা নেই। কোনো বিপ্লব একক ব্যক্তির দ্বারা হয় না। কোনো দেশ একক ব্যক্তির চেষ্টায় স্বাধীন হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব আমরা সবাই মানি। তাই বলে অন্যদের অবদানটুকু অস্বীকার করা হবে তা কেমন কথা।
গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন। প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সংসদের অনেক এমপি ও তাদের নিকটজনেরা হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামি। বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হলে তারা বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে নিজের মতো মামলায় রায় নেয়ার জন্য। গোলটেবিল বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, জেএসডির কেন্দ্রীয় নেতা এমএ গোফরান, আতাউল করিম ফারুক, মো. সিরাজ মিয়া, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, কামাল উদ্দীন পাটোয়ারী, এসএম আনছার উদ্দিনন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, মোশারফ হোসেন প্রমুখ।  
 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন