সীমানা পুনর্বিন্যাসের দাবিতে ইসিতে শতাধিক আবেদন

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ আগস্ট ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৮
সংসদীয় আসনের সীমানা বিন্যাসের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন জমা পড়তে শুরু করেছে। সংসদীয় ৩০০ আসনের বিপরীতে প্রতিদিনই কোনো না কোনো আসন থেকে দু’-একটি করে আবেদন আসছে। এমনকি একটি সংসদীয় আসন থেকে একাধিক আবেদন  জমা পড়তে দেখা গেছে। গতকাল পর্যন্ত প্রায় শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে। তবে এসব আবেদনে অতীতে সীমানা পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারীরা। সীমানা বিন্যাসের চূড়ান্ত সময় ঘনিয়ে এলে এই আবেদনের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির পক্ষ থেকে পৃথকভাবে সীমানা পুনর্বিন্যাসের আবেদন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে নিবন্ধিত ৪০ রাজনৈতিক দলের মধ্যে অনেক দলের নেতারা আবেদন করেছেন। যেসব আসনের বিষয়ে আবেদন পড়েছে সেগুলোর মধ্যে একটি বরিশাল-৩ (হিজলা-মুলাদি)। মো. শরীয়তউল্লাহ নামে একজন রাজনৈতিক নেতা এই আসনটি পুনর্গঠন চান। পিরোজপুর-৩ আসনটি পুনর্গঠন চেয়ে আবেদন করেছেন জাকির খান নামে এক ব্যক্তি। পিরোজপুর-১ সদর (নাজিরপুর-নেছারাবাদ) এবং পিরোজপুর-২ আসনটিকে এক করে ২০০৮ সালে পিরোজপুর-৩ আসনটি করা হয়। এখন পিরোজপুর-৩ এই আসনটি পুনর্গঠন করে পিরোজপুর-১ ও ২ দুটি স্বতন্ত্র আসন চান স্থানীয়রা। কুমিল্লা সদর দক্ষিণের চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসনটি পুরানো অর্থাৎ ২০০৮ সালের আগের সীমানায় ফিরিয়ে নিতে কমিশনের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন। আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম রফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৩ আসনটি পূর্বের অবস্থায় দেখতে আবেদন জানায়। বরিশাল-২, ফেনী-৩, কুমিল্লা-১ ও ২, বরিশাল-৪, বরিশাল-৩, ঢাকা-২, নেত্রকোনা বারহাট্টা, ঢাকা-১ এবং চাঁদপুর মতলব। তবে, বরিশাল, নেত্রকোনা ও কুমিল্লা থেকেই বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। বরিশালের হিজলা-মুলাদি আসন থেকে প্রায় একডজন অভিযোগ জমা পড়েছে। একই ধরণের অভিযোগ জমা পড়েছে কুমিল্লা-১ আসন থেকে। বেশির ভাগ আবেদনে ২০০৮ সালে ১/১১ ড. শামসুল হুদা কমিশনের ঘরে বসে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমের (জিআইএস) করা সীমানা বিন্যাসের বিরোধিতা করেছে। তাদের আবেদনের করা সার-সংক্ষেপ হচ্ছে, ড. হুদা কমিশন অযৌক্তিকভাবে স্থানীয় সাধারণ জনগণ ও ভোটারের সুবিধা-অসুবিধা এবং আপত্তি আমলে না নিয়েই সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ছত্রছায়াই তারা এই কাজটি সম্পন্ন করেন। আবেদনে আগের সীমানায় ফিরে যেতে কমিশনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন আবেদনকারীরা।
এদিকে, সীমানা বিন্যাস নিয়ে অভিযোগ নতুন কোনো ঘটনা না হলেও অভিযোগগুলো লিপিবদ্ধ এবং পর্যালোচনা ছাড়াই তামাদি হওয়ার নজির রয়েছে। বিদায়ী কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশনের সময়ও অনেক আসন থেকে অভিযোগ জমা পড়েছিল। কিন্তু কোনোটির সুরাহা না করেই একতরফা ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন সম্পন্ন করে ওই কমিশন। কমিশনটির আক্ষেপ ছিল, দেশের প্রধান দু’দল আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে একটি দল নির্বাচনমুখী না হওয়ার কারণে সীমানা বিন্যাসের মতো স্পর্শকাতর ও জটিল কাজে তারা হাত দেননি। তাদের যুক্তি ছিল, বিএনপি নির্বাচনে আসার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করলে তারা অবশ্যই সীমানা বিন্যাসের উদ্যোগ গ্রহণ করতেন। আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সীমানা পুনর্বিন্যাসের দাবিতে অভিযোগ নয়, অনেকে দাবি জানাচ্ছেন। অনেকে পুরানো সীমানায় ফিরে যেতে চাইছেন। তিনি বলেন, যেটি ঘটে যায় সেখানে আর ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই; সীমানার বিষয়টি-ও একই রকমের। এই নির্বাচন কমিশনার আরো বলেন, সীমানা বিন্যাসের জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগ আসছে কিন্তু সেগুলো এখনই কমিশনের আমলে নেয়ার কথা নয়। কারণ খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর তা প্রকাশ করলে তখন অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ থাকে। তবে, এখনই করা অভিযোগগুলোকে তামাদি বলছি না; নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছি; পর্যালোচনা করছি। তিনি আরো বলেন, সীমানা বিন্যাস করার প্রয়োজন পড়বে আইনটি সংশোধন হয়ে সংসদে পাস হওয়ার পর। দেখা গেলো, কমিশনের পাঠানো আইনটি সরকার পাস করলো না তখন সীমানা বিন্যাস হবে প্রতীক হিসেবে অর্থাৎ গ্রহণযোগ্য এবং প্রয়োজনের তাগিদে তা-ও স্বল্প পরিসরে। ইসির তথ্যমতে, সংসদীয় ৩০০ আসন নির্ধারণ করার পর ব্যাপক পরিবর্তন করা হয় ২০০৮ সালে দায়িত্ব পালন করা এক-এগারো পুনর্গঠিত ড. শামসুল হুদার কমিশন। সারাদেশের পার্বত্য ৩টি জেলা বাদে ২৯৭ আসনেই পরিবর্তন নিয়ে আসে। এর মধ্যে ১৩৩টিতে পরিবর্তন আনা হয় বড় পরিসরে। এই ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে ঢাকায় আসন বাড়ে ৮টি, কমে জেলাতে আসন সংখ্যা। সাতক্ষীরা, পিরোজপুর, বরগুনা, বরিশাল ও ফরিদপুরে একটি করে আসন কমে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৮ সালে সীমানাতে আমূল পরিবর্তনে প্রভাব পড়ে ওই নির্বাচনে এবং সীমিত আসন সংখ্যা নিয়ে বিরোধী দলে থাকার কারণে সংসদীয় গণতন্ত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। মাঝে কাজী রকিবউদ্দীন কমিশন ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন করে গেলেও বিএনপি ওই নির্বাচন বর্জন করলেও জাতীয় পার্টির আসন আগের মতই ২৫-৩০টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে দশম জাতীয় সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকার কারণে চলমান সংসদকে অনেকটা অকার্যকরই বলা চলে। এবার কেএম নূরুল হুদা কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপে সীমানা বণ্টন বিষয়ে নানা পদক্ষেপ রাখায় ক্ষতিগ্রস্ত সংসদীয় আসনের রাজনৈতিক নেতারা নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে শতাধিক আবেদন অভিযোগ আকারে জমা পড়েছে ইসিতে। এখন সেগুলো লিপিবদ্ধ করা চলছে। উল্লেখ্য, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপে সীমানা বিন্যাসের জন্য চলতি বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ রাখা আছে। সীমানা বিন্যাসের কাজটি জিআইএস পদ্ধতি অনুসরণ এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের আলোকে সম্পন্ন করার তাগিদ রয়েছে। অভিযোগগুলো নভেম্বর ও ডিসেম্বরে প্রথম সপ্তাহের মধ্যে অঞ্চলভিত্তিক শুনানি এবং ডিসেম্বরেই ৩০০ আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হবে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৮শে জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০১৮ সালের ৩০শে অক্টোবরের পর শুরু হবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় গণনা। গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেয়া কেএম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন কমিশন এ নির্বাচনের আয়োজন করবে।
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

মসজিদে গুলি ছোড়ার পর পাল্টে গেল এক মার্কিনীর জীবন

দৃশ্যপট একই

আয় বৈষম্য বাড়ায় চাপে মধ্যবিত্ত

নকলা উপজেলা চেয়ারম্যানের লাশ উদ্ধার

রিভিউর প্রস্তুতি

বাংলাদেশির বীরত্বে ধর্ষকদের হাত থেকে রক্ষা পেলো ইতালীয় তরুণী

ঢাবিতে ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁস?

সিলেট টার্মিনালে গুলিবর্ষণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি

রোহিঙ্গা স্রোত থামছে না

বড় দুই দলেই প্রার্থীর ছড়াছড়ি

সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবেছে চট্টগ্রাম

টানা বৃষ্টিতে নগরজুড়ে দুর্ভোগ

নিম্নমানের কাগজে ছাপা হচ্ছে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই

দিনে গড়ে দেড় হাজার মামলা

‘বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে’

পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রে রোহিঙ্গাদের উপর আক্রমণ: মতিয়া চৌধুরী