রায় পরিবর্তনে প্রধান বিচারপতির উপর চাপ সৃষ্টি করছে সরকার: ফখরুল

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ আগস্ট ২০১৭, রবিবার, ৭:৩৭
সুপ্রিম কোর্টের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তনে সরকার প্রধান বিচারপতির ওপরে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আপনারা (সরকার) তো এখন প্রধান বিচারপতির ওপরে চাপ সৃষ্টি করছেন, জোর করে তাকে দিয়ে এখন রায় পরিবর্তন করানোর জন্য আপনারা প্রকাশ্যে বলছেন। তবে আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাইÑ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ কী করবেন আমরা জানি না, প্রধান বিচারপতি কী করবেন আমরা জানি না। বাংলাদেশের জনগন কখনও আপনাদের এই অন্যায়কে মেনে নেবে না। বাংলাদেশের জনগন ঐক্যবদ্ধ হয়ে আপনাদের সকল দুঃশাসনকে পরাজিত করে জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায়  নয়াপল্টনে ছাত্রদল আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের উদ্দেশ্যে মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা এখনও বলিÑ এভাবে কথা-বার্তা না বলে, গণতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট স্তম্ভগুলোকে ধ্বংস না করে, বিচার বিভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে সোজা রাস্তায় আসুন। সোজা পথে ফিরে আসুন, সিদা পথে চলুন। নির্বাচনের জন্য একটা সহায়ক সরকারের মাধ্যমে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় আপনাদের(আওয়ামী লীগ) সাধারণ সম্পাদকই বলেছেন পালাবার পথ খুঁজে পাবেন না। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে আওয়ামী লীগের নেতারা, সরকারের মন্ত্রীরা প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন। অপরাধ কী? সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ একটি যুগান্তকারী রায় দিয়েছে, একটি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। এখন আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীরা যে ভাষায় কথা বলছেন, এটা কোনভাবে গণতন্ত্রের ভাষা হতে পারে না। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার বাসভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বৈঠকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা খুব উদ্বিগ্ন হয়ে গেছি,  শঙ্কিত হয়ে গেছি। পত্রিকার খবর এসেছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শনিবার রাতে প্রধান বিচারপতির বাসায় গেছেন। আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং করে তারপর তিনি প্রধান বিচারপতির বাসভবনে গেছেন। আমি আরও বিস্মিত হলাম, সেখানে তিনি নৈশভোজ করেছেন। মির্জা আলমগীর বলেন, শনিবার একজন মন্ত্রী প্রধান বিচারপতিকে তুই-তোকারি করেছেন, অশালীন ভাষায় কথা বলেছেন। এমন কথা বলেছেন যে হাত এতো লম্বা হয়ে গেছে, হাত কেটে দেয়া হবে। এই যে সন্ত্রাসের ভাষা, এই যে সহিংসতার ভাষা, এই যে অসংসদীয় ভাষা- এটা একমাত্র আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মুখেই শোভা পায়। মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা দুঃখিত হই, লজ্জিত হই, শঙ্কিত হই যে, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবার জন্য আবার কী নতুন কী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে? একটা কথা আমাদের মনে রাখতে হবে এই অপশক্তিকে যদি আমরা পরাজিত করতে না পারি, এই দুঃশাসনকে সরাতে না পারি তাহলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে না। দেশের মানুষ ভোটের অধিকারও ফিরে পাবে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের প্রয়োজন-জনগনের প্রয়োজন-সময়ের প্রয়োজন আজকে স্বৈরাচার, দুঃশাসন ও পাশবিক নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, তারা আমাদের ভাইদেরকে এক এক করে মেরেছে। ভুলে গেলে চলবে না, তারা আমাদের সহকর্মীদের গুলি করে দিয়েছে। আপনাদের মনের মধ্যে সবসময় আগুন থাকা উচিৎ। কারণ আপনাদের সহকর্মীদের এভাবে হত্যা করা হয়েছে, গুম করে ফেলা হয়েছে। সেই আগুনকে প্রশমিত করতে দিলে চলবে না। এই অন্যায়কে পরাজিত করতে হলে জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহসানের পরিচালনায় দোয়া মাহফিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এবিএম মোশাররফ হোসেন, মহানগর বিএনপি নেতা মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, হাবিবুর রশীদ হাবিব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর ও ওলামা দলের শাহ নেসারুল হকসহ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতাকর্মীরা অংশ নেন।


 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন