চট্টগ্রামের অভিশাপ কাপ্তাই বাঁধ

অনলাইন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | ১৩ আগস্ট ২০১৭, রবিবার, ৪:৫০
বর্ষা আসলেই চট্টগ্রামের মানুষের মনে উঁকি দেয় কাপ্তাই বাঁধ আতঙ্ক। কখন ছাড়া হচ্ছে বাঁধের পানি এ আতঙ্ক জেঁকে বসেছে চট্টগ্রামের মানুষের মনে। কারণ এ বাঁধের পানি ছাড়লেই ডুবে যায় চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির বিস্তীর্ণ জনপদ। বিশেষ করে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, বোয়ালখালী. হাটহাজারি, ফটিকছড়ি, পটিয়া, রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই ও রাজস্থলী উপজেলার সড়ক, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও পুকুর ডুবে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়া পানি উঠে আসে চট্টগ্রাম মহানগরীতেও। ফলে এ বাঁধ চট্টগ্রামের মানুষের জন্য এখন অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে টানা বৃষ্টিতে ৪ দিনের জলাবদ্ধতার সময় চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছিলেন, অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের সাথে কাপ্তাই বাঁধের পানি ছাড়ায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নেয়। অন্যথায় ১/২ দিনের বেশি জলাবদ্ধতা চট্টগ্রাম নগরীতে কখনো হয়নি।  জানা যায়, ওই সময় কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি স্পেল খুলে দিলে প্রতি সেকেন্ডে ৯৬ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে গড়িয়ে পড়ে। যার ফলে বঙ্গোপাসাগরের জোয়ারের পানি উজানে উঠতে পারেনি। আবার বৃষ্টির পানি নামতে পারেনি নদীতে। ফলে কর্ণফুলী ও হালদা নদীসহ শাখা খালগুলোতে পানি উপচে ডুবে যায় চট্টগ্রাম মহানগর। একইভাবে অমাবস্যার প্রভাবে গত বৃহস্পতিবার থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। তাতে লেকে পানি বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবার দুপুর থেকে বাঁধের ১৬টি স্পেল খুলে দেওয়া হয়। এতে প্রতি সেকেন্ডে ৮০ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলীতে গড়িয়ে পড়ছে। আর শুক্রবার বিকেল থেকে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের সময় আবারও ডুবে যায় চট্টগ্রাম মহানগর। একইভাবে ডুবে যায় চট্টগ্রামের ৮ উপজেলা। চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের শস্য উৎপাদন বিশেষজ্ঞ আমিনুল হক চৌধুরী জানান, কাপ্তাই বাঁধের ছাড়া পানিতে রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, বোয়ালখালীসহ ৯ উপজেলাজুড়ে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে ২৮টি বিলের ৫০-৫৫ হাজার হেক্টর রোপা আমন ও ২০ হাজার হেক্টর জমির তরকারির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, রুলকার্ভ (পানির পরিমাপ) অনুযায়ী কাপ্তাই লেকে এখন ৯৩.৫২ ফুট মীন সী লেভেল (এমএসএল) পানি থাকার কথা। কিন্তু লেকে বর্তমানে পানি রয়েছে ১০৭.৭৮ ফুট এমএসএল পানি। এতে বাঁধ ঝুঁকিতে পড়ায় পানি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। লেকে পানি আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। পানি বাড়লে ¯িপল দিয়ে আরো বেশি পরিমাণে পানি ছাড়া হবে। চউকের নগর পরিকল্পণাবিদ স্থপতি শাহিনুল খান এ প্রসঙ্গে বলেন, এ বাঁধের জলবিদ্যুৎ থেকে বছরে যে পরিমান বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় তার চেয়েও ৪-৫ গুণ বেশি ক্ষতি হচ্ছে। ফলে এ বাঁধ এখন বৃহত্তর চট্টগ্রামের জন্য অভিশাপ। লেকের গভীরতা বাড়ানোসহ এ ব্যাপারে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এ বাঁধ ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে নিয়ে আসবে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন