রাখাইনে আরো সেনা মোতায়েন, আতঙ্ক, উদ্বেগ

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৩ আগস্ট ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:০১
আবারো মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে মিয়ানমার। এর ফলে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ, আসিয়ান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন প্রেস টিভি। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এ রাজ্যের দুটি সেনা সূত্রকে উদ্ধৃত করে রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে মংডু শহরের কাছে পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার করা হয়েছে ৭ জন বৌদ্ধের মৃতদেহ। এরপরই রাখাইনে নতুন করে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সেনাবাহিনীর একটি সূত্র বলেছে, বুথিডাং ও মংডু সহ বেশ কিছু শহরে বৃহস্পতিবার মোতায়েন করা হয়েছে ৫ শতাধিক সেনা সদস্যকে। এ উল্লেখ্য, এসব এলাকা বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছাকাছি। স্থানীয়রা বলছেন, পাহাড়ি এলাকায় রোহিঙ্গা যোদ্ধাদের একটি ক্যাম্পের সন্ধান পাওয়া গেছে। এরপর উদ্ধার করা হয় ৭ জন বৌদ্ধের মৃতদেহ। সরকার এ ঘটনাকে কট্টরপন্থিদের কাজ বলে আখ্যায়িত করেছে। এ জন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। রাখাইন রাজ্যের পুলিশ প্রধান কর্নেল সেইন লউইন বলেছেন, জঙ্গিদের হাতে বেশ কিছু মুসলিম ও বৌদ্ধ নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তাই নিরাপত্তামুলক অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে সরকারের এই নিরাপত্তামুলক অভিযান নিয়ে স্থানীয় রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র আতঙ্ক। কারণ, এর আগে গত ৯ই অক্টোবরে ৯ সীমান্ত রক্ষীকে হত্যার করার পর রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর ভয়াবহ নিষ্পেষণমুলক পদক্ষেপ নেয় সেনাবাহিনী। তারা অবাধে নারীদের ধর্ষণ করে। স্বামীর সামনে স্ত্রীকে, স্ত্রীর সামনে স্বামীকে, পিতামাতার সামনে সন্তানকে হত্যা করে। জ্বালিয়ে দেয় গ্রামের পর গ্রাম। জীবন বাঁচাতে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম পালিয়ে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া এমন রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার। রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর অত্যাচারের কাহিনী সারা বিশ্বে প্রমাণিত আকারে প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা। তবে মিয়ানমার সরকার এমন অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করছে। তারা রাখাইনে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। সাংবাদিক ও ত্রাণকর্মীদের আক্রান্ত এলাকায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। এ অবস্থায় জাতিসংঘ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা বলেছে, রোহিঙ্গাদের ওপর যে চলমান মানবাধিকার লঙ্ঘন চলছে তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। ওদিকে বৃহস্পতিবার নতুন করে রাখাইনে সেনা মোতায়েনের খবরে শুক্রবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। তাতে বলা হয়েছে, এতে বড় ধরনের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। তাই জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর ইয়াংহি লি বলেছেন, মিয়ানমার সরকারকে সার্বিক অবস্থায় নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের শক্তি প্রয়োগ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। ওদিকে শুক্রবার আরো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ান ফর হিউম্যান রাইটস। এর সদস্য ইভা কুসুমা সুন্দারি বলেছেন, রাখাইনে উত্তেজনা বৃদ্ধির চেয়ে তা প্রশমনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সহ সব পক্ষের প্রতি পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো উচিত অং সান সুচির।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ব্রাজিল ফুটবলের প্রধান ৯০ দিন নিষিদ্ধ

ঝিকরগাছায় ছাত্রলীগ কর্মী খুন, সড়ক অবরোধ

উৎসবের আমেজে সারাদেশ

জনগণের দেয়া রায় মেনে নেবে বিএনপি: ফখরুল

কংগ্রেস সভাপতি পদে রাহুল গান্ধীর আনুষ্ঠানিক অভিষেক

দুই নারীর একজন স্বামী, অন্যজন স্ত্রী

আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫

নওগাঁয় যুবককে কুপিয়ে হত্যা

গার্মেন্টে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করছে এইচ অ্যান্ড এম

নাশকতার অভিযোগে ২০ শিবিরকর্মী আটক

বিএনপির বিজয় র‌্যালিতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলা

বিজয় উৎসব পালন করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ মুক্তিযোদ্ধাসহ আহত ৯

আমৃত্যু এক যোদ্ধার কথা

ছাত্রদলের পুষ্পস্তবক ছিঁড়লো ছাত্রলীগ

বঙ্গবন্ধুর গৃহবন্দি পরিবারকে যেভাবে উদ্ধার করেছিলেন কর্নেল তারা

ভারতে তিন তালাক বিরোধী খসড়া আইনে সরকারের অনুমোদন