জিন্নাহর সেই বাড়ি এখন ভারতের কাছে 'শত্রু সম্পত্তি'

বিশ্বজমিন

| ১৩ আগস্ট ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:৩৭
মুম্বাইয়ে জিন্নাহর বাংলো বাড়ি
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে পাকিস্তানে কায়েদ-এ-আজম বলা হলেও সাধারণ পাকিস্তানীরা তাঁকে বাবা-এ-কৌম বলেই সম্মানিত করে থাকেন।
কিন্তু এই জিন্নাহকেই ভারতের বেশীর ভাগ মানুষ ঘৃণা করে। দেশটিতে তাঁর নাম উচ্চারণ করাও হয়ে থাকে কিছুটা অশ্রদ্ধার সঙ্গেই।
কারণ, তাঁকেই দেশভাগের জন্য দায়ী বলে মনে করেন ভারতীয়দের অনেকে।
সেই সময়ের দাঙ্গায় কয়েক লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিলেন, ছিন্নমূল হয়েছিলেন এক কোটিরও বেশী মানুষ।
দেশভাগের সেই ক্ষত এখনও অনেকের মন থেকে মুছে যায়নি।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পরে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ নিজের তৈরি দেশ পাকিস্তানে চলে গেলেন, কিন্তু ভারতে ফেলে গেলেন নিজের একটি অতি প্রিয় জিনিস - মুম্বাইতে তাঁর বাড়ি।
ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে অন্য অনেক বিষয় নিয়ে যেমন বিবাদ রয়েছে, তেমনই বিবাদ রয়েছে জিন্নাহর বাড়ি নিয়েও।
এই বাড়িতে থাকার সময়েই পাকিস্তান তৈরির পরিকল্পনা করেন জিন্নাহ, লড়াইটাও চলেছিল এখান থেকেই।সেজন্যই পাকিস্তান এই বাড়িটিকে তাদের সম্পত্তি বলে মনে করে।
পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের কাছে মুম্বাইয়ে জিন্নাহর বাড়ি একটা তীর্থস্থানের মতো।
তবে ভারতের কাছে মুম্বাই শহরে জিন্নাহর ওই বাড়িটি চোখে বালি পড়ার মতো। এই বাড়িটিকেই দেশভাগের পরিকল্পনার মূল আড্ডা বলে মনে করা হয়।
ভারত এই বাংলো বাড়িটিকে 'শত্রু সম্পত্তি' বলে চিহ্নিত করে রেখেছে।
সরকারের দখলে থাকা বাংলো বাড়িটি এখন পরিত্যক্ত।
মুম্বাইয়ের এক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, যার আবার রিয়েল এস্টেটের ব্যবসাও রয়েছে, তিনি জিন্নাহর বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলারও দাবি তুলেছেন।
তাঁর কথায়, "এটা শত্রু সম্পত্তি। দেশভাগের জন্য দায়ী যে জিন্নাহ, তিনি বানিয়েছিলেন বাড়িটি। দেশভাগের কারণে যে রক্তপাত ঘটেছে, এই বাড়ির দিকে তাকালে সেই সব কথা মনে পড়ে কষ্ট হয়। সেজন্যই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলা উচিত।
সেখানে একটা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়া যেতে পারে।"
জিন্নাহর কিন্তু মুম্বাই শহর - বা যেটি সে সময় বোম্বে নামেই পরিচিত ছিল, তার প্রতি খুব টান ছিল। ইংল্যান্ড থেকে ফিরে সেখানেই বাস করতেন তিনি। আরামে থাকার জন্যই বাংলো বাড়িটি বানিয়েছিলেন।
ইউরোপীয় বাংলোর ধাঁচে তৈরি হয়েছিল 'সাউথ কোর্ট' নামের বাড়িটি।
১৯৩০'র দশকে বাড়িটি বানাতে জিন্নাহর খরচ হয়েছিল প্রায় দু'লক্ষ টাকা।দক্ষিণ মুম্বাইয়ের মালাবার হিলস এলাকার ঐ বাড়িটি থেকে সমুদ্র দেখা যায়।
প্রখ্যাত আর্কিটেক্ট ক্লড বেটলী বাংলোটির ডিজাইন করেছিলেন। ইতালিয়ান মার্বেল বসানো হয়েছিল - সঙ্গে ছিল কাঠের কারুকাজ।
স্বপ্নের বাড়ির মতো করেই বাংলোটি বানিয়েছিলেন জিন্নাহ। মিস্ত্রী আনা হয়েছিল ইতালি থেকে।
সেই সময়ে পেশায় ব্যারিস্টার জিন্নাহ এই বাংলো তৈরির জন্য যতটা যত্ন নিয়েছিলেন, তা থেকেই বোঝা যায় যে তিনি মুম্বাইতেই থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন।


কিন্তু একটা সময়ে আইন পেশার চেয়েও বেশী তিনি রাজনীতিতে সময় দিতে লাগলেন আর মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের দাবি তুললেন। সেই দাবি আদায় করেও ছাড়লেন। আর শেষে নিজের তৈরি দেশেই পাড়ি জমালেন।
জিন্নাহর ধারণা ছিল দেশভাগের পরে ভারত আর পাকিস্তানের সম্পর্ক এতটাই ভাল হয়ে উঠবে যে তিনি ইচ্ছে হলেই মুম্বাইতে এসে নিজের বাড়িতে কিছুদিন কাটিয়ে যেতে পারবেন।
কিন্তু বাস্তবে ঘটল অন্যরকম।
দুই দেশের মধ্যে সীমানা তৈরি হতেই মানুষের মনেও উঁচু প্রাচীর গড়ে উঠল।
নিজের স্বপ্নের বাংলোয় ফিরে আসার স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল জিন্নাহর।পাকিস্তানে চলে যাওয়ার আগে জিন্নাহ চেয়েছিলেন কোনও ইউরোপীয় পরিবারকে নিজের বাংলোটা ভাড়া দিয়ে দেবেন।
জওহারলাল নেহরু তাতে রাজীও ছিলেন।
কিন্তু দলিলপত্র তৈরি করে সইসাবুদের আগেই জিন্নাহর মৃত্যু হয়।
তখন থেকেই ওই সুন্দর বাংলো বাড়িটি ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে গলার কাঁটার মতো বিঁধে রয়েছে।
জিন্নাহর মেয়ে দীনা ওয়াদিয়াও এই বাংলো বাড়ির ওপরে নিজের মালিকানা দাবি করেছেন। কিন্তু বাড়িটি এখনও ভারত সরকারেরই দখলে রয়ে গেছে।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের ঠিক সামনে জিন্নাহর এই বাড়িটি ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে অন্য অনেক অমীমাংসিত বিষয়ের একটা হয়ে রয়ে গেছে।

সুত্রঃ বিবিসি বাংলা

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

অস্ট্রেলিয়া গেলেন প্রধান বিচারপতির স্ত্রী সুষমা সিনহা

মৌলভীবাজারে শোকের মাতম

বিয়ানীবাজারের খালেদের দুঃসহ ইউরোপ যাত্রা

১১ দফা প্রস্তাব নিয়ে ইসিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

‘প্রধান বিচারপতি ফিরে এসেই কাজে যোগ দিতে পারবেন’

খালেদা জিয়া ফিরছেন আজ

ব্লু হোয়েলের ফাঁদে আরো এক কিশোর

তিন ইস্যু গুরুত্ব পাবে সুষমার সফরে

প্রি-পেইডে সুবিধা বেশি আগ্রহ কম

ভারত থেকে ৩৭৮ কোটি টাকার চাল কিনছে সরকার

ছাত্রলীগ কর্মী মিয়াদ খুন নিয়ে উত্তপ্ত সিলেট

ইস্যু হতে পারে সমস্যার পাহাড়

দ্বিতীয়বার সংসার না করায় খুন

যেভাবে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা, ড্রোন থেকে নেয়া ভিডিও

সিলেটে কাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট

ফুটবলকে বিদায় জানালেন কাকা