পঙ্গুত্বকে জয় করে নতুন রথে ফাল্গুনী

বাংলারজমিন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি | ১৩ আগস্ট ২০১৭, রবিবার
জীবন থেমে থাকে না। যদি থাকে অদম্য স্পৃহা ও অগাধ বিশ্বাস তবে যে কোনো প্রতিকূল অবস্থায় নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী প্রতিবন্ধী তরুণী ফাল্গুনী সাহা (২১)। তার দুচোখে স্বপ্ন একজন বিসিএস কর্মকর্তা হওয়ার। তার এ জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার প্রত্যাশায় সে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছে। ফাল্গুনী সাহার বাড়ি পটুয়াখালী জেলাধীন গলাচিপা উপজেলা সদরের বটতলা এলাকায়।
তার বাবার নাম জগদীশ চন্দ্র সাহা। চার ভাই বোনের মধ্যে ফাল্গুনী তৃতীয়। জন্মটা ছিল তার অন্য একজন পরিপূর্ণ শিশুর মতো। জন্মের দুই বছরের মাথায়ই একটি দুর্ঘটনায় তার দুটি হাত পুড়ে যায়। এখান থেকেই তার শিশু জীবনে নেমে আসে কালো মেঘ। এ দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে তার বড় বোন রিন্টু সাহা জানান ২০০২ সনে যখন ফাল্গুনীর বয়স দুই বছর। একদিন বিকালে সে ফাল্গুনীকে নিয়ে পাশের বাড়ির ছাদে কাপড় রোদ দিতে যায়। দুরন্ত শিশুসুলভ আচরণে ফাল্গুনী খেলা করতে থাকে ঐ ছাদে। কিন্তু খেলার একপর্যায়ে ছাদের কার্নিস ঘেঁষে দাঁড়াতে গিয়ে পার্শ্ববর্তী বিদ্যুৎ লাইনের সঙ্গে তার দুটি হাত জড়িয়ে যায়। তারপর বাঁচাও বাঁচাও গগনবিদারি আর্তচিৎকারে তার আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা লাঠী দিয়ে পিটিয়ে বিদ্যুৎ তারে জড়ানো অবস্থা থেকে তাকে উদ্ধার করে। এ সময় তার দুহাতের কব্জি দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়। নিজের  বিশাদময় দিনগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে ফাল্গুনী সাহা বলেন, এমতাবস্থায় তাকে প্রথমে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চারদিন থাকাকালীন ডাক্তারদের চরম অবহেলার কারণে তার  দুটি হাতের ক্ষতগুলো পচন ধরে যায়। পরে তাকে সেখান থেকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে সেখানকার চিকিৎসকরা তার দুহাতের কব্জি কেটে ফেলে। এমন বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে বার বার। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে সে একজন প্রতিবন্ধী হয়ে দেশে ফেরে। শিশু বয়সেই দুটি হাতের কর্মক্ষমতা হারিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। কিন্তু অল্প কিছুদিন পড়েই সে স্বাভাবিক জীবনে নতুন উদ্যমে ফিরে আসে। মনের ক্লেশ পিছনে ফেলে  অন্য শিশুদের সঙ্গে বই খাতা নিয়ে স্কুলে যেতে শুরু করে। এ থেকে আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। শিক্ষা জীবনে এসএসসি ও এইচএসসিতে এ প্লাস পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে পাস করে। বর্তমানে সে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে ফাইনাল ইয়ারে পড়াশোনা করছে। গত ২৪শে জুলাই বাড়ি থেকে ঢাকা যাবার পথে পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ডে কথা মানবজমিনের সঙ্গে। এ সময় সে তার পড়াশোনা ও স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। আলাপকালে তিনি জানান যে, আবার স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে এমন আশা তিনি ছেড়েই দিয়েছিল। কিন্তু ভাগ্য বিধাতা তাকে সহায়তা করায় নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। জীবন চলার পথে স্বাভাবিক কাজ কর্ম করতে তিনি দুই হাতের কব্জি একত্রিত করে লেখা পড়া থেকে শুরু করে সকল কাজ কর্ম করে থাকে। তার বিশ্বাস শত প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে অবশ্যই তিনি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পৌঁছতে পারবে। ভবিষ্যৎ জীবনে লেখা পড়া শেষ করে বৃদ্ধা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে সে একজন বিসিএস কর্মকর্তা হতে চান। এ জন্য তিনি সকলের সাহায্য ও দোয়া কামনা করেছে।


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রাজধানীতে ছাত্রদলের মিছিলে হামলা, আহত ৩

যশোরে জঙ্গি সন্দেহে বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ

সুষমা কেন সহায়ক সরকারের কথা বলতে যাবেন: কাদের

আপস না করায় খালেদার বিরুদ্ধে ৩৯ মামলা: ফখরুল

আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোন কঠিন কাজ করা যায়: জয়

আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

৪ ঘণ্টায় হাজার মণ ইলিশ বিক্রি

সংবিধান বিরোধীদের নিবন্ধন বাতিলের দাবি

প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা

‘রোহিঙ্গা নিধনে পরিকল্পিত নির্যাতন চালিয়েছে মিয়ানমার’

রোহিঙ্গা প্রশ্নে ভারতীয় নীতি

অবস্থান পাল্টালো টিএসসি কর্তৃপক্ষ

রাখাইনে ১৭৭০ কোটি কিয়াতের বিশাল কর্মপরিকল্পনা

কেন উত্তরাধিকার বেছে নেবেন না শি জিনপিং?

বিমানবন্দরে সোহেল তাজের স্যুটকেসের তালা ভেঙে তল্লাশি

নিজেকে পতিতার মতো মনে হচ্ছিল- আদ্রিয়েনে লাভ্যালি