এমপি লিটন হত্যা

মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

বাংলারজমিন

উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি | ১৩ আগস্ট ২০১৭, রবিবার
সাবেক সংসদ সদস্য গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি লিটন হত্যা মামলায় জড়িত কাদের খানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার সাক্ষীরা উপস্থিত না হওয়ায় মামলা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে পুলিশ।
সুন্দরগঞ্জ থানা সূত্র জানায় ২০১৬ সালের ৩০শে ডিসেম্বর বিকালে গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের এমপি লিটনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি সে সময় নিজের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। হত্যাকারীরা তার ঘরে ঢুকে পিস্তল দিয়ে গুলি করে মটরসাইকেলযোগে চলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় এমপি লিটনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রাতে তিনি মারা যান । এ ঘটনায় তার ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তভার দেয়া হয় সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আশরাফুজ্জামানকে।
তিনি দীর্ঘদিন তদন্ত করে মামলার আলামত সংগ্রহের পর খুনিদের সনাক্ত করতে সক্ষম হন। মামলায় নাম না থাকলেও পরবর্তী পর্যায়ে তদন্তে প্রকৃত খুনিদের সনাক্ত করা সম্ভব হয়। নিশ্চিত হয়েই পুলিশ বগুড়া থেকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাপা নেতা ও গাইবান্ধা-১ আসনের সাবেক এমপি কাদের খানকে গ্রেপ্তার করেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তার বাড়ির মাটির নিচ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত পিস্তলটি লিটন হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল বলে নিশ্চিত করা হয়। গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের পর ডা. কাদের খান আদালতে হত্যাকাণ্ডে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর মামলায় দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে পুলিশ কাদের খানকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে চন্দন ভারতে পালিয়ে  গেলেও অপর ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
 গাইবান্ধার পিপি শফিকুল ইসলাম সফিক জানান, সংসদ সদস্য লিটন হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে জুন মাসের ১৮ তারিখে লিটন হত্যা মামলার তদন্তকারী দারোগা আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে গত ১০ই আগস্ট গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আরো ৪ জন সাক্ষী জহুরুল ইসলাম, ফিরোজ কবীর, রবিউল ইসলাম ও জাহেদুল ইসলামের সাক্ষ্য গ্রহণ করার কথা। সে অনুযায়ী অভিযুক্ত কাদের খানকে অস্ত্র মামলায় আদালতে হাজির করা হয়। কিন্তু দিনভর সাক্ষীরা কেউ আদালতে হাজির হননি। সে কারণে সাক্ষ্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেকেই। মামলার বাদী ফাহমিদা বুলবুল কাকলী বলেন, সাক্ষীদের উপর নির্ভর করবে মামলার ভবিষ্যৎ। সে ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা ভালো থাকতে হবে। কারণ অস্ত্রটি উদ্ধারের সময় যারা উপস্থিত ছিলেন তারা সবাই কাদের খানের বাড়ির আশে পাশের মানুষ। তারাই সাক্ষী। তারা অনুপস্থিত হলে মামলার ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে পারে বলে আমরা মনে করছি। সুন্দরগঞ্জের রাজনৈতিক মহলের ধারণা অস্ত্র উদ্ধারের সময় যারা পাশে ছিলেন তাদের সাক্ষ্য দেয়া উচিত। না হলে প্রকৃত ঘটনা আড়াল হয়ে যাবে। পার পেয়ে যাবে খুনি কাদের খান। কাজেই এ ক্ষেত্রে পুলিশ-জনতার সহযোগিতা বিশেষ প্রয়োজন।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

‘বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা’

লেবাননে বৃটিশ কূটনীতিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা

বিমানে দেখা এরশাদ-ফখরুলের

হলফনামার তথ্য গ্রহণযোগ্য নয়: সুজন

ছিনতাইকারীর টানাটানিতে মায়ের কোল থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

গুজরাট ও হিমাচলে বিজেপিই জিততে চলেছে

আরো ৪০ রোহিঙ্গা গ্রাম ভস্মীভূত:  এইচআরডব্লিউ

ভর্তি জালিয়াতি সন্দেহে রাবির দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

৭ ঘণ্টা পর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু

‘এটাও কিন্তু একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়’

সৌদিই ব্যতিক্রম

তাদের কি বিবেক বলে কিছু নেই

ঢাকা উত্তরের উপনির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে

যেভাবে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হয় আকায়েদ

‘উন্নয়ন কথামালায়, মানুষ কষ্টে আছে’

সারা দেশে বিএনপির প্রতিবাদ কর্মসূচি আগামীকাল