ঘৃণার আড়ালে রাখা রূপ

মত-মতান্তর

শামীমুল হক | ১৩ আগস্ট ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:১৮
ওদের কী নামে ডাকব? হায়েনা? পশু? বিষাক্ত কীট? অমানুষ? হ্যাঁ, অমানুষ তো বটেই। তার পরও ওদের একটি নাম দিতে চাই। কিন্তু কোন নামে ডাকলে পারফেক্ট হবে তা খুঁজে পাচ্ছি না। ওদের হিংস্র থাবার চেয়ে বাঘের নখের থাবাও অনেক ভালো। গর্জে ওঠা ক্ষুধার্ত বাঘের খাবার হওয়াও অনেক ভালো। সাপের ছোবলের বিষও সহ্য করা যায়।
কিন্তু ওদের ছোবল ছারখার করে দেয় জীবন। পুড়ে অঙ্গার করে দেয় স্বপ্ন। শুধু তাই নয়, অন্তর জ্বালায় অহর্নিশি পুড়ে দেহ। চোখ থাকতেও অন্ধ হয়ে যায়। রূপ থাকতেও নিজেকে ঘৃণায় আড়ালে রাখতে হয়। কেউ কেউ শরমে দেহত্যাগ করে নিজ থেকে। কেউবা বেঁচে থাকে অর্ধমৃত হয়ে। কারণ, ওদের সতীত্ব জোর করে কেড়ে নিয়েছে ওইসব মানুষ নামের কীটগুলো। সমাজ এমন দূষিত হয়েছে যে ওইসব কীট বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করে। আর সতীত্বহারারা গুমরে কাঁদে অন্ধকার ঘরে। কলেজে ভর্তির নামে এক ছাত্রীর সম্ভ্রম লুটে নেয়া হয় বগুড়ায়। কী অসভ্য সমাজ। সম্ভ্রম লুটে নেয়ার কথা কেন জানাজানি হলো? এ অপরাধে ওই কলেজছাত্রী আর তার মাকে ডেকে এনে চুল কেটে দেয়া হলো। আর সালিশের এ কাজটি করেছেন আরেক নারী। তাকে সহযোগিতা করেছেন আরও দুজন। তারাও নারী। কি না ঘটছে সমাজে? সৎ বাবা তার কন্যাকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছে। আপন খালু তার ভাগ্নিকে তিন বছর ধরে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে। আবার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে পরিচয়ের সূত্র ধরে নিয়ে 
 গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়েছে। লুটে নেয়া হয়েছে সম্ভ্রম। অবাক কাণ্ড বছরের পর বছর ধরে রাজধানীতে বসে কথিত পীর সেজে একের পর এক নারীর সম্ভ্রম লুটে নিয়েছে হাবিব নামের এক ভণ্ড। শুধু তাই নয়, গোপনে ভিডিও ধারণ করে কাউকে কাউকে জিম্মি করে দিনের পর দিন বিছানার সঙ্গী বানিয়েছে। হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। তবে এরই মধ্যে কমপক্ষে ৩০ জন নারী সম্ভ্রম হারিয়েছে। ইজ্জত হারিয়েছে। এখানে প্রশ্ন জাগে- সম্ভ্রম লুটেরাদের ঘরে কি মা-বোন নেই? ওদের কি মনে হয় না- এমন ঘটনার শিকার ওর বোনও হতে পারে, কন্যাও হতে পারে। ওর মতো কোনো হায়েনা হয়তো ওর বোনের দিকে, কিংবা কন্যার দিকে লোলুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। যেকোনো সময় থাবা গিয়ে পড়বে ওর বোনের ওপর কিংবা কন্যার ওপর। ওদের কি এটাও মনে হয় না, এমন একজন নারীর গর্ভেই জন্ম হয়েছিল ওর। ওরা বিবেকবোধ হারিয়ে ফেলেছে। মানব থেকে অমানব হয়ে গেছে। ওদের এই অমানব কর্মে কত নারীর স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়েছে, তার হিসাব কি ওদের কাছে আছে? ধর্ষণে সেঞ্চুরি, হাফ সেঞ্চুরি পার করা উপলক্ষে হয়তো কেউ কেউ ফুর্তি করে। আনন্দে নৃত্য করে। কেউবা কেক কেটে সেঞ্চুরির দিনটি উদযাপন করে। কিন্তু সম্ভ্রম হারানো নারীর গুমরে কান্না যে একদিন ওর জীবনকে বিষিয়ে তুলবে? গায়েবি গজবে নেতিয়ে পড়বে ওর জীবন- এটা কি ভাবছে ওই সম্ভ্রম লুণ্ঠনকারী।      


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধ করেছিল মুক্তিযোদ্ধারা

বিছানায় তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মেসুতের বড়ছেলের মৃতদেহ

গোয়া: যৌন ব্যবসায়ও আধার কার্ড

ট্রাম্প শিবিরের হাজার হাজার ইমেইল মুয়েলারের হাতে

পেট্রলবোমায় দুজন দগ্ধ

যেভাবে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হন আকায়েদ উল্লাহ

ঝন্টুর পেশা রাজনীতি

রিয়াল মাদ্রিদই চ্যাম্পিয়ন

‘জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা অবশ্যই বাতিল করতে হবে’

উড়ে গেল টটেনহ্যমও

ছায়েদুল হকের জানাজা সম্পন্ন

ভারতে 'ছয় মাসের মধ্যে' ধর্ষকদের ফাঁসির দাবি করলেন নারী অধিকারকর্মী

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী শ্রমিক পাচার চক্র, কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে ৬০০ কর্মকর্তা বদলি

জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে নোটিশ জারিতে ইন্টারপোলের অস্বীকৃতি

ব্রাজিল ফুটবলের প্রধান ৯০ দিন নিষিদ্ধ

ঝিকরগাছায় ছাত্রলীগ কর্মী খুন, সড়ক অবরোধ