যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আটক

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে | ১৩ আগস্ট ২০১৭, রবিবার
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত করিমগঞ্জের রাজাকার হাফিজ উদ্দিন (৬৭) কে আটক করেছে র‌্যাব। র‌্যাব-১৪, সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া দরগাহাটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে শনিবার দুপুরে তাকে আটক করে। র‌্যাব-১৪, সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসান মোস্তফা স্বপন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রাজাকার হাফিজ উদ্দিনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটক হাফিজ উদ্দিন করিমগঞ্জ উপজেলার খুদিরজঙ্গল গ্রামের ইসমত আলীর ছেলে। ২০১৫ সালের এপ্রিলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ২০১৬ সালের ৩রা মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রাজাকার হাফিজ উদ্দিন, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, তার সহোদর অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন আহমেদ ও রাজাকার কমান্ডার গাজী আবদুল মান্নান এই চারজনকে এবং অপর আসামি আজহারুল ইসলামকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেন।
দণ্ডিতদের মধ্যে অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন আহমেদ কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত রাজাকার কমান্ডার গাজী আবদুল মান্নান পলাতক অবস্থায় গত বছরের ১৯শে ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ এলাকার ভাড়া বাসায় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত অপর আসামি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ ও আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত আজহারুল ইসলাম এখনো পলাতক রয়েছেন।
র‌্যাব ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রাজাকার হাফিজ উদ্দিন ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া দরগাহাটি গ্রামে তার মেয়ের জামাই কামরুলের বাড়িতে অবস্থান করছেন, এই খবরের ভিত্তিতে শনিবার সকালে র‌্যাব ও পুলিশ গ্রামটিতে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ ও র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে হাফিজ উদ্দিন জামাই কামরুলের প্রতিবেশী তালেব আলীর ঘরের একটি মাচায় অবস্থান নেয়। অভিযানের এক পর্যায়ে র‌্যাব সদস্যরা সেখান থেকে হাফিজ উদ্দিনকে আটক করেন। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হাফিজ উদ্দিনকে আটক করায় যুদ্ধাপরাধ প্রতিরোধ আন্দোলনের সভাপতি রেজাউল হাবিব রেজাসহ কিশোরগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাগণ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
২০১৫ সালের ১৫ই এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গাজী আব্দুল মান্নানসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে করা মামলায় তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন। এই মামলার পাঁচ আসামি হচ্ছেন, করিমগঞ্জের দুই সহোদর সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ ও কিশোরগঞ্জ জেলা বারের আইনজীবী মো. শামসুদ্দিন আহমেদ এবং করিমগঞ্জের রাজাকার কমান্ডার গাজী আব্দুল মান্নান, হাফিজ উদ্দিন ও আজহারুল ইসলাম। পাঁচজনের বিরুদ্ধেই ট্রাইব্যুনাল-১ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও ২০১৪ সালের ২৭শে নভেম্বর অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন আহমেদ গ্রেপ্তার হন এবং বাকি চার আসামি পলাতক থাকেন। পরে ২০১৬ সালের ৩রা মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, অপহরণ, নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে চার রাজাকার সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, তার সহোদর অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন আহমেদ, রাজাকার কমান্ডার গাজী আবদুল মান্নান ও রাজাকার হাফিজ উদ্দিনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আজহারুল ইসলামকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করেন। তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, অপহরণ, নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রাজধানীতে ছাত্রদলের মিছিলে হামলা, আহত ৩

যশোরে জঙ্গি সন্দেহে বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ

সুষমা কেন সহায়ক সরকারের কথা বলতে যাবেন: কাদের

আপস না করায় খালেদার বিরুদ্ধে ৩৯ মামলা: ফখরুল

আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোন কঠিন কাজ করা যায়: জয়

আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

৪ ঘণ্টায় হাজার মণ ইলিশ বিক্রি

সংবিধান বিরোধীদের নিবন্ধন বাতিলের দাবি

প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা

‘রোহিঙ্গা নিধনে পরিকল্পিত নির্যাতন চালিয়েছে মিয়ানমার’

রোহিঙ্গা প্রশ্নে ভারতীয় নীতি

অবস্থান পাল্টালো টিএসসি কর্তৃপক্ষ

রাখাইনে ১৭৭০ কোটি কিয়াতের বিশাল কর্মপরিকল্পনা

কেন উত্তরাধিকার বেছে নেবেন না শি জিনপিং?

বিমানবন্দরে সোহেল তাজের স্যুটকেসের তালা ভেঙে তল্লাশি

নিজেকে পতিতার মতো মনে হচ্ছিল- আদ্রিয়েনে লাভ্যালি