কাজ শেষ না করে সমাপ্তির সাইনবোর্ড

বাংলারজমিন

চাঁদপুর প্রতিনিধি | ১৩ আগস্ট ২০১৭, রবিবার
স্কুলের রাস্তার কাজ সমাপ্ত না করে সমাপ্তির সাইনবোর্ড। প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ। বিপাকে শিক্ষার্থীরা। এতে পূর্ব দামোদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকশ’ শিক্ষার্থীদের বিকল্প বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে স্কুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন স্কুল শিক্ষকরা।
ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব দামোদরদী গ্রামে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রকল্প বাস্তবায়নের চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য কাশেম বেপারীর বিরুদ্ধে বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ করেছে চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। অভিযোগে লেখা রয়েছে, ইজিসিসি প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত না হলেও ঠিকই টানানো হয়েছে প্রকল্প সমাপ্তির সাইনবোর্ড। সেখানে কাজ শুরুর তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১৭ এবং কাজ সমাপ্তির তারিখ গত ২১শে জুন উল্লেখ করা হয়। অথচ বাস্তবের চিত্র ভিন্ন। প্রকল্প বাস্তবায়নের চেয়ারম্যান ও ৩নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য কাশেম বেপারী বলেন, ‘ড্রেজারের অভাবে রাস্তার কাজ শেষ করতে পারিনি। দু-একদিনের মধ্যে বাকি কাজ সমাপ্ত করবো।’ সমাপ্ত না করে সমাপ্তির সাইনবোর্ড টানানো কথা জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি। সরজমিন গিয়ে জানা যায়, পূর্ব দামোদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আগের রাস্তাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। স্থানীয়রা পরে রাস্তা নির্মাণের জন্যে ১৫০ ফুট জমি দান করেন। এ রাস্তাটি পুনঃসংস্কারের জন্যে ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় দামোদরদী মান্নান প্রধানীয়ার বাড়ি থেকে সুলতান হাওলাদারের বাড়ি হয়ে দামোদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণের জন্যে ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্যে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয় ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাশেম বেপারীকে। কিন্তু তিনি সম্পূর্ণ কাজ শেষ না করেই বরাদ্দের টাকা উঠিয়ে নেন। যার ফলে পূর্ব দামোদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তাটি অসমাপ্ত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুলের শত শত শিক্ষার্থী। রাস্তাটি সমাপ্ত না করার কারণে বিকল্প রাস্তায় বাঁশের সাােকা দিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। দামোদরদী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. আরিফ বিল্লাহ বলেন, স্কুলের রাস্তা নির্মাণের জন্যে সরকার ইজিসিসি প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ দিয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় ইউপি সদস্য রাস্তাটির কিছু কাজ করেই বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করে নিয়েছেন। রাস্তা না হওয়ায় আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে রাস্তা নির্মাণের বরাদ্দ টাকা আত্মসাৎকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে অনুরোধ জানাই। বর্তমানে এ রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পূর্ব দামোদরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাশেম মিয়াজী বলেন, এই একটি রাস্তার সংস্কার কাজ না করার কারণে আমাদের শিক্ষার্থীরা যে কতটা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। রাস্তাটির কাজ সমাপ্ত না করায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে একটি বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হয়। প্রতি সপ্তাতেই এই সাঁকো থেকে দু-তিন জন শিক্ষার্থী নদীতে পড়ে যায়। গত সপ্তাহেও একজন শিক্ষার্থী নদীতে পড়ে গেলে স্থানীরা তাকে উদ্ধার করে। এর আগে দুজন শিক্ষার্থী সাঁকো পার হতে গিয়ে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়। আমরা প্রতিদিনই শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকি। রাস্তাটি নির্মাণ হয়ে গেলে এই ভয়াবহ সমস্যা থেকে আমরা মুক্তি পেতাম। সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

গাজীপুরে প্রাক্তন তিন সেনা সদস্যসহ ৪জন গ্রেপ্তার

খান আতা ইস্যুতে এফডিসিতে চলচ্চিত্র পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আদালত অঙ্গনে খালেদার আইনজীবীদের হাতাহাতি

বন্যায় ৩০ শতাংশ ধান উৎপাদন কম হতে পারে

রাজধানীতে নিরাপত্তাকর্মীকে কুপিয়ে যখম

জেনারেল মইনকে আশ্বস্ত করেছিলেন প্রণব

সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

গভীর রাজনৈতিক সঙ্কটের আশঙ্কা কাতালোনিয়ায়

নাইকোর আবেদন তিন সপ্তাহ মুলতবি

চল্লিশ বছর পর আবার...

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়ী করলো যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি মজনু গ্রেপ্তার

কুয়েতে এসি বিস্ফোরণে নিহত পাঁচজনের মরদেহ দেশে,বিকালে দাফন

আমাদের অনেক এমপি অত্যাচারী, অসৎ : অর্থমন্ত্রী

মিয়ানমার থেকে শূন্য হাতে ফিরলেন জাতিসংঘ কর্মকর্তা

নির্বাচনের সময় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির শঙ্কার কথা বললেন বার্নিকাট