গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত খামারিরা

বাংলারজমিন

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি | ১৩ আগস্ট ২০১৭, রবিবার
আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর হাটে বিক্রির জন্য এখন উল্লাপাড়ার বিভিন্ন খামারে গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া চলছে। উপজেলার বড়হর, নেওয়ারগাছা, নাগরৌহা, পংরৌহা, বড়পাঙ্গাসী, সোনতলা, কাওয়াক, পূর্ণিমাগাঁতী ও উল্লাপাড়া গ্রামে গরুর খামারিরা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তাদের ষাঁড় প্রতিপালনে। সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ডাক্তারের। রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গোয়াল ঘর। এ বছর উল্লাপাড়ায় বিভিন্ন খামারে প্রায় ১৫ হাজার গরু প্রতিপালিত হচ্ছে। এসব গরু ইতিমধ্যেই উপজেলার বোয়ালিয়া হাট, গ্যাস লাইন হাট, জনতা হাট, কয়ড়া হাট, গয়হাট্টা হাট ও বড়হর হাটে কেনাবেচা শুরু হয়েছে। খামারিরা প্রতি বছরই এ সময় মোটা টাকা আয়ের লক্ষ্যে ষাঁড় প্রতিপালনে ব্যস্ত থাকে। বৃহস্পতিবার সরজমিন উপজেলার বিভিন্ন খামারে গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতিতে প্রতিপালন কার্যক্রম দেখতে গেলে কথা হয় উল্লাপাড়া গ্রামের খামারি আহসান আলী সরকারের সঙ্গে। তিনি ৫ মাস আগে ১৩টি ষাঁড় গরু ক্রয় করেছেন। গরুগুলোর মোট মূল্য ১১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তিনি বিগত ৫ মাসে গরুর খাবার, চিকিৎসা ও ওষুধ ক্রয় মিলে ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। এখন পর্যন্ত তার মোট ব্যয় হয়েছে ১৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আসন্ন কোরবানির হাটে তিনি গরুগুলো ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। কাওয়াক গ্রামের খামারি আনোয়ার হোসেন সরকার জানান, তিনি ৫০টি গরু প্রতিপালন করছেন। সব গরু বিক্রি করতে পারলে এ বছর তার অন্তত ২০ লাখ টাকা আয় হবে বলে তার ধারণা। তবে ভারতীয় গরু অবাধে দেশে এলে খামারিরা প্রচণ্ড মার খাবেন। গরু প্রতিপালনে ভালো লাভের আশা ব্যক্ত করলেন উপজেলার বড়পাঙ্গাসী গ্রামের খামারি আবদুল গফুর, সোনতলা গ্রামের খামারি জিল্লুর রহমানসহ আরও অনেকে। তবে খামারিরা প্রত্যেকেই দেশে ভারতীয় গরু প্রবেশ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান। এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হেলাল উদ্দিন খান জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাবে এ বছর উল্লাপাড়ায় বিভিন্ন খামারে প্রায় ১৫ হাজার ষাঁড় প্রতিপালিত হচ্ছে। খামারিরা প্রচুর অর্থ ব্যয় করছেন। ভারতীয় গরু দেশে না ঢুকলে এরা ভালো দাম পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন