সব পক্ষকেই সংযত আচরণ করতে হবে

প্রথম পাতা

উৎপল রায় | ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১২
জাতীয় সংসদের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের জবাব ও পাল্টা জবাবের কারণে পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে ও জটিল হচ্ছে বলে মনে করেন সাবেক আইনমন্ত্রী ও সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ । রায়ে অপ্রাসঙ্গিক কিছু বিষয় থাকলেও সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়কে ‘বিদ্বেষতাড়িত’ বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি রায় নিয়ে রাজনীতি করাও অনুচিত বলে মনে করেন তিনি। আর রিভিউতে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলোর পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ সব পক্ষকেই সংযত আচরণ করতে হবে বলে মনে করেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ। গতকাল মানবজমিনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ষোড়শ সংশোধনীর রায় ও এ নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি ও এর সুরাহা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের মন্তব্যের বিষয়ে শফিক আহমেদ বলেন, উনি (খায়রুল হক) তার বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কারণ রায়ে প্রাসঙ্গিক অপ্রাসঙ্গিক অনেক কিছু বলা হয়েছে। অনেকেই মর্মাহত যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হেয় করা হয়েছে। সংসদ, এমপিদের যোগ্যতা, নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন নিয়ে বলা হয়েছে। এতে করে বিচারপতি খায়রুল হক হয়তো মনের দুঃখে বলেছেন যে, বিচারপতিরাই রাষ্ট্রের সবকিছু ঠিক করে দেবেন না কি! শফিক আহমেদ বলেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক রায়কে ‘বিদ্বেষতাড়িত’ বলেছেন। আমার মনে হয় এটি সঠিক নয়। এখানে বিদ্বেষের কিছুই নেই। তবে, যেগুলো বিচার্য বিষয় নয় সেই অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো রায়ে আসাতেই বোধহয় বিচারপতি খায়রুল হক ও আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।  
আপিল বিভাগের এই রায় নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে সিনিয়র এ আইনজীবী বলেন, একটা রায় হয়েছে। এই রায়ের মধ্যে কিছু অপ্রাসঙ্গিক বিষয় এসেছে। অপ্রাসঙ্গিক যে বিষয়গুলো আছে সেটি কোনো দলের বা পক্ষের জন্য হয়তো বিব্রতকর। আবার বিরোধী দল চাইছে এটিকে সুযোগ হিসেবে নিতে। সরকারপক্ষকেও এর পাল্টা জবাব দিতে  হচ্ছে। যে কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল ও ঘোলাটে  হচ্ছে। এটাই অসুবিধা। তিনি বলেন, রায়ের সার্টিফায়েড কপি হাতে পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ করতে হবে। রিভিউতে অবশ্যই এই রায়ের প্রাসঙ্গিক অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো আসবে। তখন বিচারকরাও বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন। তাই, রায় নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ নেই। এ নিয়ে  রাজনীতির মাঠে পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলাও উচিত নয়। রাজনীতি করলে এটি হবে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। এক্ষেত্রে সরকারি দল বিরোধী দলসহ সব পক্ষকেই সংযত আচরণ করতে হবে। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার কাছে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে, প্রধান বিচারপতি এ নিয়ে রাজনীতি না করার কথা বলেছেন। এমনকি সংযত আচরণ করার কথাও বলেছেন তিনি। এ বিষয়ে ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, প্রধান বিচারপতির বক্তব্য নিশ্চয় ইতিবাচক। উনি দলীয়ভাবে কারো বক্তব্য শুনতে চাননি। আমার মনে হয়েছে এটি প্রধান বিচারপতির ‘গুড স্পিরিট’।
রায়ে বিচার্য বিষয় ছাড়া বেশকিছু অপ্রাসঙ্গিক বিষয় এসেছে উল্লেখ করে শফিক আহমেদ বলেন, আমরা জানি যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির পিতা। উনার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু যেভাবে আত্মত্যাগ করেছেন, নিজের আরাম আয়েস বাদ দিয়ে এই দেশের জন্য লড়েছেন, শেষ পর্যন্ত এই দেশকে মুক্ত করেছেন- এটিতো অস্বীকার করার  উপায় নেই। অন্যরা অনেকেই তার সঙ্গে ছিল। কিন্তু নেতৃত্ব দিতে হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে। আর এটি অনস্বীকার্য যে বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে এই দেশের জন্ম হতো না। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর। তিনি বলেন, একটা রায়ে যা যা থাকা উচিত সেটিই থাকা ভালো। অপ্রাসঙ্গিক কথা নিয়ে রাষ্ট্রের অন্য অঙ্গকে আঘাত করা, সংসদ সদস্যদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, ইসিকে নিয়ে কথা বলা- এ কারণে যারা বিক্ষুব্ধ তারা নানা ভাবে এক্সপ্রেস হচ্ছেন। এখন রায়ে যেগুলো, অবান্তর, অপ্রাসঙ্গিক কথা- এগুলো বাদ দিলেই তো আর কারো কোনো কথা থাকে না। তবে, আমি বিশ্বাস করি রিভিউতেই এ বিষয়গুলো নিষ্পত্তি হবে। আর নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়াটাই বাঞ্ছনীয়।
 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

money

২০১৭-০৮-১২ ১০:২৫:৪৬

বর্তমান প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ করা উচিত সংসদ নিয়ে সংসদ সদস্য নিয়ে বঙ্গবন্ধু নিয়ে যে মন্তব্য তিনি করেছেন এবং মিডিয়াতে উনি যেভাবে হাইলাইট হচ্ছেন তাতে উনার মধ্যে কোন মতলব থাকতে পারে এবং তিনি সংবিধান লংঘনের দায় নিয়ে কালকেই পদত্যাগ করা উচিত দেশে কি এমন হয়ে গেছে যে শান্ত ভাবে শান্তিতে দেশটা চলতেছে আর উনি সাংবিধানিক ভাবে আন্তর্জাতিক ভাবে আইন সম্মত একটি সংসদ ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটা কথা বলে দেশে কি উনি আরেকটা ১/১১ চাচ্ছেন না কি জাতির পিতাকেও উনি ছোট করেছেন এই সাহস উনি কোথা থেকে পেল দেশের সাধারন জনগন উনাকে জোর নামানোর আগে ইজ্জতের সহিত উনার ইস্তফা দেওয়া উচিত

আপনার মতামত দিন