আশুলিয়ায় বাউল শিল্পী রাজধানীতে স্কুলছাত্রী লক্ষ্মীপুরে ভাগ্নিকে ধর্ষণ

ধর্ষণ থামছেই না

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৮
ধর্ষণ থামছেই না। একের পর এক ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন নারী। বাদ পড়ছে না শিশুরাও। দিন দিন তা বাড়ছে তো বাড়ছেই। নৃশংস ও অভিনব কায়দায় ধর্ষণ ও গণধর্ষণ করে চলছে দুর্বৃত্তরা। রাজধানীতে ধর্ষিত হয়েছে স্কুলছাত্রী।
আশুলিয়ায় ধর্ষণ করা হয়েছে বাউল শিল্পীকে। লক্ষ্মীপুরে ভাগ্নিকে ৩ বছর ধরে ধর্ষণ করেছে তার খালু। এভাবে  
 কেবলই দীর্ঘতর হচ্ছে নানা ধর্ষণের পরিসংখ্যান। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আশক) হিসাবে এ বছরের প্রথম ৬ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ২৮০ নারী।    
রাজধানীতে সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৫
বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল স্কুল পড়ুয়া মেয়েটি। বুধবার উত্তরখানের নিজ বাসায় ফিরছিল। রাত তখন নয়টা। এ সময় পথিমধ্যে দেখা হয় পূর্বপরিচিত এলাকার এক যুবকের সঙ্গে। সে তাকে ফুসলিয়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়। এরপর পাঁচজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে। নৃশংস এই ঘটনা চলতে থাকে ৫ ঘণ্টা ধরে। এক পর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়ে মেয়েটি। ওই অবস্থায় তাকে ফেলে পালিয়ে যায় ধর্ষকরা। পরে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘটেছে, উত্তরখান থানার হেলাল মার্কেট এলাকায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচজনকে আসামি করে বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি মামলা করেছে মেয়েটির মা। এদিকে ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরখান থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, উত্তরখানের হেলাল মার্কেট এলাকার শেখ নাঈম হোসেন অনু (১৮), তারা পুসকনির পাড়া এলাকার আহাদুল ইসলাম আহাদ (১৮), ময়মনসিংহ ফুলপুর উপজেলার বড়কুনা গ্রামের আবুল কালাম (১৮), শেরপুর শ্রীবরদি উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (২৪) এবং উত্তরখানের হেলাল মার্কেট এলাকার অনু সরকার (২৮)। গতকাল তাদের আদালতে হাজির করা হয়। উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, আদালতে আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মেয়েটি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ওসি জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী গাজীপুর তার বোনের বাসা থেকে নিজের বাসা উত্তরখান আসছিল। হেলাল মার্কেট এলাকায় এলে তার পূর্বপরিচিত শেখ নাঈম হোসেন অনু (১৮) তাকে ফুসলিয়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই ছিল আরো চারজন। মোট পাঁচজন মিলে রাত আড়াইটা পর্যন্ত তাকে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে সে অচেতন হয়ে পড়লে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়। পরে জ্ঞান ফিরে আসলে মেয়েটির কান্নার আওয়াজ পায় টহল পুলিশ। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পরিবারকে খবর দেয়া হয়। ওসি জানান, ধর্ষণের শিকার মেয়েটির তথ্য অনুযায়ী ওই রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন দশম ও একজন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। বাকিদের একজন ট্যাক্সিচালক ও আরেকজন অটোরিকশা চালক। অন্যজন বেকার। ওসি জানান, তাদের আদালতে নেয়া হয়েছে। তারা ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে কলেজছাত্রী ধর্ষণ খালু আটক
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুরে গত তিন বছর ধরে কলেজপড়ুয়া ভাগ্নিকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে খালু জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করছে স্থানীয় জনতা। এ সময় নির্যাতিত কলেজ ছাত্রীকেও উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। গতকাল বেলা ১১টার দিকে পৌরসভার দক্ষিণ মজুপুর এলাকার একটি বাসা থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে আটক ও কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ২০১৫ সালে জাহাঙ্গীর আলমের ঢাকার বাসায় বেড়াতে যায় তার ভায়েরার কলেজপড়ুয়া মেয়ে। এ সময় তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত জাহাঙ্গীর আলম। দীর্ঘদিন ওই বাসায় কৌশলে আটকে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করতে থাকে। পরে  বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণ মজুপুর এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িয়ে নিয়ে আসে খালু জাহাঙ্গীর আলম। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার লোকজন তাদের আটক করে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রায়হানকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে জাহাঙ্গীর আলমকে আটক ও কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আটককৃত জাহাঙ্গীর আলম সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের বালাইশপুর গ্রামের আবদুল কাদেরের ছেলে।
নির্যাতিত ওই কলেজছাত্রী জানান, গত তিন বছর ধরে ঢাকার বাসায় আটকে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল জাহাঙ্গীর আলম। পরে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে লক্ষ্মীপুরে তার নিকটত্মীয়ের বাসায় নিয়ে আসে। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন ওই ছাত্রী। তবে ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ওই মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হয় জাহাঙ্গীর আলম।
এ ব্যাপারে পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রায়হান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন জানান, মেয়েটিকে উদ্ধার ও জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আশুলিয়ায় বাউল শিল্পী গণধর্ষণ
স্টাফ রির্পোটার, সাভার থেকে জানান, আশুলিয়ায় গান গাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে এক বাউল শিল্পীকে ডেকে এনে গণধর্ষণের ঘটনায় দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জাড়িত বাকিদেরকেও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সকালে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজ্জাক ও আতাউর নামে দুই ধর্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে গণধর্ষণের শিকার বাউল শিল্পী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা (নং-২৬) করেছেন। পরে পুলিশ আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করে। আউকপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন জানান, গত বুধবার রাতে কয়েকজন দুর্বৃত্ত নারায়ণগঞ্জ থেকে গান গাওয়ার কথা বলে একজন বাউল শিল্পীকে মোবাইলে ফোন করে ডেকে আনে। পরে তাকে আউকপাড়া এলাকার শহীদুল্লাহ দেওয়ানের মালিকানাধীন জমিতে থাকা কেয়ারটেকার ফারুকের কক্ষে আটকে রেখে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে। সকালে আমরা খবর পেয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় পাঠিয়েছি। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কেয়ারটেকার ফারুককে আটক করলেও পরবর্তীতে কি কারণে তাকে ছেড়ে দিয়েছে। তবে ধর্ষণকারীদের গ্রেপ্তারে ওই এলাকার কয়েকটি বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আউয়াল দুই ধর্ষককে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযান শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্ষকদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

shamsulhoque

২০১৭-০৮-১২ ১১:৫২:৩৭

joto din manush islamer bitor asbena toto din dhartion (rape) cholbe ebong din din eiha barbe

kazi

২০১৭-০৮-১১ ১৮:২১:৫২

ধর্ষণ থামবে না। যতদিন ধর্ষনের শাস্তি কঠোর ও ধর্ষিতার মত ধর্ষক শাস্তির চিহ্ন সারা জীবন বহন করবে না। তাহল খোঁজা করে দেওয়ার আইন। বাংলাদেশে প্রধান তিন দলের নেতৃ মহিলা । অথচ মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পারছেন না।

karim

২০১৭-০৮-১১ ১১:২৫:৫৭

ধর্ষণের বিচার হতে হবে ফাসি , তার পর ধর্ষণ কমবে

আপনার মতামত দিন

অস্ট্রেলিয়া গেলেন প্রধান বিচারপতির স্ত্রী সুষমা সিনহা

মৌলভীবাজারে শোকের মাতম

বিয়ানীবাজারের খালেদের দুঃসহ ইউরোপ যাত্রা

১১ দফা প্রস্তাব নিয়ে ইসিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

‘প্রধান বিচারপতি ফিরে এসেই কাজে যোগ দিতে পারবেন’

খালেদা জিয়া ফিরছেন আজ

ব্লু হোয়েলের ফাঁদে আরো এক কিশোর

তিন ইস্যু গুরুত্ব পাবে সুষমার সফরে

প্রি-পেইডে সুবিধা বেশি আগ্রহ কম

ভারত থেকে ৩৭৮ কোটি টাকার চাল কিনছে সরকার

ছাত্রলীগ কর্মী মিয়াদ খুন নিয়ে উত্তপ্ত সিলেট

ইস্যু হতে পারে সমস্যার পাহাড়

দ্বিতীয়বার সংসার না করায় খুন

যেভাবে পালিয়ে আসছে রোহিঙ্গারা, ড্রোন থেকে নেয়া ভিডিও

সিলেটে কাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট

ফুটবলকে বিদায় জানালেন কাকা