চেন্নাই থেকে ফিরলেন সিদ্দিকুর

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১৩
 আলোহীন চোখ নিয়েই দেশে ফিরলেন সিদ্দিকুর রহমান। পুলিশের টিয়ার শেলের আঘাতে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত দুই চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে চিকিৎসার্থে ভারতের চেন্নাই গিয়েও হতাশা নিয়েই ফিরতে হলো তিতুমীর কলেজের এই শিক্ষার্থীকে। গতকাল শুক্রবার বেলা ৩টা ২০ মিনিটে একটি ফ্লাইটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন সিদ্দিকুর। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বড় ভাই নায়েব আলী। সিদ্দিকুরের ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহপাঠী শেখ ফরিদ। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ৩টা ২০মিনিটে সিদ্দিকুর ও তার বড় ভাই ল্যান্ড করেন। দুপুরে ১২টায় চেন্নাই থেকে রওনা হন তারা। তার চোখের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।  প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি ঘোষণার দাবিতে গত ২০শে জুলাই শাহবাগে আন্দোলন করতে গিয়ে দুই চোখে গুরুতর আঘাত পান সিদ্দিকুর রহমান। ওই দিনই তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তার দুই চোখে অস্ত্রোপচার শেষে চিকিৎসকরা জানান, সিদ্দিকুরের ডান চোখ সম্পূর্ণভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। বাম চোখে এক দিক থেকে আলোর উপস্থিতি টের পাচ্ছেন সিদ্দিকুর রহমান। তার দৃষ্টিশক্তি ফেরার সম্ভাবনা কম। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৭শে জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে সিদ্দিকুর রহমানকে চেন্নাইয়ে পাঠানো হয় সিদ্দিকুরকে। সেখানে অস্ত্রোপচার হলেও আলোহীন চোখ নিয়েই ফিরতে হলো তাকে। অবশ্য চেন্নাইয়ের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আগামী ৫-৬ সপ্তাহ পর বোঝা যাবে সিদ্দিকুরের চোখে আলো ফিরবে কিনা।
এদিকে ভারত থেকে দেশে ফিরে সিদ্দিকুর বলেছেন, আমার চোখের বিনিময়ে আলো ফিরুক শিক্ষায়। গতকাল বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে আসেন। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সিদ্দিকুর বলেন, শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও আমি চোখে এখন আর কিছুই দেখতে পাই না। বলেন, আমি চোখের আলো হারিয়েছি কিন্তু আমার চোখের বিনিময়ে বন্ধুদের জীবনে শিক্ষার আলো ফিরে আসুক। তিনি আরো বলেন, ওইদিন যে অন্যায় আচরণ হয়েছে আমার ওপর, এর জন্য আমার কোনো ক্ষোভ নেই। আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। বিষয়টি রাষ্ট্র দেখবে, প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। দৃষ্টি হারানো সিদ্দিকুর বলেন, শিক্ষার জন্য আমার এই ত্যাগ। বিনিময়ে বঞ্চিত সকলকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা হোক- এটাই আমার চাওয়া। এদিকে সিদ্দিকুরের দেশে ফেরা ঘিরে বিমানবন্দরে চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানান তার বন্ধুরা।
 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন