ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় ভিক্ষুকের ছড়াছড়ি

বাংলারজমিন

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি | ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার
ভিক্ষুক সাইফুল উপকরণ হিসেবে একটি ছাগল পেয়েছিলো। বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পরই ছাগলের অসুখ হয়। ছাগলের পেছনে তিনি ব্যয় করেন তিনশ টাকা। তারপরও ছাগলটি বাঁচাতে পারেনি। ভিক্ষুক পুনর্বাসনের জন্য তাকে একটি মাত্রই ছাগল দেয়া হয়। এখন তিনি নিরুপায় হয়ে ভিক্ষা করছেন।
সাইফুল জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তার বাড়ি সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের রাউতাইল গ্রামে। সংসারে পিতা, মাতা, স্ত্রী ও এক সন্তানের ভরণ-পোষণ তাকেই করতে হয়। ভিক্ষুক সাইফুল প্রশ্ন তুলে জানান, প্রতি মাসে তার খরচ ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। সরকারের দেয়া ছাগল দিয়ে তো তার সংসার চলবে না। এ জন্য তিনি নতুন করে ভিক্ষায় নেমেছেন। উপকরণ নিয়ে সংসার না চলায় তার মতো অনেকেই ভিক্ষাবৃত্তিতে ফিরেছেন। তবে সরকারি উপকরণ হিসেবে গরু ছাগল নিয়ে কিছুদিন অনেকেই ভিক্ষুক চক্ষু লজ্জায় ভিক্ষা করতেন না। জানা গেছে ঝিনাইদহের ছয় উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয় তিন মাস আগে। ভিখারিদের স্বাবলম্বী করতে গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগিসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় নানা পদক্ষেপ। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ভিক্ষুক আছে ৬৫১ জন। এর মধ্যে ঝিনাইদহ পৗরসভায় আছে ৭০ জন। সারা জেলায় এক হাজারেরও বেশি ভিক্ষুককের তালিকা করা হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভিক্ষুকদের জেলা প্রশাসক, উপজেলা পরিষদসহ ১৭ জন ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ফিস, উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস  এবং একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প থেকে দেয়া হয় ৫ লাখ ৩৩ হাজার ১৭১ টাকা। সর্বমোট বিভিন্ন খাত থেকে ভিক্ষুকদের দেয়া হয় ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সরকারিভাবে দাবি করা হয় সদর উপজেলায় ৫৮০ ও পৌরসভায় ৭০ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১৯ জনকে ফেয়ার প্রাইজ কার্ড, ১ জনকে সেলাই মেশিন, ১১৬ জনকে হাঁস-মুরগি, ২১ জনকে ওয়েট মাপার মেশিন, ৩৪ জনকে ছাগল, ৭৩ জনকে নগদ অর্থ, ১৫ জনকে প্রতিবন্ধী ভাতা, ২০ জনকে বিধবা ভাতা, ৩১ জনকে বয়স্ক ভাতা, ৩০ জনকে ভিজিডি কার্ড, ৪ জনকে ৭টি করে শাড়ি-লুঙ্গি ও ১৭ জনকে ৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়। পৌরসভার ৭০ জন ভিক্ষুককেও অনুরূপ উপকরণ দেয় সরকার। এ সব প্রদানের পরও কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আগের মতোই গ্রামে-গঞ্জে, হাট-বাজারে ভিক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন বয়সী মানুষকে। ভিখারিদের বক্তব্য, সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু সুবিধা তারা পেয়েছেন, তা দিয়ে পেট চালানো যাচ্ছে না, তাই পুরনো পেশায় ফিরছেন তারা। ঝিনাইদহ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. আবদুল আলীম জানান, মহিলা কলেজপাড়ার এক ভিক্ষুক তাকে পুনর্বাসনের জন্য সরকারি উপকরণ দেয়া হয়েছিলো। তিনি ওই পাড়ায় একটি জমি কিনেছেন। জমি রেজিস্ট্র্রির জন্য ভিক্ষা করার অনুমতি চান। তিনি বলেন, এই পেশা থেকে সহজে তাদের সরানো যাবে না। আস্তে আস্তে একদিন তারা সরে আসবে। তিনি বলেন, আগের চেয়ে জেলায় ভিক্ষুক অনেক কমে এসেছে। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। একই কথা জানালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আশা করা যায় দ্রুতই জেলা ভিক্ষুকমুক্ত হবে।


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ছিচকে চোর থেকে মাদক সম্রাট!

সুপারমডেল থেকে মাতৃসেবায়

বোতলে ভরা চিঠি সমুদ্র ফিরিয়ে দিল ২৯ বছর পর!

কার সমালোচনা করলেন বুশ, ওবামা!

১১ ঘন্টা পর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটের ফেরি চলাচল শুরু

জুমের মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারবেনা বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা

স্বাধীনতা নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে যাচ্ছে কাতালান

অস্ট্রেলিয়ার গহীন মরুতে ১৮শতাব্দীর বাংলা পুঁথি

হারভে উইন্সটেন যেভাবে হোটেলকক্ষে অভিনেত্রীকে যৌন নির্যাতন করেন

আজও সারাদিন বৃষ্টি

ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ পলিসির মূল স্তম্ভ হলো বাংলাদেশ

ভর্তি পরীক্ষায় ‘র‌্যাগের’ বিরুদ্ধে রাবি প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

‘এই ধরনের কাজ করতে আমি সবসময়ই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি’

মসজিদে গুলি ছোড়ার পর পাল্টে গেল এক মার্কিনীর জীবন

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির মচ্ছব

দৃশ্যপট একই