বিএনপির কর্মসূচিতে হামলা

‘সরকার জনগণকে ভয় পায়’

বাংলারজমিন

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি | ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার
 বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এ সরকার গণতন্ত্রকে মানে না, বিরোধী দলকে বিশ্বাস করে না। প্রতিবারেই আমি যখন আমার নির্বাচনী এলাকার নিজ বাড়িতে আসি তখন এলাকার জনগণ রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে সংবর্ধনা জানায়। আজকেও আমাকে সংবর্ধনা জানানোর জন্য হাজার হাজার মানুষ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়েছে। এই সময় হঠাৎ করে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ অতর্কিতভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। মওদুদ আহমদ আরো বলেন, আমি যখন কয়েকদিন আগে বিএনপির প্রথম সদস্য সংগ্রহে নিজ এলাকায় আসি তখন ডিসি সাহেব অর্থাৎ সরকার আমাদেরকে পূর্ব নির্ধারিত কবিরহাটে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন করতে দেয়নি। এ সরকার ফ্যাসিবাদী সরকার, এ সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম, খুন, অত্যাচার, নির্যাতন চালাচ্ছে। এর জবাব আগামী নির্বাচনে জনগণ ব্যালটের মাধ্যম দিবে। এ সরকারের পতন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তারা আমাদের ঘরোয়া সভা করতেও দেয় না, কিন্তু তারা জনসভা ডাকলে ও আমাদের ঘরোয়া মিটিংয়ের মতো এত লোক হয় না। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং দেশের সকল নাগরিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটে অংশগ্রহণ করবে। ষোড়শ সংশোধনীর রায় প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে দেশে আইনে শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সরকারের আইনের প্রতি তাদের আত্মবিশ্বাস নেই, এ রায়ের মাধ্যমে দেশের ১৬ কোটি মানুষের মনের মধ্যে দুঃখ, বেদনার কথা বলা হয়েছে। এ রায়ে সরকার বিচলিত হয়ে গেছে, নড়বড় হয়ে গেছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আর ম্যানেজ করতে পারতেছে না। দেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিচারপতিরা তাদের বিবেক দিয়ে রায় দিয়েছে। আমাদের দিকে তাকিয়ে রায় দেয়নি। এতদিন আমরা যা বলে আসছি এ রায়ের মধ্যে তার প্রতিফলন ঘটেছে। বিচারপতিরা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়, এ রায়ের মধ্যে অনেক বাস্তবমুখী কথা বলা হয়েছে। মওদুদ আরো বলেন, এ সরকার মানুষকে ভয় পায়, জনগণকে ভয় পায়। কেন? তা আমরা জানি, কারণ তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, জনগণ তাদের সঙ্গে নেই, এই কারণে সরকার আমাদের ওপর এত আক্রোশ। সরকারের এক নায়কতন্ত্র ও বিএনপিকে সভা সমাবেশ না করতে দিয়ে বিদেশিদের কাছে আমাদের দেশের কোনো মান সম্মান নাই। সরকার আমাদের ঘর বাড়ি নিয়ে গেছে, নেতাকর্মীদের ক্ষেতের ধান নিয়ে গেছে, বেগম জিয়ার বাড়ি নিয়ে গেছে। এতে জাতীয়তাবাদী শক্তি আরো উজ্জীবিত হয়েছে।
গতকাল দুপুর ১২টায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নিজ বাসভবন মাঠে নোয়াখালী কবিরহাট উপজেলা, সদর পূর্বাঞ্চল ও কবিরহাট পৌরসভা বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, কবিরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, পৌর বিএনপির সম্পাদক বেলায়েত হোসেন খোকন।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফোরকান-ই আলম। বক্তব্য রাখেন, কবিরহাট পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম দুলাল, কবিরহাট উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজমুল হুদা ফরহাদ, কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাব উদ্দিন, চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়া, মো. আবদুর রহিম প্রমুখ।
এদিকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই সেলিমসহ বিএনপির ৮ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের কোম্পানীগঞ্জে আগমন উপলক্ষে সংবর্ধনা জানানোর জন্য দলীয় নেতাকর্মীরা বসুরহাট পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে শান্তিপূর্ণভাবে জড় হলে হঠাৎ পুলিশ কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই সেলিম (৬০), পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী (৫০), উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুর রহমান রাজন (৩০), পৌর যুব দলের সম্পাদক শওকত হোসেন ছগিরসহ ৮ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন