চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা সভায় যা ঘটেছে-

দেশ বিদেশ

চট্টগ্রাম থেকে সংবাদদাতা | ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার
চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এক উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রকাশ্যে ক্রসফায়ার দেয়ার পরামর্শ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও পশুর বাজার নিয়ে নৈরাজ্য ঠেকাতে চাঁদাবাজদের ক্রসফায়ারে দেয়ার পরামর্শ দেন চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান  তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী। তার এ বক্তব্যে বিব্রত বোধ করেন জেলা প্রশাসক জিল্লর রহমান চৌধুরী। কারণ সেখানে বিভিন বেসরকারী টেলিভিশনের সাংবাদিকরা সভার চিত্রধারণে ব্যস্ত ছিলেন। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসক সেই উপজেলা চেয়ারম্যানকে কিছু না বলে বা তার বক্তব্যে জবাব না দিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন টেলিভিশন সাংবাদিকদের উপর। জেলা প্রশাসক উপস্থিত যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার হোসাইন জিয়াদ ও ক্যামেরাপার্সন সঞ্জয় মল্লিককে সভাকক্ষ থেকে চলে যেতে বাধ্য করেন।
অথচ আগের দিন মোবাইল ফোনে এসএমএস দিয়ে নিউজ কাভারেজ করার জন্য সাংবাদিকদের দাওয়াত দেন জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার। এসময় চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা, বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধিসহ আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিভিন্ন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই সভায় ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পশু ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার, বাজার ও খুঁটি নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, পশুচুরি, চামড়া সন্ত্রাস-সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন কমিটির সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত অন্যরা গঠনমূলক মতামত তুলে ধরলেও আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম  চৌধুরী পশুর বাজারে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে ক্রসফায়ারে দিতে জেলা প্রশাসকের প্রতি অনুরোধ জানান। আর এ পরামর্শ শুনে ক্ষিপ্ত হয় উঠেন জেলা প্রশাসক। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানকে কিছু না বলে ক্ষোভ জানান দুই সাংবাদিকের উপস্থিতির কারণে। তিনি দায়িত্বরত ক্যামেরাম্যান সঞ্জয় মল্লিককে ডেকে জানতে চান এই কথা রেকর্ড হয়েছে কিনা। রেকর্ড হয়নি বলার পরও ডিসি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকরা এখানে  কেন? তাদের সভাস্থল ত্যাগ করতে বলেন তিনি। চেয়ারম্যান সাহেব যা বলেছেন তা সংবিধানবিরোধী কথাবার্তা। এসব কথা আপনারা শুনবেন কেন- বলেন জেলা প্রশাসক। এর আগে অনুষ্ঠানে শুরুর দিকে এনটিভি, একুশে টেলিভিশন, বাংলাভিশন ও বিজয় টিভি’র সাংবাদিকদের বের করে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে জানতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরীকে বার বার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তবে ক্রসফায়ারের পরামর্শ দেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, আমি কোরবানির পশুবাজার নিয়ে যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে এবং ইয়াবার বিস্তারের মাধ্যমে সমাজকে অস্থির করে তুলেছে যারা, তাদেরকে কঠোর আইনের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছি। আমার পরামর্শ ডিসি সাহেব গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন। সভায় উপস্থিত রাঙ্গুনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী শাহ সাংবাদিকদের জানান, গরুচোর নয়, সম্ভবত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ক্রসফায়ারে দিতে অনুরোধ করেছিলেন আনোয়ারা উপজেলা চেয়াররম্যান তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী। এদিকে দাওয়াত দিয়ে সাংবাদিকদের সভাস্থল থেকে বের করে দিয়ে অসম্মানজনক আচরণের প্রতিবাদে সভা সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছে চট্টগ্রামের সাংবাদিক সংগঠনগুলো।


 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বিদেশি হস্তক্ষেপ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে না : বেইজিং

এই দুর্ভোগের শেষ কবে?

সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে আর্থিক ক্ষতি ৪০ হাজার কোটি টাকা

ইসির সার্ভারে প্রবেশাধিকার চেয়েছিল বিদেশি কোম্পানি

অপরাধীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না

আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবেন না যারা

টানা বৃষ্টিতে চড়া কাঁচাবাজার

ছাত্রলীগ নেতাসহ তিনজন চারদিনের রিমান্ডে

রোহিঙ্গা শিবিরে সীমাহীন দুর্ভোগ

মালয়েশিয়ায় ভূমিধসে তিন বাংলাদেশি নিহত

ঘুষখোর সরকারি কর্মকর্তারা দুদকের ‘ফাঁদ মামলা’ আতঙ্কে

টানা বৃষ্টিতে অচল চট্টগ্রাম

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশ উন্নত হবে

বিজয়ের ধারাবাহিকতা না পুনরুদ্ধার

সোনাজয়ী শুটার হায়দার আলী আর নেই

মালয়েশিয়ায় ভূমি ধসে তিন বাংলাদেশি নিহত