চট্টগ্রামে অজগরের মাংস বিক্রির চেষ্টা দুইজনের সাজা

বাংলারজমিন

চট্টগ্রাম থেকে সংবাদদাতা | ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার
এবার চট্টগ্রামে অজগরকে পিটিয়ে মেরে চামড়া ছাড়িয়ে নিয়ে পাচারের চেষ্টা চালিয়েছে একটি অপরাধী চক্র। তবে শেষমেশ আইনের হাত থেকে রেখাই পাননি তারা। তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়ে এ চক্রের দুই সদস্য। পরে দুইজনকে আটক করে বন্যপ্রাণী আইনে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর নুপুর মার্কেট এলাকা থেকে চামড়াসহ মৃত সাপটি উদ্ধার করা হয়। দণ্ডিতরা হলেন রেয়াজউদ্দিন বাজারের নুপুর মার্কেটের ‘বন্দর বিতান’ নামের একটি দোকানের কর্মচারী রাজীব ও রহমতউল্লাহ।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফোরকান এলাহী অনুপম বলেন, ‘বিকালে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন এলাকায় মাঝারি আকারের একটি অজগরকে তারা পিটিয়ে মারে। পরে সাপটিকে নিজেদের দোকানের পেছনে নিয়ে চামড়া ছাড়ানো হচ্ছিল। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে হাজির হয়ে দুইজনকে হাতেনাতে আটক করে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফোরকান বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা বলেছে, ওই সাপের চামড়া তারা পশুর চামড়া এবং হাড়গোড় দিয়ে তাবিজ ও ওষুধ তৈরি করে এমন একটি দোকানে বিক্রি করতে চেয়েছিল।’ এ অভিযোগে পরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন-২০০৪ এর ৫ ও ১১ ধারা অনুসারে গ্রেপ্তার দুইজনের প্রত্যেককে ছয় মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ জানান, মৃত সাপটি চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছে।
‘সেটি পেলে সংরক্ষণ করবো। অজগর সাপের চামড়া খুব বেশি দামে বিক্রি হয় না। অজ্ঞতা থেকেই সাপ মেরে চামড়া তুলে নেয়ার চেষ্টা করেছিল তারা।’ চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই নগরী ও মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে লোকালয়ে বেশ কয়েকটি বড় ও মাঝারি আকারের অজগর সাপ ধরা পড়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বর্ষায় পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণের কারণে খাবারের সন্ধানে অজগর লোকালয়ে নেমে আসে। উদ্ধার হওয়া প্রায় সবগুলো অজগরই স্থানীয় বন বিভাগের সহায়তায় সংলগ্ন বনে ছেড়ে দেয়া এবং চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নেয় স্থানীয়রা।



 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন