নারীদের ভিড় বাড়ছে জিমে

এক্সক্লুসিভ

তামান্না মোমিন খান | ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৯
আশির দশকে নারীরা রূপ-সচেতন হয়ে বিউটি পার্লারে যাওয়া শুরু করেন। কিন্তু নারীরা কখনও জিমে যাবেন- এটা হয়তো তখনও ভাবেনি কেউ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নারীরা স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে উঠেছেন। এ কারণে ফাইভ স্টার  হোটেল থেকে শুরু করে ওলিতে-গলিতে গড়ে উঠেছে  ফিটনেস সেন্টার। আর এই সেন্টারগুলোয় দিন দিন ভিড় বাড়ছে নারীদের। বসুন্ধারা সিটির গোল্ডজিমে গিয়ে দেখা গেল ট্রেডমিল করছেন শাহিন আনোয়ার।
দুই সন্তানের জননী শাহীনের বয়স ৪০ বছর। থাকেন লালবাগে। দুই বছর থেকে নিয়মিত জিমে আসছেন তিনি। শাহিন বলেন,  দুই  বছর ধরে এই জিমের আমি সদস্য। নিয়মিত সাঁতার ও ট্রেডমিল ইয়োগা করি এখানে। হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়াতে জিমে আসার সিদ্ধান্ত নিই। জিমে আসার আগে আমার ওজন ছিল ৮৬ কেজি। এখানে আসার পর ১০ কেজি কমেছে। আগে সকালে পার্কে হাঁটতে যেতাম। কিন্তু অনেক সময়ই বৃষ্টি জন্য হাঁটতে পারতাম না। আবার ধুলাবালি আর গাড়ির শব্দে পার্কে হাঁটতে ভালো লাগে না। জিমে এসব ঝামেলায় পড়তে হয় না। এখানে ঝড় বৃষ্টি বাদল  হলেও শরীর চর্চায় কোনো ঝামেলা হয় না। সুন্দর পরিবেশে নিরিবিলি শরীরচর্চা করা যায়। দশ বছর থেকে জিম করছেন খোরশেদা। তিনি থাকেন মণিপুরীপাড়ায়। খোরশেদা বলেন, আমি এই জিমের প্রথম দিকের সদস্য। সপ্তাহে ছয়দিন জিমে আসি আমি। এখানে এসে আমি সুস্থ রয়েছি। এখন তো মানুষের চল্লিশ বছর পরেই পেসার ডায়াবেটিসসহ নানা রোগ দেখা দেয়। আমার বয়স পঞ্চাশের বেশি হলেও জিমে আসার কারণে আমি সুস্থ আছি; মাঝখানে কিছুদিন না আসলেই দেখা যায় দশ থেকে পনের কেজি বেড়ে গেছি। নারীদের শরীরচর্চার  জন্য জিম নিরাপদ। কারণ, পার্কে গিয়ে নারীরা দৌড়ালে বা শরীরচর্চা করলে মানুষ তাকিয়ে থাকে। এতে নিজের মধ্যে অস্বস্তি কাজ করে। নিজেও স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যায়াম করতে পারি না। কিন্তু জিমে সে সমস্যা হয় না; এখানে ওয়েট ট্রেডিং, ইয়োগা, আরবিক সুইমিং সব করতে পারি। সুইমিং পুলের কাছে গিয়ে দেখা গেল সাঁতার কাটছেন রোজিনা। রোজিনা জানান, তার সাঁতার কাটতে ভালো লাগে। সাঁতার কেটে তার ওজন আগের থেকে কমেছে। ত্রিশ বছর বয়সী রোজিনা তিন মাস থেকে জিমে আসছেন। জিমে আসলে শরীরের সঙ্গে সঙ্গে মনও ভালো থাকে। হাজারো ব্যস্ততার মাঝে প্রতিটি মানুষের একান্ত সময় থাকা দরকার। আর জিমে আমার সেই একান্ত সময়। গোল্ডজিমের ট্রেইনার ইয়াসমিন হক বলেন, আমাদের এখানে প্রতিদিনই নারীসদস্য বাড়ছে। প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন  নারী এখানে আসেন জিম করতে। তরুণী থেকে শুরু করে মধ্য বয়সী, বেশি বয়সী- সব ধরনের নারীসদস্য রয়েছেন এখানে। আমাদের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ নারীসদস্যের বয়স ৭৫ বছর। আরেক ট্রেইনার মাইসা দেওয়ান আঁখি বলেন, আমাদের খাদ্যাভাস পরিবর্তন হওয়াতে মানুষের যেমন রোগ বাড়ছে তেমনি ওজনও বাড়ছে। আগে নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন ছিলেন না। কিন্তু দিন দিন নারীদের সচেতনতা বাড়ছে। এ কারণেই নারীদের জিমের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এখন প্রতিটি জিমেই নারী জন্য রাখা হয় আলাদা ব্যবস্থা। আমাদের গোল্ডজিমেও নারীদের জিম করার জন্য রয়েছে সব ধরনের ব্যবস্থা। দুপুর বারোটা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত শুধু নারীরা এখানে জিম করতে পারেন। এই সময় কোনো পুরুষ এই জিমে প্রবেশ করতে পারবেন না ।
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ব্রাজিল ফুটবলের প্রধান ৯০ দিন নিষিদ্ধ

ঝিকরগাছায় ছাত্রলীগ কর্মী খুন, সড়ক অবরোধ

উৎসবের আমেজে সারাদেশ

জনগণের দেয়া রায় মেনে নেবে বিএনপি: ফখরুল

কংগ্রেস সভাপতি পদে রাহুল গান্ধীর আনুষ্ঠানিক অভিষেক

দুই নারীর একজন স্বামী, অন্যজন স্ত্রী

আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১৫

নওগাঁয় যুবককে কুপিয়ে হত্যা

গার্মেন্টে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত করছে এইচ অ্যান্ড এম

নাশকতার অভিযোগে ২০ শিবিরকর্মী আটক

বিএনপির বিজয় র‌্যালিতে যুবলীগ-ছাত্রলীগের হামলা

বিজয় উৎসব পালন করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ মুক্তিযোদ্ধাসহ আহত ৯

আমৃত্যু এক যোদ্ধার কথা

ছাত্রদলের পুষ্পস্তবক ছিঁড়লো ছাত্রলীগ

বঙ্গবন্ধুর গৃহবন্দি পরিবারকে যেভাবে উদ্ধার করেছিলেন কর্নেল তারা

ভারতে তিন তালাক বিরোধী খসড়া আইনে সরকারের অনুমোদন