মণিরামপুরের পানিবন্দি এক লাখ মানুষ

বাংলারজমিন

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি | ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার
যশোরের মণিরামপুরে জলাবদ্ধ পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কমেনি পানিবন্দি মানুষের। জলাবদ্ধ এলাকায় পানিতে বিভিন্ন বর্জ্য মিশে পানি নীলবর্ণ ধারণ করে দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক ও পানিবাহিত রোগ। একদিকে দূষিত পানি অন্যদিকে সাপ-পোকামাকড়ের পচা গন্ধে মানবেতর জীবনযাপন করছেন জলাবদ্ধ মানুষেরা।
খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি অবিরাম বর্ষণ ও উজানের পানির ঢলে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের অন্তত শতাধিক গ্রামের ছয় হাজার পরিবারের এক লাখ মানুষ ১৭ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছে। হতদরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের কাজ না থাকায় দেখা দিয়েছে চরম খাদ্য ও পানীয় জলের সংকট। আরও তীব্র সংকট চলছে গৃহপালিত প্রাণীদের খাবার। সবচেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন উপজেলার শ্যামকুড় ও চালুয়াহাটি ইউনিয়নের জলাবদ্ধ মানুষ। পানি ও সাপ পোকামাকড়ের সঙ্গে টিকে থাকতে না পেরে আশ্রয় নিয়েছেন রাস্তার দু’ধারসহ অপেক্ষাকৃত উঁচুস্থানে। সেখানে তাদের দিন কাটছে অর্ধাহারে, অনাহারে। সরজমিন উপজেলার ফকিরাস্তা এলাকার যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দু’ধারে টং বেঁধে থাকা পানিবন্দি হাঁসাডাঙ্গা গ্রামের আবদুল জলিল বলেন, ভিটেবাড়িতে কোমর পানি। ভিটে বাড়ি ছেড়ে সংসার আর গরুটা নিয়ে টং ঘরে প্রায় তিন সপ্তাহ কেটে গেল। এই পর্যন্ত ১০ কেজি চাল পাইছি। কি করে যে সংসার নিয়ে বেঁচে থাকবো, তাই ভাবছি। তারপরও গরুটার খাবার নিয়ে পড়েছি বিপাকে।
রাস্তায় টং ঘরে আশ্রয় নেওয়া গৃহবধূ ফরিদা খাতুন বলেন, ‘গত বছরও প্রায় সাড়ে তিন মাস এ রাস্তায় কাটায়ছিলাম। আবারও রাস্তায় কাটাতি হচ্ছে, এ যে কি অভিশাপের জীবন। তা আপনাগে বুঝাতি পারবো না।’
পানিবন্দি মিজানুর রহমান নামের এক যুবক বলেন, পানিতে নামা যাচ্ছে না। একটু পানি গায় লাগলেই চুলকানি শুরু হয়। পানিতে নেমে কাজ করায় তার দুই হাতে ঘাঁ ভরে গেছে। মেডিকেল ক্যাম্পে গিয়েও ওষুধ মেলিনি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি টানা বর্ষণে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৫৫টি গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি ছিল। বর্তমানে কিছুটা পানি কমতে শুরু করেছে, তবে শ্যামকুড় ও চালুয়াহাটি ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে পানি সরতে না পারায় তা আটকে আছে। শ্যামকুড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, এ ইউনিয়নের চার হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। তার মধ্যে ১ হাজার ৪০০ পরিবার গরু ছাগল নিয়ে রাস্তায় উঠেছে। ত্রাণ সুবিধা যা পাচ্ছি তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) গৌতম ঘোষ বলেন, পানিবন্দি শ্যামকুড় ইউনিয়নের নাগোরঘোপ এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্পে পানিবন্দি মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে ওষুধ পাচ্ছে না এ কথা সঠিক নয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইয়ারুল হক বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জলাবদ্ধ মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। আরও বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবেদন করা হয়েছে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন