সখীপুর-গারোবাজার সড়ক চুক্তি হলেও শুরু হয়নি সংস্কার কাজ, দুর্ভোগ

বাংলারজমিন

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি | ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার
টাঙ্গাইলের সখীপুর-গারোবাজার ৩০ কিলোমিটার সড়কের পাঁচ বছর মেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চুক্তি হলেও লোকসানের ভয়ে রাস্তা সংস্কারে কাজ করছেন না ঠিকাদার। ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বড় বড় গর্তে প্রতিদিন যানবাহন পড়ে যানজট বাড়ছে। বাড়ছে দুর্ভোগ। ঠিকাদার বলছেন, গত এক মাস আগে অতিবৃষ্টির কারণে ওই সড়কের অনেক নতুন নতুন স্থান ভেঙে গেছে ও গর্তগুলো আরও প্রশস্ত হয়েছে। ফলে প্রাক্কলন ব্যয়ের সঙ্গে বর্তমান প্রাক্কলনের মিল না থাকায় ওই কাজে আমাকে লোকসান গুনতে হবে। তাই এই মুহূর্তে ওই সড়কের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
টাঙ্গাইলের সখীপুর, ঘাটাইল, মধুপুর ও ময়মনসিংহের ভালুকা, ফুলবাড়িয়া একাংশের রাজধানী শহর ঢাকা যাতায়াত করতে ওই সড়ক ব্যবহার করতে হয়।
স্থানীয় এলজিইডি কার্যালয় সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সখীপুর-গারোবাজার ৩০ কিলোমিটার সড়কের আগামী পাঁচ বছর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গত ৪ঠা মে দৈনিক পত্রিকায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। ৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকার এ কাজটি পায় হক ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত ২০শে জুন ঠিকাদারের সঙ্গে এলজিইডির চুক্তিপত্র সই হয়।
ওই সড়কের বড় বড় গর্তে প্রতিদিন বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য ভারি যানবাহন ফেঁসে গিয়ে যানজট হচ্ছে। দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা। ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার বাস-ট্রাক চলাচল করে।
ওই সড়কের বাস চালক আলমাছ মিয়া বলেন, সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্ত হয়েছে। ওই গর্তে প্রতিদিনই কোনো না কোনো যাবাহন ফেঁসে যাচ্ছে।
কলা ব্যবসায়ী শফিকুল বলেন, ওই সড়ক দিয়ে প্রতি সপ্তাহে তাঁর দুই ট্রাক কলা ও এক ট্রাক সবজি নিয়ে ঢাকা শহরে যেতে হয়। কিন্তু রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বাড়ছে।
ঠিকাদার সখীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য গোলাম কিবরিয়া বাদল। তিনি বলেন, জুলাই মাসের প্রথম ১৫ দিন সারা দেশে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় ওই সড়ক আগের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই সড়কের দরপত্রে যে প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে এর সঙ্গে বর্তমান রাস্তার প্রাক্কলনের সঙ্গে মিল নেই। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সখীপুর খাদ্যগুদামের পাশের রাস্তায় দরপত্রে ৪২ মিটার রাস্তা ভাঙা বলা হয়েছে। অথচ বর্তমানে বৃষ্টির কারণে ওই ভাঙা গর্তের দৈর্ঘ্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭২ মিটারে।
ঠিকাদার আরও বলেন, গত ১৫ দিন আগে টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে ওই কাজের প্রাক্কলন ব্যয় বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। আবেদন মঞ্জুর হলে কাজ শুরু করা হবে।
সখীপুর এলজিইডির প্রকৌশলী কাজী ফাহাদ কুদ্দুস বলেন, ওই সড়কে প্রতিদিন রাস্তায় গাড়ি ফেঁসে যাচ্ছে। সবাই ফোন করে আমাকে বকাঝকা করে। কিন্তু ঠিকাদার কাজ করছেন না। তবে তিনি স্বীকার করেন, অতি বৃষ্টিতে আগের চেয়ে রাস্তা আরও বেশি ভেঙে গেছে।
টাঙ্গাইলের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার মুঠোফোনে বলেন, ঠিকাদারের আবেদন পেয়েছি। সরেজমিন তদন্ত করে ঠিকাদারের বিষয়টি দেখা হবে। তবে ওই ঠিকাদারকে জরুরি ভিত্তিতে ওইসব গর্ত মেরামত করার জন্য তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ছিচকে চোর থেকে মাদক সম্রাট!

সুপারমডেল থেকে মাতৃসেবায়

বোতলে ভরা চিঠি সমুদ্র ফিরিয়ে দিল ২৯ বছর পর!

কার সমালোচনা করলেন বুশ, ওবামা!

১১ ঘন্টা পর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটের ফেরি চলাচল শুরু

জুমের মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারবেনা বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা

স্বাধীনতা নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে যাচ্ছে কাতালান

অস্ট্রেলিয়ার গহীন মরুতে ১৮শতাব্দীর বাংলা পুঁথি

হারভে উইন্সটেন যেভাবে হোটেলকক্ষে অভিনেত্রীকে যৌন নির্যাতন করেন

আজও সারাদিন বৃষ্টি

ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ পলিসির মূল স্তম্ভ হলো বাংলাদেশ

ভর্তি পরীক্ষায় ‘র‌্যাগের’ বিরুদ্ধে রাবি প্রশাসনের কঠোর অবস্থান

‘এই ধরনের কাজ করতে আমি সবসময়ই বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি’

মসজিদে গুলি ছোড়ার পর পাল্টে গেল এক মার্কিনীর জীবন

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির মচ্ছব

দৃশ্যপট একই