সন্তান বিক্রি পিতা আটক

বাংলারজমিন

শাহরাস্তি (চাঁদপুর) প্রতিনিধি | ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বিয়ের প্রলোভনে নিজ সন্তানকে বিক্রির অভিযোগে পিতাকে আটক করেছে পুলিশ। বিয়ে পাগল হারুনুর রশিদ (৫৫) বিয়ের কথায় পুলিশের সে ফাঁদে পা দেয়। বুধবার শাহরাস্তি থানা পুলিশ কুমিল্লার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে আটক করে, বৃহস্পতিবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে চাঁদপুর কোর্ট জেল হাজতে প্রেরণ করে। পুলিশ জানায়, রোববার ওই শিশুর মা কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর গ্রামের সাদা ব্যাপারি বাড়ির আলী আহম্মেদের মেয়ে আয়েশা আক্তার (৩০) তার স্বামীর নামে শাহরাস্তি থানায় শাহরাস্তি মানবপাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই অভিযোগের ভিত্তিতে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী রাজিবপুর গ্রাম থেকে শিশু জাহিদুল হোসেন ইব্রাহীমকে (৪) উদ্ধার ও ক্রেতা হাছিনা বেগমকে (২৭) আটক করে। গতকাল উপজেলার টামটা উত্তর ইউপি’র ইছাপুরা গ্রামের পশু ডাক্তার বাড়ির আ. অদুদের পুত্র স্বামী হারুনুর রশিদ শিশু সন্তান জাহিদুল (৪) ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে লাপাত্তা হয়ে যান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সন্তান বিক্রেতা হারুনকে আটকে পুলিশ আধুনিক সকল প্রযুক্তি ব্যবহার করে। একপর্যায়ে লাকসাম তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তার দুর্বলতা খুঁজতে প্রথমে শনাক্ত হয় বহু বিবাহের নেশার খবর। ওই সূত্র কাজে লাগিয়ে জনৈক মহিলা (সোর্স) দিয়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আটক করা হয়। আটককৃত হারুনুর রশিদ জানায়, জীবনের প্রথমে রিকশা চালানোর মাধ্যমে কর্ম শুরু হলেও বহু বিবাহের সুবাধে নানান জায়গায় পথ চলতে গিয়ে জড়িয়ে যান র‌্যাব, বিজিবি, জিআরপি পুলিশের সোর্সের কাজে। ১৯৮১ সালে চাঁদপুরে প্রথম স্ত্রী আলকুমাকে (৫৫) বিয়ে করেন। সে ঘরে সুমন (২৫) ও সুমিতা (১৮) নামে ২ সন্তান রয়েছে। তারা এখন আর তাকে পাত্তা দেয় না। পরে কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর গ্রামের আয়েশা আক্তারকে (৩০) বিয়ে করে। প্রথম সন্তান ওমর ফারুক (৮), দ্বিতীয় সন্তান জাহিদুল হোসেন ইব্রাহীমের (৪) জন্ম হয়। তৃতীয় বিয়ে ফেনীর সোনাগাজীতে, সে বিয়েও বেশি দিন টিকেনি। অন্য সূত্রে জানা যায়, লাকসাম, আখাউড়াসহ দেশের আরো বিভিন্ন স্থানে ৭-৮ টি বিয়ে করার নজির রয়েছে। এদিকে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাচ্চা জাহিদুল বিক্রি প্রসঙ্গে হারুনুর জানায়, আমি সন্তান পরিবার পরিজন নিয়ে অভাবে দিনানিপাত করছিলাম। একপর্যায়ে মাদক সেবন প্রসঙ্গ এলে হারুনুর বলেন, ভাত খেতে পাই না, মাদক খাইবো কেমনে। বহু বিবাহের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে বলেন, তার শরীরে এক সময় অনেক শক্তি ছিলো, ছিলেন ভোল্ডারের মতো। আর বিয়ের ইচ্ছে আছে কিনা এ প্রসঙ্গে হারুনুর জানান, এখন আর কি সে দিন আছে।   
শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান শিশু জাহিদুল উদ্ধারের দিন মামলার প্রধান আসামি হারুনুর রশিদকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে গণমাধ্যকে অবহিত করেন। তার এ ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত হারুনুরকে চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমানের দিক-নির্দেশনায় পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নূর হোসেন মামুনের নেতৃত্বে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রকিবুল ইসলাম, মোশারেফ হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে আটক করে। প্রসঙ্গত, আদালতের আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে তার পরিবারের নিকট বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশ নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ির রাজিবপুর গ্রামের রাশেদ প্রকাশ শান্ত’র স্ত্রী হাছিনা বেগমকে (২৭) শিশুটি ক্রয়ের অপরাধে চাঁদপুর জেলহাজতে প্রেরণ করে।


 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন