লক্ষ্মীপুরে ৪০ কিলোমিটার খানাখন্দ ভোগান্তিতে ৩০ জেলার মানুষ

বাংলারজমিন

আব্বাছ হোসেন, লক্ষ্মীপুর থেকে | ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার
 ঢাকা-রায়পুর মহাসড়কের লক্ষ্মীপুর অংশে (চন্দ্রগঞ্জ থেকে রায়পুর বর্ডার বাজার পর্যন্ত) ৪০ কিলোমিটার সড়ক বেহাল। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে সড়কটির পাড় ভাঙে ও কার্পেটিং উঠে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এতে ধীরগতিতে যান চলাচল করতে গিয়ে সৃষ্টি হয় যানজট। বিকল হচ্ছে যানবাহন এবং সড়কটি সরু হওয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনা। তাছাড়া বিগত ১৫ দিনের ভারি বর্ষণে মহাসড়কে আবার নতুন করে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে পানি জমে পুরো সড়কই এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দূরপাল্লার যানবাহনের হাজার হাজার যাত্রী ও পথচারী।
ভুক্তভোগীরা জানায়, পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে নৌ-রুটে ভোলা-বরিশালসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাতায়াত, ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের প্রায় ৩০টি জেলার মানুষের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এ সড়ক দিয়ে। একটিমাত্র সরু সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বেশি করায় বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। প্রতি বছর সমস্যা সমাধানে সংস্কার কাজ করলেও কিছুদিন না যেতেই তা আবার বেহাল হয়ে যায়। তাই যোগাযোগের সুবিধার্থে সরকারের স্পেশাল বরাদ্দের মাধ্যমে ঢাকা-রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি সংশ্লিষ্টদের।
সওজ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের সাথে দেশের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগের সুবিধার্থে ঢাকা-রায়পুর-লক্ষ্মীপুর অঞ্চলিক মহাসড়কটি নির্মাণ করা হয়। কয়েকবারই এর সংস্কার করা হয়েছে। সর্বশেষ গত অর্থবছরে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে রায়পুর বর্ডার বাজার থেকে রায়পুর পৌরসভা পর্যন্ত সংস্কার কাজ করা হয়। কিন্তু এক বছর না যেতেই বর্ষায় রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এ দিকে সম্প্রতি গত বছর সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসের হলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও কুমিল্লা মহাসড়কটি ৪ লেন করার ঘোষণা দেন। বছর বছর সংস্কারের নামে সরকারি প্রকল্পের টাকা নষ্ট না করে, মন্ত্রিসভায় বরাদ্দ অনুমোদনের মাধ্যমে ঢাকা-রায়পুর মহাসড়কটির ৪ লেন সড়ক দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু করার দাবি স্থানীয়দের। সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-রায়পুর মহাসড়কের নোয়াখালীর অংশে চৌমুহনী মিয়ারপোল, বেগমগঞ্জ স্কুল, চৌরাস্তার মোড় থেকে বেগমগঞ্জ থানা পর্যন্ত, পলোয়ান পোল থেকে চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজার পর্যন্ত সড়ক বেহাল। লক্ষ্মীপুর অংশের চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিমবাজার থেকে কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ পর্যন্ত, হাজিরপাড়া, মান্দারী, জকসিন, পুলিশ লাইন্স, লক্ষ্মীপুর উত্তর তেমুহনী, দালাল বাজার, রাখালিয়াসহ চাঁদপুর সীমান্তবর্তী এলাকার রায়পুর বর্ডার বাজার পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার সড়কে বড় বড় অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে মৃত্যুর কূপে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়কের দুপাশের স্লোডারে মাটি সরে পাশ ভেঙে গেছে। উঠে গেছে কার্পেটিংও। তাছাড়া সড়কটি সরু হওয়ায় প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনাও। এতে মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে ধীরগতিতে গাড়ি চলায় প্রায় সময় জ্যাম লেগে থাকে। ফলে অফিস, আদালতগামী জনসাধারণ যথাসময়ে গন্তব্যেস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না। চালক ও যাত্রীরা জানায়, সাময়িক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগের রাস্তা সংস্কার করার নামে কিছুদিন পর পর ইট ফেলার কারণে তা এখন বিষ ফোঁড়ার মতো ফুলে উঠেছে। এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে আড়াই-তিন ঘণ্টার রাস্তাও ৬-৭ ঘণ্টা লেগে যায়। এ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। জোনাকি বাস সার্ভিস কাউন্টারের ম্যানেজার মো. বাচ্চু বলেন, দৈনিক ৫৫-৬০টি জোনাকি বাস আপডাউন করে এ সড়ক দিয়ে। বেহাল সড়কের কারণে সময়মতো যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে আমরাও চরম বেকায়দায় পড়ি। লক্ষ্মীপুর জেলা বাস-মিনিবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান হাজী জানান, ঢাকা-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে দৈনিক ৩০০টি বাস, ২৫০টি ট্রাক ও দেড় হাজারেরও বেশি সিএনজি চলাচল করে। তাছাড়া মজুচৌধুরীর হাট নৌ-রুট হয়ে ভোলা-বরিশালের বাণিজ্যিক যাতায়াতও এ সড়টি দিয়ে হয়। কিন্তু রাস্তার বেহালের কারণে সবাইকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ সড়কটি ৪ লেন হওয়া অতি জরুরি। তাই দ্রুত এর বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি। লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, ঢাকা-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের লক্ষ্মীপুর অংশের চন্দ্রগঞ্জ থেকে রায়পুর বর্ডার বাজার পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার রাস্তা প্রস্থ ও সংস্কার কাজের জন্য ১৩০ কোটি টাকা অনুমোদ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ই আগস্ট ‘আঞ্চলিক মহাসড়ক যথযাযথ মান ও প্রস্থতার উন্নয়ন করণ’ প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লা সওজ বিভাগের অধীনে এর দরপত্র আহ্বান করা হবে। এদিকে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, বর্ষার কারণে কোনো কাজই করা যাচ্ছে না। ১৩০ কোটি টাকা প্রকল্পের সংস্কার কাজ শুরু করতে অনেক সময় লাগবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাময়িকভাবে ইট-বালি দিয়ে আপাতত সংস্কার করা হবে, পরবর্তী সময় প্রকল্পের কাজ করা হবে।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বিজয় দিবসে দেশ গড়ার দৃপ্ত শপথ

বঙ্গবন্ধুর গৃহবন্দি পরিবারকে যেভাবে উদ্ধার করেছিলেন কর্নেল তারা

থ্যাংক ইউ জেনারেল, উই আর অলরেডি বার্নিং, ডোন্ট অফার আস ফায়ার

রাহুল গান্ধীর অভিষেক

চাল-পিয়াজের দামে অসহায় ক্রেতারা

সিলেটে চার বন্ধুর একসঙ্গে বিদায়

রহস্য ভূমিকায় জামায়াত

শোকে মলিন চট্টলা

কিশোরগঞ্জে ২ সাংবাদিক ও বান্দরবানে ৪ পুলিশকে পেটালো ছাত্রলীগ

জৈন্তাপুরে লিয়াকত আলীই এখন শেষকথা

রাজধানীতে আওয়ামী লীগের বর্ণাঢ্য র‌্যালি

বড় দু’দলেই একাধিক প্রার্থী

ছায়েদুল হকের জন্য কাঁদছে নাসিরনগর

ব্রাজিল ফুটবলের প্রধান ৯০ দিন নিষিদ্ধ

ঝিকরগাছায় ছাত্রলীগ কর্মী খুন, সড়ক অবরোধ

উৎসবের আমেজে সারাদেশ