ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে ঘরবাড়ি ফসলি জমি পাকা রাস্তা

বাংলারজমিন

এফ আই সুমন, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) থেকে | ১২ আগস্ট ২০১৭, শনিবার
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদে শুরু হয়েছে ভাঙন। নদের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও মরিচারচর-উচাখিলা পাকা সড়ক। ভাঙনের তীব্রতায় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ। ইতিমধ্যে অনেকাংশ নদীতে বিলীন হওয়ায় আতংকে রয়েছে শতাধিক পরিবার। উত্তাল ব্রহ্মপুত্রে পাকা সড়কটি ভেঙে পড়ায় মরিচারচর গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়বে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ওই অবস্থায় সড়কটি রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ব্রহ্মপুত্র নদের কোল ঘেঁষা উপজেলার মরিচারচর গ্রামের কয়েকটি ইউনিয়টে প্রায় এক মাস ধরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় ভাঙনের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে বাড়িঘর ও ফসলি জমি, রাস্তাঘাট নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মরিচারচর উত্তরপাড়া এলাকায় গত ২০১৬ সালে ৩৭৪ মিটার একটি বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটির নির্মাণ কাজ করায়। কিন্তু বাঁধটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার কিছুদিন পরই ভাঙনের দেখা দেয়। ফলে বাঁধের দুটি অংশ নদীগর্ভে চয়ে যায়। নিম্নমানের কাজ করার কারণে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। ওই অবস্থায় বাঁধটি রক্ষায় বালির বস্তা ফেলা হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে এলাকায় এবার ফের বাঁধ ভাঙন দেখা দিয়েছে। মরিচারচর উত্তরপাড়া গ্রামের বাঁধটির যে অংশে ভাঙছে তার উপরের অংশে বসবাস করছে বেশ কয়েকটি পরিবার। তারা সবাই ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
উচাখিলা ইউনিয়নের উচাখিলা বাজার থেকে মরিচারচর চুমকির বাজার পর্যন্ত একটি পাকা সড়ক নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ব্রহ্মপুত্রের তীর ঘেঁষা সড়কটিতে গত কয়েকদিন ধরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মরিচারচর মুন্সিবাড়ি মোড় এলাকায় কয়েকটি স্থানীয় সড়কের প্রায় অর্ধেকাংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তুবও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ছোট যানবাহন ও মানুষ। প্রায় ২০ হাজার মানুষের চলাচলের জন্য একমাত্র এ সড়কটিতে ভাঙন শুরু হওয়ায় ওই অঞ্চলের মানুষ শঙ্কায় রয়েছে। সড়টি ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে চলে গেলে ইউনিয়ন সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে গ্রামের মানুষ। সড়কটি বিলীন হলে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীদের স্কুল কলেজে যাওয়া আসা বন্ধ করে দিতে হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
মরিচারচর মুন্সিবাড়ি এলাকার হারুন অর রশিদ ও আবুল বাশারসহ কয়েকজন জানান, গত প্রায় ১৫ দিন ধরে যোগাযোগের একমাত্র সড়কটি ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। এখন পুরো সড়ক বিলীন হওয়ার পথে। সড়কটি নদে বিলীন হলে মরিচারচরের সঙ্গে উচাখিলার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।
উচাখিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে প্রায় ১০টি পরিবার গৃহ হারিয়েছে, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরো অন্তত শতাধিক পরিবার। ভাঙনকবলিত এলাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের লোকজন পরিদর্শন করে গেছেন। তিনি আরো জানান, উচাখিলা-মরিচারচর সড়কটির বেশকিছু অংশ ভেঙে নদীতে চলে গেছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এলজিইডির স্থানীয় উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর জানান, সড়কটি সংস্কার কাজ যে ঠিকাদার পেয়েছিলেন তিনি কাজ করতে না পারায় তা বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়েছে। নতুন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে ঠিকাদার সড়কটি সংস্কার কাজ পাবে তারা নদী ভাঙন থেকে সড়কটি রক্ষায় কাজ করবে।
ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী জানান, বাঁধের উজানে ভাঙনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় পুরো নদী রক্ষা বাঁধটি ভাঙনের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বাঁধ রক্ষায় বালিভর্তি জিও ব্যাগ, বালিভর্তি বস্তা ফেলার প্রস্তুতি চলছে।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন