হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে হাজারো মুসলিম নেতা, ইমামের প্রস্তাব

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৯ আগস্ট ২০১৭, বুধবার
২৬/১১ হামলার মূল হোতা বলে পরিচিত ও জামায়াতুদ দাওয়া প্রধান হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পাস করেছেন ভারতের এক হাজারের বেশি মুসলিম ধর্মীয় নেতা ও ইমাম। ওই প্রস্তাবে ভারত বিরোধী কর্মকা-ে লিপ্ত থাকায় শাস্তি দাবি করা হয়েছে হাফিজ সাঈদের। মুম্বইয়ের মাদ্রাসা দারুল উলুম আলী হাসান আহলে সুন্নাত-এ এক সমাবেশে এ প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। এতে হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়েছে, প্রস্তাব পাসের একটি কপি পাঠানো হয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাউন্টার টেরোরিজম কমিটিতে। আরেকটি কপি পাঠানো হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অফিসে। এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন মুম্বই ভিত্তিক এনজিও ইসলামিক ডিফেন্স সাইবার সেলের প্রধান ড. আবদুর রহমান আনজারিয়া। তিনি বলেছেন, হাফিজ সাঈদ ও তিনি যেসব সংগঠনের নেতৃত্ব দেন তা বিশ্ব শান্তির জন্য হুমকি। তিনি ভারতকে এক নম্বর শত্রু বলেছেন। কিন্তু তিনি নিজেই তো ইসলাম ও মানবতার শত্রু। উল্লেখ্য, হাফিজ সাঈদ লস্করে তৈয়বার সহ প্রতিষ্ঠাতা ও জামায়াতুদ দাওয়া’র প্রধান। এ সংগঠন পরিচালনা করা হয় মুলত পাকিস্তান থেকে। জাতিসংঘ একে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে অবরোধ দিয়েছে জাতিসংঘ। তাই হাফিজ সাঈদকে আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসী হিসেবে দেখা হয়। তবে পাকিস্তানে কিছু ধর্মীয় গ্রুপের কাছে তিনি খুব প্রভাবশালী। ২০১২ সালের এপ্রিলে তাকে ধরিয়ে দিতে এক কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৮ সালের ২৬ শে নভেম্বর মুম্বইয়ে সন্ত্রাসী হামলায় তার জড়িত থাকার অভিযোগে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়। মুম্বইয়ের ওই হামলায় কমপক্ষে ১৬৪ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হন। এর মধ্যে ৬ জন যুক্তরাষ্ট্রের। তবে তাকে ধরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের এ পুরস্কার ঘোষণার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছিল পাকিস্তানে। মুম্বইয়ের ইসলামিক ডিফেন্স সাইবার সেলের ড. আবদুর রহমান আনজারিয়া এর আগে ২০১৫ সালে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে ফতোয়া দেন। তাতেও স্বাক্ষর করেছিলেন ভারতের এক হাজারের বেশি মুসলিম ধর্মীয় নেতা ও ইমাম। তবে হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে আনীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রায় ৬০ টি সন্ত্রাসী সংগঠন। তাদের বিরুদ্ধে ওই প্রস্তাবে ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাব পাসের কারণ সম্পর্কে মাদ্রাসা দারুল উলুম আলী হাসান আহণে সুন্নাতের পৃষ্ঠপোষক মাওলানা মোহাম্মদ হাসিশ আশরাফ বলেন, ইসলামের নামে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা সমর্থন করা অথবা হত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় নৈতিকভাবে বাধ্য ধর্মীয় নেতারা। হাফিজ সাঈদ যে তরুণ প্রজন্মের মাঝে সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই আমরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। তার আদর্শ প্রচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। ১৩ পৃষ্ঠার ওই প্রস্তাবে কাশ্মির প্রসঙ্গও আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, কাশ্মির হলো ভারতের আভ্যান্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষের মাথা ঘামানোর কিছু নেই।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন