দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৯ আগস্ট ২০১৭, বুধবার
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোট হওয়ার কথা  ছিল গতকাল মঙ্গলবার। এতে তার বিরুদ্ধে তার দলের কয়েকজন এমপি ভোট দেয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছেন। ফলে জ্যাকব জুমা ক্ষমতায় থাকতে পারবেন কিনা তা নিয়ে আলোচনা ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা সহ সারা বিশ্বে। মঙ্গলবার সেখানকার পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাবে গোপন ব্যালটে ভোট দেয়ার কথা পার্লামেন্ট সদস্যদের। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই ভোট শুরু হওয়া বা তার ফল জানা যায় নি। জুমার বিরুদ্ধে এমন ভোটের আকস্মিক ঘোষণা দিয়েছেন ন্যাশনাল এসেম্বলির স্পিকার বালেকা মবেতে। প্রেসিডেন্ট জুমার বিরুদ্ধে রয়েছে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ। সম্প্রতি তার জনপ্রিয়তা ক্ষয়ে গেছে অনেকটা। এর ফলে বিরোধীরা তো অবশ্যই, একই সঙ্গে তার নিজের দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) অনেক সদস্যই তার পদত্যাগ দাবি করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তার বিরুদ্ধে ওই ভোট হওয়ার কথা। সোমবার রাজধানী কেপ টাউনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ভোটের এ ঘোষণা দেন স্পিকার মবেতে। তিনি বলেন, পার্লামেন্ট যে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সেটা দেখানোর জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, স্পিকার বালেকা মবেতে দীর্ঘদিন প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার মিত্র বলে পরিচিত। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। ওদিকে বিরোধী দল কংগ্রেস অব দ্য পিপল-এর নেতা মোসিউওয়া লেকোতা গোপন ব্যালটের এই ভোটকে পরিস্থিতির পরিবর্তন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সোমবার কেপটাউনে পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে বিক্ষোভ হয়েছে জ্যাকব জুমা বিরোধী। তবে অনাস্থা ভোটকে সামনে রেখে গতকাল পার্লামেন্টের বাইরে ব্যাপক আকারে বিক্ষোভ পরিকল্পনা নেয় বিরোধীরা ও সরকার সমর্থকরা। বিরোধীরা বেশ কয়েক মাস ধরে জ্যাকব জুমার বিরুদ্ধে গোপন ব্যালটে অনাস্থা ভোটের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তাদের দাবি, জুমার দল আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) অনেক হতাশ সদস্য উন্মুক্ত ব্যালটে ভোট হলে তার বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার সাহস পাবেন না। তাই তারা দাবি তুলেছিলেন গোপন ব্যালটে ভোট আয়োজনের। জুমার বিরুদ্ধে এই অনাস্থা ভোটের বিল উত্থাপন করেছেন বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স। যদি তাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে হয় বা প্রস্তাব পাস করাতে হয় তাহলে পার্লামেন্টের ৪০০ ভোটের মধ্যে প্রস্তাবের পক্ষে কমপক্ষে ২০১টি ভোট পড়তে হবে। পার্লামেন্টে এএনসির রয়েছে ২৪৬টি আসন। ফলে তারা স্বাভাবিকভাবে প্রেসিডেন্ট জুমাকে সমর্থন দেবেন এমনটাই হওয়ার কথা। তারা সবাই জুমাকে ভোট দিলে তার গায়ে কোনো আঁচড় লাগবে না। কিন্তু বিপদের কথা শুনিয়েছেন নিজের দলের কিছু এমপি। তারা প্রকাশ্যে বলেছেন প্রেসিডেন্ট জুমার বিরুদ্ধে ভোট দেবেন। এমন এমপির সংখ্যা কত তা সুনির্দিষ্ট নয়। ফলে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না জুমার পরিণতি কি হতে যাচ্ছে। এক রকম ক্লাইম্যাক্স সৃষ্টি হয়েছে এ নিয়ে। পার্লামেন্টে এ নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত কেউ পূর্বাভাসও করতে পারেন নিা। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট গোপন ব্যালটে দেয়া যাবে কিনা তা নির্ভর করে পার্লামেন্টের স্পিকারের ওপর- জুন মাসে এমন রায় দেন দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ আদালত। তারই ধারাবাহিকতায় ভাগ্য পরীক্ষার সামনে পড়েন জ্যাকব জুমা। দল এএনসি তার এমপিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিতে। পার্লামেন্টে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ব্যবহার করে জুমাকে সমর্থন করতে বলা হয়েছে। এএনসির চিফ হুইপ জ্যাকসন মথেম্বু ৪ঠা আগস্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট জুমার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়ার অর্থ হবে আমাদের দেশে একটি পারমাণবিক বোমা ছুড়ে দেয়ার মতো। তবে সম্প্রতি এএনসির দু’জন প্রথম সারির নেতা প্রেসিডেন্ট জুমার সমালোচনা করেছেন। তারা প্রকাশ্যে বলেছেন, তারা জুমার বিরুদ্ধে ভোট দেবেন। ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর এর আগে ৬ বার অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হয়েছেন জ্যাকব জুমা। তবে প্রতিবারই তিনি রক্ষা পেয়েছেন।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন