বৃটিশের চাপিয়ে দেয়া দেশ ভাগ ছিল অমানবিক

বই থেকে নেয়া

| ২ আগস্ট ২০১৭, বুধবার
ও. ফা. : তার মানে?
ই. গা. : বলছি, শোন। আমেরিকা সব সময় ভেবেছে যে তারা পাকিস্তানকে সাহায্য করছে। আমেরিকা যদি পাকিস্তানকে সাহায্য না করতো, পাকিস্তান একটি শক্তিশালী দেশে পরিণত হতো। গণতন্ত্রের সামান্য নমুনাকে অস্বীকার করে এমন একটি সামরিক জান্তাকে সমর্থন করার অর্থ একটি দেশকে সাহায্য করা নয়। পাকিস্তানকে পরাজিত করেছে তার সামরিক জান্তা। এই জান্তা আমেরিকানদের সমর্থনপুষ্ট।
কখনো কখনো বন্ধুরাই বিপজ্জনক। বন্ধুদের সাহায্য সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকা উচিত।
ও ফা : চীনাদের সম্পর্কে? চীনারাও তো পাকিস্তানের পক্ষে ছিল এবং আমার যদি ভুল না হয় তাহলে চীনারাই ভারতের সবচেয়ে বড় ও বিপজ্জনক শত্রু।
ই গা : না, চীন ও ভারত কেন শত্রু হবে, তা আমি বুঝি না। আমরা তাদের শত্রু হতে চাই না। তারা যদি শত্রু হতে চায়, তাহলে আমরা কি করতে পারি। কারণ চূড়ান্ত বিশ্লেষণে দেখা যাবে যে, এই শত্রুতায় তাদের কল্যাণ নেই। এই যুদ্ধে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বলতে গেলে... মনে হয়, আমেরিকানদের চেয়ে তার দক্ষ এবং পাকিস্তানের জন্য আরো বেশি করতে পারতো। আমেরিকানরা বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল, চীনারা নয়। তবুও আমি চীন সীমান্ত থেকে আমাদের সৈন্য সরিয়ে নেইনি এবং আমার কখনো বিশ্বাস হয়নি যে, চীনারা হস্তক্ষেপ করবে। অন্যভাবে বলা যায়, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিপদ আমি বিশ্বাস করিনি। স্বাভাবিকভাবে যদি আমেরিকানরা একটা গুলি ছুড়তো, বঙ্গোসাগরে বসে থাকা ভিন্ন সপ্তম নৌবহর যদি বেশি কিছু করতো... হ্যাঁ, তাহলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বেঁধে যেতে পারতো। কিন্তু আমার সে ভয় আসেনি।
ও ফা : আপনার সঙ্গে যুদ্ধ সম্পর্কে আলাপ করতে খুব অবাক লাগছে, কারণ আপনি অহিংস মন্ত্র পাঠ করেই বড় হয়েছেন। আমার আরো অবাক লাগে, যুদ্ধের দিনগুলোতে আপনি কেমন অনুভব করেছেন।
ই গা : তোমার মনে রাখতে হবে যে, এটা আমার প্রথম যুদ্ধ ছিল না। অন্যদেরকেও মোকাবিলা করতে হয়েছে। ‘অহিংসা’ সম্পর্কে ছোট্ট একটা গল্প বলবো। ১৯৪৭ সালে ভারত সবে স্বাধীন হয়েছে, তখনই পাকিস্তান কাশ্মীরে অভিযান চালালো। কাশ্মীর তখন এক মহারাজা শাসন করতেন। মহারাজা পালিয়ে গেলেন এবং শেখ আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে কাশ্মীরিরা ভারতের সাহায্য চাইলেন। লর্ড মাউন্ট ব্যাটেন তখনো ভারতের গভর্নর জেনারেল। তিনি উত্তর দিলেন যে, পাকিস্তান যুদ্ধ ঘোষণা না করা পর্যন্ত তার পক্ষে কাশ্মীরে কোনো সাহায্য দেয়া সম্ভব নয় এবং পাকিস্তানিরা যে জনগণকে হত্যা করছে তাতে তিনি বিচলিত হয়েছেন এমনও বোধ হলো না। আমাদের নেতৃবৃন্দ একটি দলিলে সই করার সিদ্ধান্ত নিলেন যার দ্বারা তারা নিজেদেরকে পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করতে বাধ্য করলেন। অহিংস মন্ত্রের প্রবক্তা গান্ধীও সই করেছিলেন। তিনি যুদ্ধ চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এছাড়া আর কিছু করার ছিল না। যখন কেউ কাউকে রক্ষা করবে তখন যুদ্ধ অনিবার্য।
ও ফা : এই যুদ্ধ দেখে আমার মনে হয়েছে এটা দুই ভাইয়ের মধ্যে যুদ্ধ। এ কথা আমি জেনারেল অরোরা এবং জেনারেল নিয়াজীকেও বলেছি। উভয়েই উত্তর দিয়েছেন ‘মূলত আমরা ভাই।’
ই গা : মূলত নয় বরং পুরোপুরি ভাই। ভারতীয় ও পাকিস্তানিরা ভাই। আমি জানি, ঢাকার পতনের পর পাকিস্তানি ও ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তাদের করমর্দন করতে দেখে তোমরা অবাক হয়েছো। কিন্তু ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত আমাদের বাহিনী ও পাকিস্তানি বাহিনীতে সৈনিক থেকে জেনারেল পর্যন্ত পরস্পর ভাই ছিল। রক্ত সম্পর্কের ভাই। একই পিতা ও মায়ের সন্তান। অথবা তুমি একপক্ষে চাচাকে, অপরপক্ষে ভাতিজাকে দেখতে। এক ভাই ভারতীয় বাহিনীতে আরেক ভাই পাকিস্তানি বাহিনীতে। এখনো এ অবস্থাটাই সত্য। আমি তোমাকে আরো কিছু বলবো। এমনও সময় ছিল সুইজারল্যান্ডে ভারত ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত দুই সহোদর ভাই। বৃটিশের চাপিয়ে দেয়া দেশ বিভাগ সত্যিই অমানবিক ছিল। এর ফলে শুধু পরিবার বিভক্ত হয়েছে, ভেঙে গেছে। আমি এখনও সেই ভয়াবহ ঘটনাগুলো স্মরণ করি। অনেক লোক দেশ ত্যাগ করেছে। অনেকে দেশ ত্যাগ করতে চায়নি। বহু মুসলিম ভারত ছেড়ে পাকিস্তানে যেতে চায়নি। কিন্তু সুযোগ-সুবিধা লাভের প্রোপাগান্ডায় তারা দেশ ছেড়েছে। অপরদিকে বহু হিন্দু পাকিস্তান ছাড়তে চায়নি। তাদের সম্পর্ক সেখানে ছিল, সম্পত্তি ছিল। অতএব তারা রয়ে গেছে।
আমরা যে শত্রু হয়েছি, এটা অসম্ভব মনে হয়। যখন তুমি ভাববে যে, হিন্দু ও মুসলমানরা একত্রে স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালনা করেছে তখন এই শত্রুতাকে অসম্ভব মনে হবে। এ কথা সত্যি যে, বৃটিশদের সময়েও বিবদমান কিছু গ্রুপ ছিল। সংঘর্ষ হয়েছে। পরে আমরা দেখেছি, যারা চায়নি যে আমরা একত্রে বাস করি তারাই সংঘর্ষের প্ররোচনা দিয়েছে। ভারতীয় ও পাকিস্তানি যদি একত্রে থাকে... আমি কনফেডারেশনভুক্ত দেশের কথা বলছি না, সৎ প্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে ইতালি ও ফ্রান্সের মতো... বিশ্বাস করো আমাদের উভয়ের আরো অগ্রগতি হতো। কারো স্বার্থে আমরা সব সময় যুদ্ধ করেছি। পাকিস্তানিদের দোষ আমি দেই না। আমাদেরকে আক্রমণ করতে কেউ তাদেরকে উৎসাহিত করেছে। অস্ত্র দিয়েছে এবং তারা আমাদের আক্রমণ করেছে।
ও ফা : ভুট্টো বলেছেন যে, তিনি ভারতের সঙ্গে কনফেডারেশন গঠনে প্রস্তুত। সে সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী মিসেস গান্ধী।
ই গা : তুমি জানোÑ ভুট্টো ভারসাম্যপূর্ণ লোক নয়। যখন তিনি কথা বলেন, তুমি বুঝবে না তিনি কী বুঝাতে চান। এখন তিনি কী বুঝাতে চেয়েছেন? আমাদের বন্ধু হতে চান? আমরা তো কিছুদিন তার সঙ্গে বন্ধু হতে চেয়েছিলাম। আমি সব সময়ই তা চেয়েছি। পাশ্চাত্য লোকেরা কিছু বিষয় জানে না। পাশ্চাত্যের সংবাদ মাধ্যমগুলো সব সময় প্রচার করছে যে, ভারত পাকিস্তানের শত্রু এবং পাকিস্তান ভারতের। তারা জানে না যে, আমরা দুটি দেশে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার পর থেকে আমার পার্টি এই দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তখন থেকে আমরা নীতি গ্রহণ করেছি যে ধর্মীয় বিদ্বেষ ভ্রান্ত এবং অবাস্তব। সংখ্যালঘুদের একটি দেশ থেকে নির্মূল করা যেতে পারে না। বিভিন্ন ধর্মের লোকজন অবশ্যই এক সঙ্গে বাস করবে।
কিন্তু বর্তমান বিশ্বে কী করে সম্ভব যে, ধর্মীয় কারণে পরস্পরকে হত্যা করার ঘটনা চলতেই থাকবে? এখন আমরা যে সমস্যায় ভুগছি তা ভিন্ন। এসব সমস্যা হচ্ছে দারিদ্র্য, ব্যক্তি অধিকার এবং প্রযুক্তি পরিবর্তন। এগুলো ধর্মের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিশ্বজনীন সমস্যা। পাকিস্তান এবং আমরা একই সমস্যায় জর্জরিত। যখন লোকজন উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে যে, ধর্ম বিপদগ্রস্তÑ আমি খুব গুরুত্ব দেই না। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ভারতে বহুলোক এ কথা বলছে। তারাই বলে যে, ‘আমরা কোনো দিন পাকিস্তানিদের অস্তিত্বকে মেনে নিইনি। যেহেতু পাকিস্তান আছে। অতএব তাকে ধ্বংস করতে হবে।‘ কিন্তু এ ধরনের গুটিকয়েক উন্মাদের জনগণের মধ্যে কোনো ভিত্তি নেই।
ভারতে তুমি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রচারণা দেখবে না। যুদ্ধের সময় সামান্য প্রচারণা ছিল, স্বাভাবিক। তবু নিয়ন্ত্রিত ছিল। পাকিস্তানিরা এতে বিস্মিত হয়েছে। বন্দিশিবিরের হাসপাতালে বন্দিরা আশ্চর্য হয়ে বলেছে, ‘তুমি হিন্দু চিকিৎসক হয়ে আমাকে সারিয়ে তুলবে?’ আমি ভুট্টোকে শুধু এটুকু বলতে চাই যে, তিনি যদি জানেন যে, তিনি কী বলছেন? তিনি বলছেন, যা বলা উচিত। তিনি যদি তা বলে না থাকেন, তাহলে তার ভবিষ্যৎ কী হবে? আমাকে বলা হয়েছে ভুট্টো উচ্চাভিলাষী। আমি তার উচ্চাভিলাষ আশাও করি। উচ্চাশা তাকে বাস্তব অনুধাবনে সহায়তা করবে।
ও ফা : মিসেস গান্ধী, আপনি তো ধার্মিক নন? আসলে কি?
ই গা : ভালো কথা, এটা নির্ভর করে তোমার কাছে ধর্ম শব্দটির অর্থ কী? আমি অবশ্যই মন্দিরে যাই না, ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি না। কিন্তু ধর্ম দ্বারা যদি শুধু ভগবান ছাড়া মানবতার প্রতি বিশ্বাস বুঝি, যার যার দ্বারা মানুষের কল্যাণ হবে, তাহলে আমি ধার্মিক।
ও ফা : তাহলে আমার প্রশ্নটা বিরক্তিকর ছিল না?
ই গা : না, তা কেন হবে।
ও ফা : কিন্তু এবারের প্রশ্নটা বিরক্তিকর। আপনি সব সময় জোট নিরপেক্ষ নীতি ঘোষণা করেছেন। তাহলে গত আগস্টে আপনি ভারত-সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন কেন। এ দুয়ের মধ্যে কি কোনো দ্বন্দ্ব নেই?
ই গা : না, আমি তা বলবো না। জোট নিরপেক্ষ অর্থ কী? এর অর্থ আমরা কোনো সামরিক জোটভুক্ত নই এবং স্বাধীনভাবে যে কোনো দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার অধিকার আমাদের আছে। ভারত-সোভিয়েত চুক্তি স্বাক্ষরের পরও সকল নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যেরা যা বলুক বা ভাবুক, সোভিয়েত ইউনিয়নের কারণে আমাদের নীতির পরিবর্তন হবে না। আমরা ভালোভাবেই জানি, আমাদের লক্ষ্য বিশ্ব শান্তির সঙ্গে জড়িত। আমাদের ভৌগোলিক অবস্থানটা লক্ষ্য করলে দেখবে সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্য ভারত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক কোনো বিষয়ই বদলে যায়নি। এর দ্বারা অন্য দেশের বন্ধু হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়নি। জোট নিরপেক্ষ থাকার শর্তেও কোনো বাধা আসেনি এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং অন্য কেউ খুশি হবে কি হবে না, তা তোয়াক্কা না করেই আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে থাকবো। চুক্তি স্বাক্ষরের মাসখানেক পরে কেউ একজন চৌ এন লাইকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে বললে তিনি বলেছিলেন, ‘এর দ্বারা কোনো কিছু বদলে যায়নি বা পার্থক্য সৃষ্টি হয়নি।
ও ফা : নিকট ভবিষ্যতে হ্যানয়ে ভারতীয় দূতাবাস খুললেই পার্থক্যটা লক্ষ্য করা যাবে। আপনি তো ভিয়েতনামের জন্য আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ কমিশনের প্রধান। এর অর্থ কী? আপনি কী কমিশনের সদস্যপদ ও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ত্যাগ করবেন?
ই গা : আমি জানি না। স্পষ্টত কিছু সমস্যা হচ্ছে...। এখনো ভাবিনি কীভাবে সমাধান করবো। এ ব্যাপারে বলবোই বা কী। শোন তাহলে, আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ কমিশন কিছু করছে না, কখনো কিছু করেনি। হ্যানয়ে দূতাবাস খোলার আগে আমাকে ভাবতে হবে, কিন্তু এটা খুব বেদনাদায়ক সিদ্ধান্ত নয়। সায়গনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয় এবং আমি যা করেছি তাতে আমি সন্তুষ্ট।
ও ফা : তাহলে জনগণের ধারণাই যথার্থ যে আপনার পিতার চেয়ে আপনি অনেক বাম ঘেঁষা?
ই গা : পৃথিবী যে ডান ও বামে বিভক্ত হয়ে গেছে আমি এমন কিছু দেখি না। কে ডানে বা কে বামে বা মধ্যস্থলে তারও তোয়াক্কা করি না। আমরাও যদি শব্দগুলো ব্যবহার করি, হ্যাঁ আমি নিজে করিÑ কিন্তু এগুলোর তেমন তাৎপর্য নেই। কোনো চিহ্নে আমার আগ্রহ নেইÑ আমি শুধু সুনির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করতে চাই। আমি একটা লক্ষ্যে পৌঁছতে চাই। আমার পিতার যে লক্ষ্য ছিল তা থেকে আমার লক্ষ্য ভিন্ন নয়Ñ জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, দারিদ্র্যের ক্যানসার বিদূরণ, অর্থনৈতিক পশ্চামপদতার পরিণতি নির্মূল। আমি সফল হতে চাই এবং সম্ভাব্য উত্তম পন্থায় সফল হতে চাই। তাতে জনগণ আমাকে বামপন্থি বা ডানপন্থি বললে এ আমি তোয়াক্কা করি না।
আমরা যখন ব্যাংক জাতীয়করণ করি তখনো এই প্রশ্নটা ছিল। জাতীয়করণের মুখরোচক কথার জন্য জাতীয়করণ নয় বা জাতীয়করণ সকল অবিচার দূর করবে সে কারণেও নয়; যেখানে প্রয়োজন আমি সে ক্ষেত্রে জাতীয়করণের পক্ষে। যখন প্রথম আমরা জাতীয়করণের কথা বিবেচনা করছিলাম, তখন আমার পার্টিতে কেউ পক্ষে, আবার কেউ বিপক্ষে ছিল। পার্টিকে ভাঙন থেকে রক্ষা করতে আমি আপসের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। ব্যাংকগুলোকে এক বছর সময় দেয়া হোক। এর মধ্যে যদি তারা দেখাতে পারে যে, জাতীয়করণ জরুরি নয়- তাহলে সে প্রশ্নই আসবে না। বছর কাটলো এবং আমরা উপলব্ধি করলাম, ফলাফল ভালো নয়। অর্থ ধনী শিল্পপতি বা ব্যাংকারদের বন্ধুদের হাতে চলে যাচ্ছে। ফলে জাতীয়করণ করলাম। এটা সমাজতান্ত্রিক পদক্ষেপ বা সমাজতন্ত্রবিরোধী তা বিবেচনার বদলে প্রয়োজনটাকেই অধিক গুরুত্ব দিয়েছি। এজন্য কেউ আমাকে বামপন্থি ভাবলে সে বোকা।
ও ফা : যা হোক, আপনি বহু ক্ষেত্রেই সমাজতন্ত্র শব্দটি ব্যবহার করেন।
ই গা : হ্যাঁ, কারণ আমি যা করতে চাই, এটা তার কাছাকাছি এবং সকল সমাজে একধরনের সমাজতন্ত্র কার্যকর। একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাম্য অর্জিত হয় এর মাধ্যমে। কিন্তু আজকাল সমাজতন্ত্রের অর্থ অসংখ্য এবং ব্যাখ্যাও বিভিন্ন। রুশরা নিজেদেরকে সমাজতন্ত্রী বলে, সুইডিশরাও সমাজতন্ত্রী এবং ভুললে চলবে না যে, জার্মানিতেও জাতীয় সমাজতন্ত্র আছে। (চলবে)

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

mohammad ali

২০১৭-০৮-০২ ০৭:৩১:৫৯

d r sir, the topic written BY F.A.WITH MRS.INDIRA GANDHI, is very nice n interesting. thanks, a lot. md.ali, in qatar, moali49@YAHOO.COM. WRITER OF POEMS ON INDIRA GANDHI, SK.MUJIB, N QUEEN ELIZ. ETC. NB: SORRY SIR, THE WRITER MAY BE OMAR FARUQ,= (O.F.)

আপনার মতামত দিন

বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে...

বিমানে এরশাদ ফখরুল কুশল বিনিময়

ছিনতাইকারীর থাবায় প্রাণ গেল ৬ মাসের শিশুর

চলে গেলেন ওয়ালটনের প্রতিষ্ঠাতা

নিখোঁজ মেরিন প্রকৌশলীর লাশ উদ্ধার

ভোট উৎসবের অপেক্ষায় রংপুর

মানবপাচার রোধে তিন মন্ত্রণালয় একযোগে কাজ করছে

তুর্কি প্রধানমন্ত্রী ঢাকায়

২ শিশুর বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা পেলো ট্রেন

প্রার্থীর ছড়াছড়ি

দুর্ঘটনার কবল থেকে ট্রেনটি রক্ষা করলো দুই শিশু

ঢাকায় তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী

বৃদ্ধা মিলু গোমেজ হত্যায় কেয়ারটেকার গ্রেপ্তার

ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ শুনানিতে আন্তর্জাতিক আইনজীবী নিয়োগের আবেদন

শোকের উপর শোক, অসুস্থ হয়ে পড়লেন নওফেল

বিএনপি প্রার্থীকে প্রচারণায় বাধা দেয়ার অভিযোগ