কলকাতায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে চালু হয়েছে মোবাইল অ্যাপ

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ২৪ জুলাই ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:৩৮
ডেঙ্গু মোকাবিলায় কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন বা পুরসভা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে কলকাতার নাগরিকরা সব ধরণের তথ্য জানতে পারবেন। এমনকি জ্বর হলে নিকটবর্তী কোথায় গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করাবেন তাও সহজেই জানতে পারবেন। এই কথা জানিয়েছেন কলকাতা করপোরেশনের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. টি কে মুখার্জি। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতা পুরসভায় এ বছর এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে মৃত্যুর কোনও খবর নেই। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নির্মূল করার জন্য ‘সজাগ থাকুন বছরভর-জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে জনগণকে সচেতন করার প্রচার কর্মসুচি  চালানোয় সাফল্য এসেছে  বলে দাবি করেন ডা. মুখার্জি। তিনি বলেছেন, সচেতনতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই স্টেকহোল্ডারদেরও সমানভাবে সচেতন হয়ে উদ্যোগী হতে হবে। অবকাঠামোর উন্নয়ন, আধুনিক ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে মশা নিধন করতে হবে। অভিজ্ঞ পতঙ্গবিদ নিয়োগ করে প্রকৃত এডিস মশা সনাক্ত করার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কলকাতা পুরসভা এলাকায় ডেঙ্গুতে কোনও মৃত্যুর খবর না থাকলেও কলকাতা সংশ্লিষ্ট পুরসভাগুলিতে এখন পর্যন্ত ৫জন মারা গিয়েছেন। বর্ষা পুরোদমে শুরু হলে মৃত্যু আরও বাড়তে পারে বলে চিকিৎসক মহলের অভিমত। ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই পর্যন্ত  ৪৬৯ জনের শরীরে ডেঙ্গুর জীবাণু পাওয়া গিয়েছে। গত বছর যেসব এলাকাতে ডেঙ্গুর প্রকোপ ঘটেছিল এবারও সেই সব এলাকা থেকেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের খবর আসছে বলে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দপ্তর সুত্রে বলা হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা হল দক্ষিণ দমদম পুরসভা। এই পুরসভার চেযারম্যান পাঁচু রায় স্বীকার করেছেন, অধিকাংশ এলাকাই মশার আঁতুড় ঘরে পরিণত হয়েছে। বহু বাড়িতে কুয়ো রয়েছে। পুরসভা বারবার অভিযান চালালেও এখনও বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা ফেরেনি। কলকাতা পুরসভার সংলগ্ন পুরসভাগুলিতে বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় গত বুধবার কলকাতার পুরসভার মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) অতীন ঘোষ সেইসব পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে কি কি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি তা জানিয়েছেন। তিনি জানান, কলকাতা পুরসভা এলাকায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা না গেলেও সংলগ্ন পুরসভাগুলি থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হবার খবর আসায় পুরসভা উদ্বিগ্ন। তাই  মশা নিয়ন্ত্রনে আরও তৎপরতা বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুরসভা এ ব্যাপারে সমন্বয় রেখে কাজ করবে বলে তিনি জানিয়েছেন। কলকাতার পার্শ্ববর্তী বরানগর পুরসভায় ফ্যামিলি কার্ড চালু করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জমা পানি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্ষার সময়ই সাধারণত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের প্রকোপ বাড়ে। ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী এডিস মশা পরিষ্কার জমা পানিতে জন্ম নেয়। আর এই মশা দিনের বেলায় কামড়ায়। তবে পশ্চিমবঙ্গে চিকুনগুণিয়ার প্রকোপ খুবই কম। এখানে ডেঙ্গুই ভয়ঙ্কর হিসেবে দেখা দেয়। ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক সুত্রে বলা হয়েছে, গত বছর পশ্চিমবঙ্গে ২২৮৬৫ জনের শরীরে ডেঙ্গুর জীবাণু পাওয়া গিয়েছিল। আর মারা গিয়েছিলেন ৪৫ জন। চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল মাত্র ১০৭১ জন।  তবে এ বছর এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গিয়েছে তৎপরতার সঙ্গে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পানির খোলা ট্যাঙ্ক, চৌবাচ্চা, কুয়ো, ফেলে দেওয়া ভাড় বা প্লাস্টিকের কাপ এবং নির্মীয়মান বাড়িগুলির জমা পানিতে লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে তারা একই সঙ্গে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার উপরই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন