এমপিও জালিয়াতি ধরতে মাঠে নামছে ২০ টিম

শেষের পাতা

নূর মোহাম্মদ | ১৮ জুলাই ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:২৯
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও অনিয়ম ও জালিয়াতি ধরতে মাঠে নামছে ২০ টিম। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ৪০ জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত এই টিম দেশের ৬৪টি জেলা সরজমিন পরিদর্শন করবেন। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক চিত্র প্রতিবেদন আকারে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জমা দেবেন। প্রত্যেক টিমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এমপিও অঞ্চলভিত্তিক থাকবে নাকি পুনরায় কেন্দ্রীয়ভাবে হবে তা নির্ধারণ চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত হবে। এদিকে এমপিও হয়রানি নিয়ে বিরক্ত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও এমন আভাস দিয়েছেন। রোববার মাউশিতে কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনামূলক এক বক্তৃতায় এমন আভাসের কথা জানান। এর আগে গত সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে সমন্বয় সভায় এমপিও হয়রানি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আর মাউশি’র অধিকাংশ কর্মকর্তা এমপিও হয়রানি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সভায়। এমন প্রেক্ষিতে গতকাল মাউশি এ ২০টি টিম গঠন করলো। বিষয়টি স্বীকার করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর এস এম ওয়াহিদুজ্জামান মানবজমিনকে বলেন, এমপিও নিয়ে নানা অভিযোগ আসছে আমাদের কাছে। রোববার শিক্ষামন্ত্রীর সামনে মাউশির কর্মকর্তারা এ সংক্রান্ত অভিযোগ করেন। এমপিও বিকেন্দ্রীকরণ করার পর আসল চিত্র কী তা জানা দরকার। এজন্য এমপিও নিয়ে কাজ করছেন এরকম কর্মকর্তাদের এই টিম গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পেলেই পরবর্তী ব্যবস্থার কথা ভাবা হবে। সূত্র জানায়, এই কমিটির প্রতিবেদন পেলেই মাউশির আঞ্চলিক অফিসের মাধ্যমে অনলাইনে এমপিওভুক্তি বাতিল করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই খবরে আঞ্চলিক অফিসের এমপিও দায়িত্বে থাকা উপ-পরিচালকরা জোট বেঁধেছেন। তারা চার কোটি টাকা চাঁদা তুলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তবে অনেক কর্মকর্তা জানান, ডিডিদের একক ক্ষমতা হ্রাস করে আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালকদের দায়িত্ব দেয়া উচিত। এতে করে ডিডিদের দৌরাত্ম্য লাঘব হবে। শিক্ষকদের হয়রানিও কমবে। শিক্ষকদের এমপিও হয়রানি বন্ধ করতে সারা দেশে ৯টি আঞ্চলিক অফিসকে দায়িত্ব বণ্টন করে দেয়ার পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনের আওতায় আনা হয়। দুই বছরের মাথায় মাউশির প্রায় সব কর্মকর্তা নানা হয়রানির কথা বলছেন। তারা বলেন, এমপিও হয়রানি এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। কোনো শিক্ষক টাকা ছাড়া এমপিও পাচ্ছেন না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক জায়গার দুর্নীতি এখন সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এক স্তরের ঘুষ এখন কমপক্ষে সাত স্তর পর্যন্ত পৌঁছেছে।   
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, ২০ টিমকে প্রশ্নভিত্তিক সুস্পষ্ট মতামতসহ ১৫ কর্ম দিবসের মধ্যে দেশব্যাপী অন-লাইন এমপিও কার্যক্রমের মনিটরিং ও হালনাগাদ বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদন দিতে হবে। প্রত্যেকটি কমিটিতে দুইজন কর্মকর্তা রাখা হয়েছে। মাউশির উপ-পরিচালক (প্রশাসন) মো. শফিকুল ইসলাম সিদ্দিকী ও ইএমআইএস সেলের প্রোগ্রাম ইনচার্জ মো. মেজবাহ উদ্দিন সরকারকে ঢাকা, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলার, উপ-পরিচালক (কলেজ-২) মো. মেজবাহ উদ্দিন সরকার ও পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার গবেষণা কর্মকর্তা কামরুন নাহারকে ময়মনসিংহ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী। উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) এ কে এম মোস্তফা কামাল ও ইএমআইএস  প্রোগ্রামার (সেসিপ) শরিফুল ইসলামকে রাজশাহী, নাটোর, পাবনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) খ ম রশিদুল হাসান ও ইএমআইএসের প্রোগ্রামার (সেসিপ) তাপস কুমার সাহাকে দেয়া হয়েছে চাঁপাই নবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাটে।  উপ-পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) তানভীর মোশারফ খানকে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে। উপ-পরিচালক (মনিটরিং ও ইভালুয়েশন) এসএম কামাল উদ্দিন হায়দার ও সহকারী পরিচালক (কলেজ-১) এ কে এম মাসুদকে ফরিদপুর, মাগুরা, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জে। উপ-পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান ও ইএমআইএসে প্রোগ্রামার (সেসিপ) মো. জহির উদ্দিনকে বরিশাল, ভোলা ও পিরোজপুরে। উপ-পরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন) ড. মাহবুবা ইসলাম ও গবেষণা কর্মকর্তা  (সেসিপ) নীহার পারভীনকে বি-বাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও কুমিল্লায়। উপ-পরিচালক (শারীরিক শিক্ষা) ফারহানা হক ও শিক্ষা অফিসার (আইন) মো. আল আমিন সরকারকে নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষীপুরে। উপ-পরিচালক (বিশেষ) ফওজিয়া বানু ও সহকারী পরিচালক (কলেজ-৪) মো. জাকির হোসেনকে যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহে। উপ-পরিচালক (এইচআরএম) মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন ও শিক্ষা অফিসার (আইন-১) মু. আবুল কাসেমকে পটুয়াখালী, বরগুনা ও ঝালকাঠি। উপ-পরিচালক (কলেজ-১) ড. মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ও ইএমআইএসের (সেসিপ) মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. ইফতেখারুল ইসলামকে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে। সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-১) সাখায়েত হোসেন বিশ্বাস ও সহকারী পরিচালক (আইন) মো. সাইফুল ইসলামকে নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে। সহকারী পরিচালক সেসিপ (মাধ্যমিক) মো. সবুজ আলম ও সহকারী পরিচালক (এইচআরএম) সেসিপ মো. আসেকুল হককে রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে। সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-২) দুর্গা রানী সিকদার ও সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) মোছা. মুর্শিদা খাতুনকে সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জে। সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী ও সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক, সেসিপ) মো. শামছুল আলমকে ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার। উপ-পরিচালক (একিউএইউ) খুরশীদ আলম ও সহকারী পরিচালক (কলেজ-৩)  খুরশীদ আলমকে নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর ও টাঙ্গাইল। সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) ড. ফারহানা বেগম ও সহকারী পরিচালক (বিশেষ) মোহসেনা বেগমকে মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুরে। সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মুহাম্মদ জাকির হোসেন ও শিক্ষা কর্মকর্তা (মাধ্যমিক-১) চন্দ্র শেখর হালদারকে বগুড়া, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জে। সহকারী পরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন) আশিকুল ইসলাম ও শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আফসার উদ্দিনকে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আস্থা নেই বিএনপির

রুবির বক্তব্য আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ

মিয়ানমারকেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে হবে

সর্বশেষ আসা রোহিঙ্গাদের মুখে নির্যাতনের বর্ণনা

হঠাৎই সব এলোমেলো

হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি

পাহাড়ে দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা

একই চিত্র জাকিরুলের বাড়িতে

মা এখনো জানেন না

ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে বিমান বাহিনী

ফের কমলো স্বর্ণের দাম

লিবিয়ার আইএস ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান হামলা, নিহত ১৭

উল্টো পথে আবার ধরা সচিবের গাড়ি

ফের কমলো স্বর্ণের দাম

ছাত্রের হাতে শিক্ষক জখম

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ৮০ ভাগ নারী ও শিশু: কেয়ার