মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের ধরপাকড় কিছুটা শিথিল

শেষের পাতা

কূটনৈতিক রিপোর্টার | ১৮ জুলাই ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৮
মালয়েশিয়ায় থাকা অবৈধ (আন-ডকুমেন্টেড) বাংলাদেশিদের আপাতত ধরপাকড় থেকে রক্ষার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে ঢাকা। এ নিয়ে গতকালও পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। সেখানে অবৈধ বাংলাদেশিদের ধরপাকড় বন্ধ রাখার অনুরোধসহ ডিটেনশন সেন্টারে আটকদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কথা হয়। অবশ্য একদিন আগেই ঢাকার এক অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি দাবি করেন বাংলাদেশের অনুরোধে মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ চলমান ধরপাকড় বন্ধ রেখেছে। কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশের একাধিক কর্মকর্তা গতকাল রাতে মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে বলেন, মালয়েশিয়ার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযান বন্ধের কোনো ঘোষণা না এলেও এটি যে কিছুটা শিথিল হয়েছে তা এরইমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। দু’দিন আগেও একটি অভিযান হয়েছে। সেখানে প্রায় ৮০জন বিদেশি আটক হয়েছে। কিন্তু কোনো বাংলাদেশি আটকের তথ্য পাওয়া যায়নি। এক কর্মকর্তা বলেন, পাসপোর্ট এবং নিয়োগ কর্তার দেয়া বৈধ ডকুমেন্ট থাকা সত্ত্বেও যারা কোনো কারণে অবৈধ হয়ে পড়েছেন তাদের পুনরায় ‘বৈধতা’র সুযোগটি চলমান রয়েছে আগামী ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত। নির্ধারিত ওই সময়ের মধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে বৈধ হতে পারবেন। তবে যাদের কোনো ডকুমেন্ট নেই, পুরোপুরি অবৈধ পথে দেশটিতে গেছেন তাদের বৈধ হওয়ার (ই-কার্ড সিস্টেমে) ডেটলাইন পার হয়ে গেছে গত ৩০শে জুন। নির্ধারিত ওই সময়ের মধ্যে যারা সুযোগটি নিয়েছেন তারা বৈধতা পাবেন, বাকিদের ভাগ্য প্রায় অনিশ্চিত! পররাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা গতকাল মানবজমিনকে বলেন, বাংলাদেশিদের বৈধতার যে কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা রয়েছে ঢাকার। কিন্তু যাদের সব কিছুই অবৈধ এবং যারা দেশটির কর্তৃপক্ষের ঘোষণাও মানেননি তাদের বিষয়টি এখন আরো জটিল হয়ে গেছে। এর মধ্যে যারা আটক হয়েছেন, ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন তাদের ফেরত আনার চাপ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গতকালের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, সামপ্রতিক ধরপাকড়ে হাজার খানিক বাংলাদেশি আটক হয়েছে মর্মে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। তবে এদের অনেকের কাছেই বাংলাদেশি বলে বৈধ ডকুমেন্ট নেই। অনেক রোহিঙ্গাও এর মধ্যে থাকতে পারেন এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করে ওই কর্মকর্তা বলেন, আটক প্রত্যেকের নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পরই তাদের ফেরত আনা হবে। তবে তাদের কোনো প্রক্রিয়ায় কিভাবে ফেরত আনা হবে সেটি দুই সরকারের পরবর্তী আলোচনায় ঠিক হবে। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর দাবি সংক্রান্ত খবরটি ফলাও করে প্রচার পেয়েছে। বাংলাদেশ ক্লেইমস মালয়েশিয়া নট ডিটইনিং ইটস সিটিজেন ফর নাও’ শীর্ষক রিপোর্টে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি রি-হায়ার্ড বা পুনরায় নিয়োগের সুযোগ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। সেখানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জাভেদ আহমেদকে উদ্ধৃত  করে এ তথ্য দেয়া হয়। ওই রিপোর্টে অবৈধ বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে পুত্রজায়ার সঙ্গে ঢাকার ঘনিষ্ঠ আলোচনারও উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে রাতে কুয়ালালামপুরের কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত সর্বশেষ খবরে জানা যায়, মালয়েশিয়া সরকারের ডিজি ইমিগ্রেশনের সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বিদেশি মিশনগুলোর গতকালের নিয়মিত বৈঠকে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে- অবৈধ বিদেশিদের আটকের অভিযান বন্ধ হয়নি, এটি চলবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশির ই-কার্ডের সুযোগ নেয়া এবং চলমান রি-হিয়ারিংয়ের সুযোগ গ্রহণে ডিজি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মাসুদ আলম

২০১৭-০৭-১৭ ১১:২২:৫৮

ধনবাদ তথ্যমূলক খবর প্রচারের জন্য,আসলে প্রবাসে আমরা যারা থাকি আমরা আমাদের সম্পর্কীয় কোন খবরি পাইনা,যেমন কোন সময় কোন আইন করা হলো বা কোন আইন শিথিল করা হলো কারন আমারাতো এদেশিয় কোন চ্যানেল বা পত্রিকা দেখিনা,তাই বাংলাদেশের সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ বিদেশে প্রবাসিদের সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কীয় যে কোন খবর কালেকশন করে প্রচার করলে অন্তত দেশের মানুষের কাছ থেকে হলেও জানা যাবে। ইউ এ ই থেকে।

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা নবজাতকের নাম ‘শেখ হাসিনা’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য হয়ে গেছে : নাসিম

রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ পাঠালো সৌদি আরব

ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক ৫

‘সরকার পচা চাল আমদানি করছে’

‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি লিপ সার্ভিস দিচ্ছে’

অর্থ আত্মসাত মামলায় সাবেক কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

‘সুন্দরী মেয়েদের ধর্ষণ করে সেনারা হাত-পা, বুক কেটে ফেলে দেয়’

রোহিঙ্গাদের নির্যাতন বন্ধ করার উপায় খুঁজছেন ট্রাম্প

রোহিঙ্গা গণহত্যার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে জাতিসংঘকে ম্যাক্রনের আহ্বান

রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব