হাসপাতালে যেমন আছেন সেই গৃহকর্মী লিমা

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৮ জুলাই ২০১৭, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:২৯
রহিমা আক্তার লিমা (২৮)। বরিশালের বাসিন্দা এই নারী রাজধানীর রামপুরায় থাকতেন। অন্যের বাসায় কাজ করে এক ছেলে ও এক মেয়ের ভরণপোষণ করতেন। প্রতিবেশী নাজমা বেগমের সহযোগিতায় আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী কার্লোসের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ পেয়েছিলেন। মাসে বেতন পনের হাজার টাকা। সেই মোতাবেক ১৬ই জুন পরীবাগের একটি বাসার সাত তলায় কার্লোসের বাসায় কাজে যোগ দেন।
কিন্তু জুন মাসের ৩০ তারিখেই তার জীবনে নেমে আাসে করুণ পরিণতি। নেশায় মত্ত কার্লোস তাকে ভবনের সাত তলা থেকে নিচে ফেলে দেন। পরে বাসার নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে পুলিশের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ঢামেকের অর্থপেডিকস বিভাগের বেডে কাতরাচ্ছেন। অর্থসংকটে তার অপারেশন করতে পারছেন না হাসপাতালের চিকিৎসকরা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার অপারেশন করতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এত টাকা তার পরিবারের পক্ষে যোগাড় করা সম্ভব না। তাই শরীরের তীব্র ব্যথা আর যন্ত্রণা নিয়ে সে পড়ে আছে হাসপাতালের বেডে। গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০৬ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় লিমার ডান হাত থেকে বাম পা পর্যন্ত অচল হয়ে আছে। প্রায় শরীরের অর্ধেকই তিনি নাড়াতে পারছেন না। পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন তার রিকশাচালক বাবা সহীদ হাওলাদার, গাড়ি চালক ভাই শুকুর আলী ও মা মাসুমা বেগম। সে দিনের ঘটনা বলতে গিয়ে লিমার চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় পানি পড়ছিল। লিমা জানান স্বামীর থেকে আলাদা হবার পর থেকেই তিনি মানুষের বাসায় কাজ করতেন। প্রতিবেশী নাজমা বেগমের সহযোগিতায় তিনি সেই বাসার কাজটি পান। কিন্তু বাসার মালিক যে এত খারাপ তিনি জানতেন না। এমনকি নাজমা বেগমও তাকে বলেননি। কাজে যোগদানের পর পরই তার কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে যায়। সে বুঝতে পারে নাই তাকে তার পরিবার আত্মীয়স্বজন থেকে আলাদা করা হচ্ছে। এরপরই শুরু হয় অন্য চিত্র। ঘরের ভেতর কার্লোসের বিকৃত যৌনাচার ও নেশায় মত্ত থাকার বিষয়টি ধীরে ধীরে লিমার কাছে পরিষ্কার হতে থাকে। বদ্ধ ঘরে কার্লোস আর স্ত্রী একই সঙ্গে নেশা করতেন। তবে কার্লোস রাত দিন চব্বিশ ঘণ্টা। কখনো কখনো টানা সাত দিন পর্যন্ত ইয়াবা খেয়ে পড়ে থাকতো। ঘুম খাবারের প্রতি তার কোন খেয়াল ছিল না। দিনে তিন চারটি ডাব আর জুস খেয়ে পার করতো দিন রাত। লিমা জানায়, তাকে দিয়ে ইয়াবা সেবনের উপকরণ তৈরি করাতো। কিন্তু সে এসব কাজ করে অভ্যস্ত ছিল না। তাই সে অনেক ভয়ে ভয়ে থাকতো।
একটু এদিক সেদিক হলেই মারধর শুরু করে দিত। ঘরের সবাইকে এক সঙ্গে  হাতের কাছে যাই পেতো তা দিয়ে মারধর করতো। কয়েকদিন পরপরই বাইরে থেকে নতুন নতুন মেয়েরা আসতো। কোনো মেয়ে যদি একবার সেই বাসায় প্রবেশ করে তবে টানা সাত দিনের আগে আর বের হতে পারতো না। এসব দৃশ্য দেখে লিমা অনেক কাকুতি মিনতি করেছে মুক্তির জন্য। এমনকি কার্লোসের অনেক আত্মীয়স্বজনের কাছে পা ধরে মুক্তি চেয়েছে। কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করেনি। লিমা জানান, নিজের স্ত্রীকে নির্যাতন করার সময় সহযোগিতা না করায় তাকেও মেরে বেলকনি দিয়ে বাইরে ফেলে দেয় কার্লোস। লিমা জানান, এত অত্যাচারের পর তাদের একটি লোকও খবর নিতে এলো না। শুধু মাত্র কার্লোসের স্ত্রী সীমার এক ভাই এসে দেখে গেছেন। তিনি ৫ হাজার টাকাও দিয়ে গেছেন। লিমার বাবা ভাই শুকুর মিয়া জানান, একমাত্র বোনের চিকিৎসার জন্য দৌড়ঝাঁপ করে নিজের চাকরি হারিয়েছেন। তাদের বাবার বয়স হয়েছে এখন আর আগের মতো রিকশা চালাতে পারেন না। ইতিমধ্য লিমার চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অভাবের সংসারে এখন আর চিকিৎসার জন্য খরচ করার মতো কোন টাকা নাই। এখন অর্থের অভাবে অনিশ্চয়তায় আটকে আছে তার অস্ত্রোপচার।
 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

কামরুল হাসান

২০১৭-০৭-১৭ ২২:৩৯:৫০

কার্লোসের ছবি কি দেয়া যায়?

আপনার মতামত দিন

যুদ্ধাপরাধের ২৯তম রায়ের আপেক্ষা

ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়ে চাঁদ দেখা কমিটির সভা কাল

সিরিয়া ইস্যুতে আবারো রাশিয়ার ভেটো

হারিরির সৌদি আরব ত্যাগ

ঢাকায় চীন-বাংলাদেশ বৈঠক শুরু

প্যারাডাইস পেপারসে শিল্পপতি মিন্টু ও তার পরিবারের নাম

ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে আসছে রোহিঙ্গারা, ইউএনএইচসিআরের উদ্বেগ

নৌকায় বসেই ভাষণ দেবেন শেখ হাসিনা

‘নতুনরা সব সময় পরিবর্তন নিয়ে আসে’

নিজ দলে বিদ্রোহ, আজ মুগাবের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ

ছোট্ট শিশুদের দুর্নীতির প্রশিক্ষণ

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

রাবিতে হলের সামনে থেকে ছাত্রী অপহৃত

সীমানা বিন্যাস আইন নিয়ে বিপাকে ইসি

সেনা অভ্যুত্থানের পর প্রথম জনসমক্ষে মুগাবে

ইরাক ও ইসরায়েল সুন্দরী একসঙ্গে সেলফি তুলে বিপাকে