ফুকুশিমার ৭৭৭০০০ টন টাইটানিয়াম সমৃদ্ধ বর্জ্য ফেলা হবে প্রশান্ত মহাসাগরে

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ জুলাই ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:২৬
জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক স্থাপনা বিপর্যয়ে সৃষ্ট তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ফেলা হবে সমুদ্রে। এ জন্য বেছে নেয়া হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরকে। নিউক্লিয়ার রেজুলেশন অথরিটির চেয়ারম্যান শুনিচি তানাকা বলেছেন, এ বর্জ্য মানুষের জন্য খুব কমই ক্ষতিকর। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়েছে ওই বর্জ্যে রয়েছে টাইটানিয়াম সমৃদ্ধ পানি। টাইটানিয়াম হলো হাইড্রোজেনের একটি আইসোটোপ।
এটি তেজষ্ক্রিয়। এমন টাইটানিয়াম সমৃদ্ধ পানি রয়েছে জাপানের কাছে প্রায় ৫৮০ ব্যারেল। এসব পানি পারমাণবিক স্থাপনার চুল্লিকে ঠান্ডা করতে ব্যবহৃত হতো। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমা পারমাণবিক স্থাপনায় বিপর্যয় ঘটে। তখন থেকেই স্থানীয় অধিবাসীরা এ থেকে নির্গত তেজষ্ক্রিয়তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এখন সেই বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সমুদ্রে। টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির (টেপকো) চেয়ারম্যান তাকাশি কাওয়ামুরা বলেছেন, এসব বর্জ্য ওই সমুদ্রে ফেলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। যে পরিমাণ টাইটানিয়াম সমৃদ্ধ বর্জ্য ফেলা হবে তার পরিমাণ ৭ লাখ ৭৭ হাজার টন। এর প্রতিক্রিয়া বা পরিবেশের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে এরই মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও জাপান সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় নি বলে বলেছেন কাওয়ামুরা। তিনি বলেছেন, সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে টেপকো। জাপান টাইমসকে তিনি বলেছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত ছাড়া আমরা এ কাজটি করতে পারি না। সমুদ্রে এই পানি ফেলা সমর্থন করেন নিউক্লিয়ার রেগুলেশন অথরিটির চেয়ারম্যান শুনিচি তানাকা। তবে সমুদ্রে এই পানি ফেলার বিরোধী স্থানীয় জেলেরা। তারা বলছেন, এর ফলে তাদের জীবন জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। স্থানীয় জেলেদের সমিতির প্রধান কানজি তাচিয়া। তিনি বলেন, সমুদ্রে এই বর্জ্য ফেলা হলে তাতে নানা রকম গুজব ছড়িয়ে পড়বে। উল্লেখ্য, টাইটানিয়াম মানুষের জন্য কম ক্ষতিকর। তবে উচ্চ মাত্রায় তা প্রয়োগ করা হলে তা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। শুনিচি তানাকা বলেন, এই রাসায়নিক পদার্থটি এতটাই দুর্বল যে এর থেকে যে তেজষ্ক্রিয়তা নির্গত হয় তা একটি প্লাস্টিককে ভেদ করতে পারে না।  তবে ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটনের সমুদ্র বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সিমন বক্সল বলেন, ব্যাপক হারে এই পদার্থ যদি প্রশান্ত মহাসাগরে ফেলা হয় তাহলে তা থেকে সমুদ্র তলদেশে প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে পরিবেশ কর্মীদের আশঙ্কা এই মহাসাগরকে যদি টাইটানিয়াম সমৃদ্ধ পানি ফেলার জন্য বেছে নেয়া হয় তাহলে সব সময়ই তাই করা হবে।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সব স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি দেয়ার নির্দেশ

একতরফা নির্বাচন কোন নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়

‘অনুমোদনহীন বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা’

কি পেলাম কি পেলাম না সেই হিসাব মেলাতে আসিনি: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা ওয়াসাকে ১৩টি খাল উদ্ধারের নির্দেশ

এসডিজি অর্জন করতে হলে প্রতিবছর ৩০ শতাংশ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়াতে হবে

‘অনুপ্রবেশকারীদের ৫০০০ পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না’

‘ক্ষমতা থাকলে সরকারকে টেনে-হিচড়ে নামান’

আগামীকাল আদালতে যাবেন খালেদা জিয়া

‘সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই’

‘তদন্তের স্বার্থেই তনুর পরিবারকে ডাকা হয়েছে’

জিম্বাবুয়ের নতুন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন ‘কুমির মানুষ’

আশ্রয়শিবিরে সংক্রমণযুক্ত পানির বিষয়ে ইউনিসেফের সতর্কতা

চীন, উত্তর কোরিয়ার ১৩ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ

রোহিঙ্গা সঙ্কট: উচ্চ আশা নিয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার বৈঠক শুরু

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের প্রস্তাব, যা বললেন মুখপাত্র...