হাহাকার

বাংলারজমিন

| ১৭ জুলাই ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪৫
বিয়ানীবাজারে ফের আশঙ্কা
বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি: কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধিতে আবারও বিয়ানীবাজার উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফের বন্যার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন সতর্কাবস্থায় রয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের এক সপ্তাহের ব্যবধানে কুশিয়ারা নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শঙ্কিত রয়েছেন নদী-তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। গতকাল বিকাল ৩টায় নদীর শেওলা পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।

এদিকে কুশিয়ারা নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে নদীর ভাঙা ডাইক (রক্ষা বাঁধ) দিয়ে ফের তীব্র বেগে তীরবর্তী এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। এক সপ্তাহ আগে মেওয়া গ্রামবাসীর উদ্যোগে মেরামত করা ডাইক যে কোনো সময় ভেঙে তীরবর্তী এলাকা ফের প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। অপরদিকে কুশিয়ারা নদীর গজুকাটা, খাড়াভরা, মেওয়াসহ উপজেলার ভেঙে যাওয়া পাঁচটি ডাইক শনিবার রাতে পরিদর্শন করেন সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

সরজমিনে গতকাল কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী দুবাগ ইউনিয়নের মইয়াখালি, গজুকাটা ও মেওয়া এলাকায় গেলে নদীর অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির বিষয়টি জানান স্থানীয়রা।
মইয়াখালি এলাকায় নদীর পানি ডাইক (বাঁধ) ছুঁই ছুঁই করছে। এ এলাকায় নদীর পানি ১-২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলেই ডাইক উপচে তীরবর্তী এলাকায় পানি প্রবেশ করবে। একই অবস্থা গজুকাটা ও মেওয়া এলাকায়। কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী খাড়াভরা এলাকার ভাঙা ডাইক দিয়ে পানি প্রবেশ করে এ এলাকাটি ফের প্লাবিত হয়েছে। নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে খাড়াভরা বাজারের অর্ধেক অংশ, বাজারে অবস্থিত খাড়াভরা ডাকঘর ও স্থানীয় মখযনুল উলুম গফ্‌ফারিয়া খাড়াভরা মাদরাসা। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে খাড়াভরা এলাকা তৃতীয়বারের মতো প্লাবিত হয়েছে বলে জানান খাড়াভরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আফজাল আহমদ পলাশ।

এদিকে গত এক সপ্তাহের মধ্যে কুশিয়ারা নদীর মেওয়া ডাইক দু’বার মেরামত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন ও জয়নুল ইসলাম বাবলু। গতকাল মেরামত করা ডাইক দিয়ে চোরাস্রোত বইছে বলে তারা জানান। এতে যেকোনো সময় ডাইকটি আবারও ভেঙে তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন মেওয়া এলাকার বাসিন্দারা। এ ডাইক ভেঙে গেলে তৃতীয়বারের মতো সিলেট-বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের মেওয়া অংশ পানিতে তলিয়ে যাবে জানিয়ে মেয়া গ্রামের প্রবীণ মুখলেছুর রহমান বলেন, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত নদীতে প্রায় এক হাত পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১০ বছরে এক দিনে নদীতে এত পানি বৃদ্ধি পায়নি।
রোববার সকালে কুড়ারবাজার ইউনিয়নের বৈরাগীবাজার, শেওলা ইউনিয়নের কোনাশালেশ্বর তলিয়ে গেছে। বৈরাগীবাজারের নদী তীরবর্তী মাছবাজার, দোকানপাঠ এবং কোনাশালেশ্বর এলাকার বাড়িঘরে পানি উঠেছে। এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, রাতে ঘুমাবার আগে নদীর পানি অনেক নিচে ছিল। সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখি ঘরের ভেতর পানি। এলাকার যুবক ফজলে শাফী চৌধুরী টিটু বলেন, আর একটু পানি বৃদ্ধি পেলে গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর তলিয়ে যাবে।
কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে জানিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মু. আসাদুজ্জামান বলেন, নদী উপচে পানি প্রবেশ করলে আমরা অসহায়। এ ছাড়া যেসব এলাকার ডাইক দিয়ে পানি প্রবেশ করছে সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে অস্থায়ীভাবে মেরামত করতে সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

বিয়ানীবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে ১২ কোটি টাকা লাগবে
বিয়ানীবাজার (সিলেট) প্রতিনিধি: অতিবৃষ্টি আর দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় বিয়ানীবাজারের ৫৫ কিমি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৩ কিমি সড়ক। যেখান দিয়ে যান চলাচল দুরুহ হয়ে পড়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে ১২ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৃথক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সওজ ও এলজিইডি। সিলেট জেলায় সওজের ১১৬ কিলোমিটার এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ২৫৫ কিলোমিটার সড়ক অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বিয়ানীবাজার উপজেলার ৪৬ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অপর ৯ কিমি গ্রামীণ সড়ক বলে জানান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি শিব্বির আহমদ। বিভিন্ন সময় এসব সড়ক এলজিএসপি’র তহবিল থেকে আরসিসি ঢালাই করা হয়। পুনরায় এগুলো সংস্কারে প্রায় কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে তিনি জানান।  

এদিকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত  সড়কগুলো পরিদর্শন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি। মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সওজ এবং এলজিইডির কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সংস্কারের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করে পৃথক প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। সিলেট সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্ত বলেন-‘জেলায় সওজের অধীনে ৫৪৪ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এসব সড়কের মধ্যে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে ১১০ কিলোমিটার।’ তিনি বলেন-‘সড়কে তিন মেয়াদে আমরা মেরামত ও সংস্কার কাজ করে থাকি। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি কাজের অংশ হিসেবে বিয়ানীবাজার উপজেলার ২৬ কিলোমিটারের মধ্যে ভাঙা অংশে মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া এ সড়কের বন্যায় বেশি ক্ষতি হওয়া দেড় কিলোমিটারে সংস্কার কাজ করতে আমরা দরপত্র আহ্বান করব।’ সওজের বিয়ানীবাজার উপজেলার দায়িত্বে নিয়োজিত এসও একেএম জাকারিয়া জানান- ‘বিয়ানীবাজার উপজেলায় বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া এবং বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধ হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের পরিমাণ ৬ কিলোমিটার। ইতিমধ্যে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সড়কগুলোতে স্বল্পমেয়াদি মেরামত কাজ শুরু করা হয়েছে। মধ্যমেয়াদি কাজ করার জন্য বিটুমিন, ইট, বালু ও পাথর মজুদ রাখা হয়েছে। কিছু সড়কের মধ্যমেয়াদি কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে। এছাড়া বন্যায় তলিয়ে যাওয়া ৬ কিলোমিটার সড়কের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কাজ করতে হবে। এসব সড়কের সংস্কারে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হবে।’ তিনি বলেন- ‘উপজেলার সিলেট-বিয়ানীবাজার সড়কের ৩ কিমি জায়গা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

আফছার খান সাদেকের সৌজন্যে ত্রাণ বিতরণ
বিয়ানীবাজারে আওয়ামী লীগ নেতা আফছার খান সাদেকের সৌজন্যে বন্যাদুর্গত মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলার চারাবই, বালিঙ্গা, শালেস্বর, কোনা শালেস্বর ও ঘরুয়া গ্রামের প্রায় চার শতাধিক দুর্গত মানুষকে ত্রাণসামগ্রী প্রদান করা হয়। আফছার খান সাদেক আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি লন্ডন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ত্রাণ বিতরণকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আফতাব উদ্দিন খান, তজম্মুল হোসেন, হাছন আহমদ, ইমাম উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন খান, সাব্বির আহমদ, জাফর আহমদ, হাবিব খান, রেদওয়ান হোসেন খান প্রমুখ।

গোলাপগঞ্জে লাখো মানুষ পানিবন্দি
গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি: গোলাপগঞ্জে কুশিয়ারার পানি আবারো বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। গত তিনবারের বন্যায় কৃষকদের ফসলি জমি বানের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দিন কাটছে অর্ধাহারে অনাহারে। এ কয়দিনে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় বানবাসি মানুষের অনেকটা আশার সঞ্চার হয়েছিল, চাষ নয় কাজ করেই পুষিয়ে নেবেন বাকি দিনগুলো। হঠাৎ করে আবারো বন্যা দেখা দেয়ায় দু’চোখজুড়ে অন্ধকারই দেখছেন তারা। এবারের বন্যায় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ত্রাণ নিয়ে তেমন কেউ আর এগিয়ে আসার কথা নয়, গত ৩ বারের বন্যায় স্থানীয় লোকজন আক্রান্ত পরিবারের মধ্যে কয়েক দফা ত্রাণ দিয়েছেন। সরকারও একেবারে খালি হাতে ফেরায়নি।

বানের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানিবন্দির আবারো পানিবন্দি হয়ে পড়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ৬টি ইউনিয়নে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। এদের মধ্যে বেশির ভাগ লোক কর্মহীন জীবনযাপন করছেন। অনেকে আবারো অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। বুধবারীবাজার ইউনিয়নের কটলিপাড়া, কোনাগ্রাম, আওই, ছত্রিশ, কালিজুরী এবং চন্দরপুরের অবস্থা ভয়াবহ।

আমুড়া ইউনিয়নের উত্তর ঘাগুয়া, ঘাগুয়া ও শিকপুর এলাকার বেশির ভাগ লোক পানিবন্দি। শিকপুর গ্রামের হাফিজ নজমুল ইসলাম জানান, তাদের মধ্যে অনেকের গোবাদিপশুর খাদ্য সংকট চরম আকারে ধারণ করেছে।

ঢাকা দক্ষিণ ইউনিয়নের ইসলামপুর, সুনামপুর, নোয়াইঘাটসহ প্রায় ৭-৮টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উত্তর বাদেপা ইউনিয়নের ডেপুটি বাজার, রাকুয়ার বাজার, সান্তির বাজারসহ প্রায় ৮টি গ্রাম, শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের হাকালুকি হাওর ঘেষা রাংজিয়ল, ইসলামপুর, কালিকৃষ্ণপুর, নুরজাহানপুর, খাটকাইসহ প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় প্রতিদিন ত্রাণের অপেক্ষায়।
ভাদেশ্বর ইউনিয়নের দক্ষিণ গাঁও, মাশুরা, মেহেরপুর, গোয়াসপুর, শেখপুরসহ বেশ কয়টি গ্রাম আক্রান্ত রয়েছে। ভাদেশ্বর ইউপি সদস্য এখলাছ উদ্দিন জানান, তার এলাকার বেশিরভাগ লোক দরিদ্র এবং বন্যাকবলিত। সরকারের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ পাওয়া গেছে তা কোনো অবন্থানে পর্যাপ্ত নয়। বিগত বন্যায় প্রবাসীরা এগিয়ে আসায় মোটামেটি দুর্গত মানুষের মধ্যে বণ্টন করার মত ছিল কিন্তু আবারো বন্যা দেখা দেয়ায় সকলই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এদিকে কুশিয়ারা নদী পানি বিভিন্ন স্থানে বিপদসীমার ১০৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোদ আর বৃষ্টির সমন্বয়ে পানি বাড়তেই আছে। বর্তমানে এসব এলাকায় সরকারিভাবে ত্রাণ না পৌঁছালে অনেকেই না খেয়ে থাকতে হবে। দুর্গতরা প্রতিদিন ত্রাণের অপেক্ষায় অপেক্ষমাণ।

চকরিয়ায় ৫০ কেটি টাকার ক্ষতি
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: এবারে দুই দফা ভয়াবহ বন্যায় চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি  েপৌরসভার একাধিক আভ্যন্তরীণ সড়ক ও গ্রামীণ রাস্তা ভেঙে খানাখন্দক ও বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে অধিকাংশ সড়কে যান চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যার ফলে চকরিয়ার চিরিঙ্গা পৌরশহরের সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে করে চকরিয়া এলজিইডির আওতাধীন সড়কের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৩০ টাকা এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ চকরিয়ার আওতাধীন সড়কের ক্ষতি হয়েছে ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
জান গেছে, সমপ্রতি ভারি বর্ষণে ও উজান থেকে মাতামহুরী নদী দিয়ে নেমে আসা বানের পানিতে উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল ও একটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। পুরো উপজেলার অন্তত দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি ছিল। এখনো খাবার সংকট কাটেনি বন্যা দুর্গত এলাকায়। তবে এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এলজিইডি, সওজ ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায় দপ্তরে গ্রামীণ অবকাঠামো হাতে গৃহীত একাধিক অভ্যন্তরীণ সড়ক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধগুলো। প্রায় প্রত্যেক ইউনিয়নে অভ্যন্তরীণ সড়ক, গ্রামীণ রাস্তাগুলো বানের পানির প্রবল স্রোতে ভেঙে খানাখন্দক ও বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে সড়ক ভেঙে মাতামুুহুরী নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে চিরিঙ্গা-বদরখালী কেবি জালালউদ্দিন, শাহারবিল-পূর্ববড়ভেওলা ইউনিয়নের জকরিয়া সড়ক, চিরিঙ্গা-বেতুয়াবাজার সড়ক, ছিকলঘাট-কৈয়ারবিল সড়ক, ছিকলঘাট-কাকারা সড়ক, কাকারা-মানিকপুর সড়ক, সাহারবিল পরিষদ ও আঠারকুম সড়ক, কোনাখালী বাংলাবাজার সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে বাসের পানির তোড়ে ভেঙে খানাখন্দক ও বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া পাউবোর আওতাধীন পৌর শহর রক্ষাবাঁধ, ভাঙারমুখ-দিগরপানখালী সড়ক (বেড়ীবাধঁ) দিগরপানখালী-ঘুনিয়ার ১নং বাঁধটি মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভেঙে গেছে কুরুইল্ল্যার কুম ও পুরুত্যাখালী বাজার ও পহরচাঁদা কইন্নার কুম পূর্ববড়ভেলার আনিসপাড়া সেকান্দরপাড়া এলাকার বেড়িবাঁধ। এছাড়াও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড, খুটাখালী, ডুলাহাজারা, ফাঁশিয়াখালী, বরইতলী, হারবাং, ঢেমুশিয়া, বিএমচর ও পশ্চিমবড়ভেওলা ইউনিয়নের অধিকাংশ সড়ক ও রাস্তা ভেঙে গেছে। এসব ইউনিয়নের সড়কগুলো ভেঙে ক্ষত-বিক্ষত হওয়াতে পৌরশহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অনেক স্থানে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Akter hosen

২০১৭-০৭-১৬ ১২:৫০:২৭

I always read yours newspaper , because it published diffent news

আপনার মতামত দিন

সমাপনীতে অনুপস্থিত ১৪৫৩৮৩ শিক্ষার্থী

ঈদ-ই মিলাদুন্নবি ২ ডিসেম্বর

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য তারেক রহমানকে দরকার: এমাজউদ্দিন

দল থেকে বরখাস্ত মুগাবে

দেখা হলো, কথা হলো কাদের-ফখরুলের

আখতার হামিদ সিদ্দিকী আর নেই

ইইউ প্রতিনিধি ও তিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন

‘এবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই’

নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না শেখ হাসিনার সরকার-নৌ মন্ত্রী

‘আমি ব্যবসায়িক প্রতিহিংসার শিকার’

সেনা মোতায়েন নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি : সিইসি

২০১৮ সালে প্রবল ভুমিকম্পের আশঙ্কা!

কেয়া চৌধুরী এমপি’র উপর হামলার ঘটনায় মামলা

বাংলাদেশের রাজনীতি, বিকাশমান মধ্যবিত্ত এবং কয়েকটি প্রশ্ন

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এমপি গোলাম মোস্তফা আহমেদ

খেলার মাঠে দেয়াল ধসে দর্শক যুবকের মৃত্যু