ডিএমপিতে বাড়ছে ৩০ তল্লাশি চৌকি

শেষের পাতা

আল-আমিন | ১৭ জুলাই ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪৫
রাজধানীর নিরাপত্তা আরো কঠোর করতে এর চারদিকের প্রবেশ পথ ও গুরুত্বপূর্ণস্থানে আরো ৩০টি তল্লাশি চৌকি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহন ও সন্দেহভাজন  লোকজনকে তল্লাশি করবেন তারা। কারও কাছে অবৈধ কোনো পণ্য পাওয়া গেলে বা সন্দেহভাজন হলে তাদের থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঢাকার প্রবেশ পথসহ গুরুত্বপূর্ণস্থানে বর্তমানে ৫৮টি তল্লাশি চৌকি রয়েছে। আরো ৩০টি বাড়ানো হলে সংখ্যা দাড়াবে ৮৮টি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির সদর দপ্তরে ঢাকা মহানগর পুলিশের জুন মাসের মাসিক অপরাধ সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় উপস্থিত ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মাসিক অপরাধ সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।
মাসিক অপরাধ সভায় উপস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সৈয়দ আনোয়ার হোসেন জানান, প্রত্যেক মাসেই ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থে বাড়তি কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়। আগামী দিনে ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো সুসংহত করার জন্য বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত পুলিশের রমনা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। এছাড়াও এর চারদিকের প্রবেশ পথগুলোতেও পুলিশের নজরদারি রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়কে সামনে রেখে পুরনো অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইতিমধ্যে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, ওই সভায় ডিএমপির ৪৯ থানার ওসি, ৮টি জোনের ডিসি, এডিসি, এসি, ডিবির ৪টি বিভাগের ডিসি ছাড়াও ঊর্ধ্বতন পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার আগামী দিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরো কিভাবে কঠোর করা যায় এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার সভায় উপস্থিত সকলের মতামত চান। এসময় উপস্থিত পুলিশের কর্মকর্তারা তাদের বিভিন্ন মতামত জানান। রমনা জোনের এক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকায় আরো তল্লাশি চৌকি  বাড়ানোর জন্য ডিএমপি কমিশনারকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। সূত্র জানায়, ৩০টি তল্লাশি চৌকির অধিকাংশ স্থাপন করা হবে ঢাকার প্রবেশ পথ এলাকায়। চৌকির এলাকার বিকল্প রুটগুলোও ফলো করার কথা বলা হয়েছে। দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীরা যেন সেখান দিয়ে কোনোভাবে ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে তীক্ষ্ণ নজরদারি করা হবে। বর্ষা মৌসুম হওয়ার কারণে উত্তরা এলাকার শেষ প্রান্ত আশুলিয়ায় খালগুলোতে নৌকার মাধ্যমে নজরদারি বৃদ্ধি করবে পুলিশ। এই ৩০টি তল্লাশি চৌকির ৭টি স্থাপন করা হবে কূটনীতিক এলাকা গুলশান ও বারিধারায়। তল্লাশি চৌকির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশগুলোর মোবাইল টিম ও পিকেট পার্টির সমন্বয় সাধন করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কারও বিষয়ে অত্যধিক সন্দেহ হলে তাকে রাস্তায় জিজ্ঞাসা না করে থানায় নিয়ে গিয়ে সম্মানের সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বলা হয়েছে। এসময় খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে, কেউ যেন অযথা হয়রানির শিকার না হয়।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন