সাভারে অভিযান ৪ জঙ্গির আত্মসমর্পণ

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার সাভার থেকে | ১৭ জুলাই ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৬
সাভারে আশুলিয়ায় আস্তানায় অভিযান চালিয়ে চার জঙ্গিকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় আটককৃতদের কাছ থেকে তিনটি বোমা ও বেশকিছু ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস পাওয়া গেছে। এরা সবাই জঙ্গি তামিম-সারোয়ার গ্রুপের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান। গতকাল  দুপুর সোয়া ২টার দিকে জঙ্গি আস্তানা থেকে বের হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। আটককৃত জঙ্গিরা হলো- মো. মোজাম্মেল হক, রাশেদুন্নবী, আলমগীর হোসেন ও ইরফানুল হক। এদের সবার বয়স ২৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে। র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার এ পরিচালক বলেন, ইতিপূর্বে বিভিন্ন জঙ্গি অভিযানে আটক জঙ্গি তামিম-সারোয়ার গ্রুপের অন্যান্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর অদূরে সাভারের আশুলিয়ায় চৌরাবাড়ি এলাকার এ জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মেলে। এরপর থেকে আমাদের গোয়েন্দা সদস্যদের মাধ্যমে পুরো এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জঙ্গিদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হই। শনিবার রাত ১টার দিকে আমরা চৌরাবাড়ি এলাকার ইব্রাহিমের মালিকানাধীন জঙ্গি আস্তানাটি ঘিরে ফেলি। এদিকে বাড়িটি ঘেরাওয়ের পর থেকেই বাড়ির ভেতরে থাকা সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের জন্য র‌্যাবের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়।  কিন্তু সেদিকে কর্ণপাত না করে জঙ্গিরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে একাধিক বার গুলি ছুড়ে। সবশেষে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকেও কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এ সময় র‌্যাবের পক্ষ থেকে জঙ্গি আস্তানার উপর হেলিকপ্টার দিয়ে টহল দিতে দেখা গেছে। র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, বোম ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড ও এলিট বাহিনীর উপস্থিতিতে গতকাল দুপুর সাড়ে ১১টার পর আশুলিয়ার জঙ্গি আস্তানা থেকে প্রথমে মোজাম্মেল হক নামে এক জঙ্গি আত্মসমর্পণ করে। এরপর তাকে মোটিভেট করে বাকি তিন জঙ্গিকে এক এক করে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা হয়। এর আগে শনিবার রাত ১টা থেকে সাভার উপজেলার আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের চৌরাবাড়ি এলাকায় ইব্রাহিমের মালিকানাধীন একতলা টিনশেড বাড়িটি ঘেরাও করে রাখে র‌্যাব। এছাড়া ওই জঙ্গি আস্তানায় আর কোনো জঙ্গি আছে কিনা বা কেউ পালাতে সক্ষম হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ওই আস্তানায় ওরা চারজনই ছিল। কেউ পালাতে পারেনি। কোনো রকম হতাহত ছাড়াই আমরা তাদের আটক করতে সক্ষম হই। বর্তমানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পর্যায়ক্রমের পুরো বাড়িটি সার্চ করে যা পাওয়া যাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আবারো জানানো হবে। এরপর দুপুর দুইটা পঞ্চাশ মিনিট থেকে তিনটা পনের মিনিটের মধ্যে জঙ্গি আস্তানা থেকে প্রাপ্ত তিনটি বোমা নিষ্ক্রিয় করে র‌্যাবের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। স্থানীয় চাকলগ্রাম এলাকার ছালাম মেম্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া গাড়িচালক মো. হৃদয় জানান, কাজের ফাঁকে অবসর সময়ে আমরা জঙ্গি আস্তানাটির পাশের একটি ওয়ার্কশপে সময় কাটাতাম। গত বৃহস্পতিবার বিকালে হঠাৎ কয়েকটি গাড়িতে করে ওই বাড়িটিতে চেয়ার-টেবিল ও সোফাসেটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র আনা হয়। এ সময় আটক চার জঙ্গির একজনের সঙ্গে কথা হয় হৃদয়ের। এতো আসবাবপত্র আনার বিষয়ে জানতে চাইলে জঙ্গিরা তাকে বলে, এখানে একটি এনজিও খোলা হবে এবং এই এলাকার মানুষকে সেখান থেকে ঋণ দেয়া হবে। এর দেড় মাস আগে আজাদ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে পোশাক শ্রমিক পরিচয় দিয়ে বাড়িটি ভাড়া নেয়। বাড়িটি সবসময় সামনে থেকে তালাবদ্ধ থাকলেও জঙ্গিরা পেছনের একটি দরজা দিয়ে যাতায়াত করতো। মাঝে মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী একজন লোককে দেখা গেলেও গতকাল আটককৃতদের মধ্যে তিনি নেই বলে জানান গাড়িচালক হৃদয়।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন