জনশক্তি রপ্তানিতে সিন্ডিকেট করেছে মালয়েশিয়া: প্রবাসী মন্ত্রী

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ জুলাই ২০১৭, সোমবার
বাংলাদেশ সরকার তাদের প্রায় ১১০০ এজেন্সির তালিকা পাঠিয়েছে। কিন্তু তারা সেখানে মাত্র ১০টি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার অনুমোদন দিয়েছে। ১০টিতে রাজি না হলে তারা মালয়েশিয়ার বাজার আবারো বন্ধ করে দিতে পারতো। তাই আমরা এ নিয়ে আর কোনো কথা বলিনি। গতকাল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এসব কথা জানান। প্রবাসী কল্যাণ ভবনের মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জনশক্তি রপ্তানিখাতে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফর বাংলাদেশি মাইগ্র্যান্টস (আরবিএম) আয়োজিত ‘মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট বাংলাদেশ সরকার করেনি। করেছে মালয়েশিয়ার সরকার। মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিরুদ্ধে দেশটির সরকার অভিযান বন্ধ করেছে। কারণ, তাদের দেয়া সময় অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত অবৈধদের বৈধতার জন্য সময় রয়েছে। কিন্তু তারা হঠাৎ করেই অভিযান শুরু করেছে। এরপরই সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হলে, তারা অভিযান বন্ধ করে। তিনি বলেন, আমাদের পদে পদে সমস্যা রয়েছে। কিন্তু এসব সমস্যা হঠাৎ করেই সমাধান করা সম্ভব হবে না। তবে এসব সমস্যা সমাধানে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। সরকার জাপান ও রাশিয়াসহ আরো বেশ কিছু নতুন শ্রমবাজার খোলার ব্যাপারে কাজ করছে বলেও জানান নুরুল ইসলাম বিএসসি। সেমিনারে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেন, অভিবাসন ব্যয় ও মালয়েশিয়ার সিন্ডিকেট নিয়ে সরকার বিব্রত। এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। তবে অনেক সমস্যার সমাধান একদিনে করা যাবে না। তিনি বলেন, এ নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। তাই আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি না। যেসব বিষয়ে কোনো মামলা নেই, আমরা সেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি। বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে পড়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জনশক্তি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক সেলিম রেজা বলেন, বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংকুচিত হচ্ছে না, বরং কর্মী প্রেরণ বাড়ছে। এর আগে একবছরে আমরা সর্বোচ্চ ৮.৭৫ লাখ কর্মী পাঠাতে পেরেছি। কিন্তু চলতি বছরের প্রথম সাড়ে ছয় মাসে এখন পর্যন্ত কর্মী পাঠানো হয়েছে ৫.৫৪ লাখ। যা বছর শেষে অতীতের রেকর্ড ভেঙ্গে ১০ লাখ অতিক্রম করবে। বায়রার যুগ্ম মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, সৌদি আরবে পুরুষ কর্মীদের পাঠানোর জন্য নারী পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক করে বিদ্যমান নির্দেশনা ইতিমধ্যেই স্থগিত করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে নারী পাসপোর্ট ছাড়াই পুরুষদের ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দেয়া যাবে। এতে দেশটিতে ভবিষ্যতে পুরুষ কর্মীর পাঠানোর সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এবং বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ব্যবস্থাকে অভিবাসন খাতের বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে রামরুর নির্বাহী পরিচালক সিআর আবরার বলেন এ ধরনের অবস্থা কাঙ্ক্ষিত নয়। দেশের শ্র্রমবাজার বাঁচাতে এ ধরনের সিন্ডিকেট ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। অভিবাসন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
ব্রাক-এর হেড অব মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম শরীফুল হাসান বলেন, মালয়েশিয়ায় নতুন করে শ্রমিক পাঠানোর চেয়ে অবৈধ বাংলাদেশিদের বৈধতা দেয়া এবং অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণই এই মুহূর্তে শ্রমখাতের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ইউরোপে অবৈধ অভিবাসী যাওয়ার পথ বন্ধ না করলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরবিএম সভাপতি ফিরোজ মান্নার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন নির্বাহী সদস্য মহসীনুল করিম। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন বায়রার সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন