নিষেধাজ্ঞা শিথিলের রায় স্থগিত চেয়ে ট্রাম্পের আবেদন

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৬ জুলাই ২০১৭, রবিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৩৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার রায় দিয়েছিলেন হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের এক বিচারক। এবারে ট্রাম্প প্রশাসন সে রায় স্থগিত করার আবেদন দাখিল করেছে সর্বোচ্চ আদালতে। বৃহস্পতিবার হাওয়াইয়ের ডিস্ট্রিক্ট জজ তার রায়ে শরণার্থী ও ৬টি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার পরিধি কিছুটা কমিয়ে আনে। এ রায় মোতাবেক নিষেধাজ্ঞা আরোপিত দেশগুলোর যেসব নাগরিকদের মার্কিন নাগরিকত্ব আছে তাদের দাদা-দাদি, নানা-নানি যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন। পাশাপাশি যেসব শরণার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন আছে তাদেরকেও নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত করা হয়। শুক্রবার মার্কিন আইন মন্ত্রণালয় এই রায় আটকে দিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।  
খবরে বলা হয়, আদালতে চলমান সাম্প্রতিক এই লড়াই ৬ই মার্চ ইস্যু করা ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ নিয়ে। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার এই আদেশ নিম্ন আদালত স্থগিত করে দিয়েছিল। এরপর গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট দুই নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে কার্যকর করার রায় দেয়। ট্রাম্প বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা জাতীয় নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রয়োজন। সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে তবে, যাদের মার্কিন কোনো নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সত্যিকারের সম্পর্ক (বোনাফাইড রিলেশনশিপ) রয়েছে তারা এর আওতামুক্ত থাকবে। ট্রাম্প প্রশাসন বোনাফাইড রিলেশনশিপকে সংজ্ঞায়িত করেছে অত্যন্ত সংকীর্ণভাবে। বলেছে, এ নিষেধাজ্ঞা পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি দাদা-দাদি, নানা-নানির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এর প্রেক্ষিতে হাওয়াই অঙ্গরাজ্য হাওয়াই ভিত্তিক মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ ডেরিক ওয়াটসনের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন সম্পর্কের ওই সংজ্ঞার পরিধি বিস্তৃত করতে। বিচারক ওয়াটসন হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের পক্ষে রায় দেন। এরপর আইন মন্ত্রণালয় সুপ্রিম কোর্টে রায় আটকে দিতে আবেদন করে। এতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই বিচারকের রায় সম্পর্কের সংজ্ঞা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে অন্তঃসারশূন্য করে দেয়। কেননা, এটা শুধু পরিবারের ‘ঘনিষ্ঠ’ সদস্যদেরই নয় বরং কার্যত পরিবারের সকল সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। রিপোর্টে বলা হয়, রক্ষণশীল-ঘেঁষা সুপ্রিম কোর্টে এখন কোনো বিচারকাজ চলছে না। তবে, বিচারপতিরা জরুরি অনুরোধ আমলে নিয়ে আদালত চালু করতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন সরাসরি পাঠানো হতে পারে বিচারপতি অ্যান্থনি কেনেডির কাছে বা বাকি নয় বিচারকের কাছে একসঙ্গে। পশ্চিমা অঙ্গরাজ্যগুলোর জরুরি আবেদনগুলোর দায়িত্বে রয়েছেন বিচারপতি কেনেডি। পুরো বেঞ্চকেই যদি আবেদনটি আমলে নিতে বলা হয়  সেক্ষেত্রে এমন অনুরোধ অনুমোদন পেতে প্রয়োজন ৫ ভোট। আর হাওয়াইয়ের বিচারক ওয়াটসনের রায় যদি বলবৎ থাকে, তর অর্থ হবে নির্বাহী আদেশে সীমিত করে দেয়া ৫০ হাজারের বেশি শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন। উল্লেখ্য, ৫০ হাজারের সীমা এ সপ্তাহেই পূর্ণ হয়ে গেছে।       



 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন