ঘুমে ব্যাঘাত ঘটবে তাই নবজাতক, স্ত্রীকে ফেলে গেলেন স্বামী

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৫ জুলাই ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৪৫
দুই যুগ বা ২০ বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে ৬০ বছর বয়সে একটি কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন আতিফা লাজিক। সন্তানের নাম রাখেন এলিনা। স্বভাবতই আনন্দের সীমা থাকার কথা নয় তার। এ আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাওয়ার কথা তার স্বামী শেরিফ নোকিচের। কিন্তু না! ঘটল তার উল্টো। আতিফা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এ কথা শুনে তিনি তাদের ফেলে চলে গিয়েছেন। তার যুক্তি- সন্তানের কান্নায় রাতে তার ঘুম ভেঙে যাবে। কিন্তু আতিফা মা। তিনি তো আর সন্তানকে ফেলে দিতে পারেন না। তিনি অতি আদরে তাকে বড় করার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়েছে, আতিফা একজন পেনশনার। তার বয়স এখন ৬০ বছর। ২০ বছরের চেষ্টায় তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে কন্যা সন্তানটি জন্ম দেন সম্প্রতি। এ ঘটনা সার্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় রাসকা জেলার নোভি পাজারের। সন্তান জন্মের কথা শুনেই মানসিকতা পাল্টে ফেলেন আতিফার স্বামী শেরিফ নোকিচ (৬৮)। তিনি কি করলেন স্ত্রী ও সন্তানকে ফেলে চলে গেছেন। অর্থাৎ তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখলেন না। ক্ষোভের সঙ্গে আতিফার উদ্দেশে তিনি বলেছেন, সে যা চেয়েছে তাই পেয়েছে। এখন সে সুখী। এই বয়সে একটি ছোট্ট বাচ্চার সঙ্গে বসবাস করা তার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আতিফারও শারীরিক সমস্যা আছে। তার রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। কিন্তু এ সমস্যাকে পিছনে ফেলে সে বলছে একাই ওই মেয়েকে সে বড় করে তুলবে। শেরিফের ভাষায়Ñ ‘সর্বোপরি আমি একজন রোগি মানুষ। আমার বয়স ৬৮ বচর। আমার ডায়াবেটিস আছে। আমার হৃদপিন্ড দুর্বল। ফলে একটি বাচ্চা যখন রাতে কান্না করবে তখন আমার পক্ষে ঘুমানো সহজ হবে না। উল্লেখ্য, আতিফার শারীরিক সমস্যা থাকায় সন্তান গর্ভে ধারণ ও প্রসবে ছিল উচ্চ মাত্রার ঝুঁকি। সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে তাই তাকে শেষ তিন মাস থাকতে হয়েছে হাসপাতালে। তার স্বামী শেরিফ বলেন, সন্তান নেয়ার ধারণাটি সে একা একাই নিয়েছে। তবে প্রথম দিকে তিনি তাকে এতে বাধা দিয়েছিলেন। তাই ছোট্ট এলিনা ও তার মাকে ফেলে গেছেন তিনি। এ জন্য এলিনার নামের সঙ্গে তার পিতার নাম যুক্ত হচ্ছে না রেজিস্টারে। ধারণা করা হচ্ছে, আতিফা অজ্ঞাত কোনো শুক্রাণু দাতার শুক্রাণু ব্যবহার করে গর্ভ সঞ্চার করেছিলেন। তিনি চাকরি করতেন একটি টেক্সটাইল কারখানায়। এখন তিনি বলছেন, শেরিফ তাদের অস্বীকার করলেও তিনি ছোট্ট এলিনাকে বড় করে তুলবেন। এ জন্য তিনি জীবনে যেটুকু সঞ্চয় করেছেন তাই ব্যবহার করবেন। আতিফার এক কাজিন রাসিম লাজিচ। তিনি সার্বিয়ার বাণিজ্য ও উপ প্রধানমন্ত্রী। তা সত্ত্বেও আতিফা বলছেন, তাকে সহায়তা করার মতো কোনো আত্মীয় নেই। তার ভাষায়Ñ যাই ঘুটক শেরিফ আমাদের সঙ্গে থাকুক আর নাই থাকুক আমিই এলিনাকে বড় করে তুলবো। এটা আমি পারবো। তাকে সঠিক পথেই বড় করতে পারবো। আমি তাকে নিয়েই বেঁচে থাকবো। আমি জানি এ কাজটি সহজ নয়। এখনও আমি বিশ্বাস করি অনেক ভাল মানুষ আছেন, যারা আমাকে সহায়তা করতে পারেন। আমি জীবন নিয়ে শঙ্কিত নই। সৃষ্টিকর্তা আমাকে সাহস দিয়েছেন।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন