বিদেশী মিডিয়ায় মুক্তামনি

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৫ জুলাই ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৩১
বাংলাদেশের ভাগ্য বিড়ম্বিত মুক্তামনির (১২) দুর্দশার চিত্র এখন বিশ্ব মিডিয়ায়। তার দুর্ভোগের বর্ণনা করে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হচ্ছে। সচিত্র এসব প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের ‘গাছ মানব’ বলে পরিচিত আবুল বাজানদারের রোগের মতো রোগে ভুগছে মুক্তামনি। এরই মধ্যে তার শরীরের উপরের অংশ অকেজো হওয়ার অবস্থা। এতে যে ব্যাথা তা অসহনীয়। বুকের ডান পাশ বাদামী বর্ণ ধারণ করেছে। মুক্তামনির ডান হাত প্যারাসাইটে আক্রান্ত। তা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে তার বুকের অন্য পাশ এখনও সংক্রমিত হয় নি। চিকিৎসকরা বলছেন, এ রোগ তার পুরো দেহে ছড়িয়ে পড়েছে বলে তারা মনে করছেন। এ বিষয়ে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল মুক্তামনির কয়েকটি ছবি দিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, আহত করার মতো এই ছবিগুলো ১২ বছর বয়সী একটি মেয়ের। সে আস্তে আস্তে ‘গাছ মানবে’র পরিণতির দিকে যাচ্ছে। তার পরিচয় শুধু মুক্তামনি। স্থানীয় রিপোর্টে বলা হচ্ছে, তার শরীরের উপরের অংশ ‘গাছ মানব’ রোগে পচে গেছে। বুকের ডান পাশে যে অংশ বাদামী বর্ণ ধারণ করেছে তা দেখতে গাছের বাকলের মতো।

মুক্তামনির ডান হাত পুরোপুরি আক্রান্ত। তা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ফলে ওই হাতটি এখন বাঁকা হয়ে আসছে। মুক্তামনির কাছে এ হাত এখন অব্যবহারযোগ্য। বর্তমানে মুক্তামনি রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এখানে চিকিৎসা নিচ্ছে সে। ‘গাছ মানব’ লক্ষণকে বলা হয় এপিডারমোডাইপ্লাসিয়া ভেরাসিফরমিস (ইভি)। তবে মুক্তামনির প্রকৃতপক্ষেই সেই রোগ কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায় নি। উল্লেখ্য, ইভি এমন একটি বিরল লক্ষণ যাতে চামড়ার ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। যা দেখতে আঁচিলের মতো হয়। লালচে আঁচিল সারাদেহে দেখা দেয়। পরে তা বর্ধিত হতে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলে অস্বাভাবিক দুটি ইভি জিনের কারণে এ রোগ হয়। এই দুটি জিনের একটি আসে মা এবং একটি আসে পিতার দেহ থেকে। তবে তা পিতা ও মাতার দেহে থাকতে হয়। এ রোগের এখন পর্যন্ত খুব ভাল কোনো চিকিৎসা বের হয় নি। গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশের ‘গাছ মানব’ আবুল বাজানদারকে নিয়ে ডেইলি মেইল রিপোর্ট প্রকাশ করে। এরপর বেরিয়ে এলো মুক্তামনির কাহিনী। আবুল বাজানদারের শরীরে বিশাল আকারের সব আঁচিলে ভরে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা তাকে টিকিৎসা দিয়ে ভাল করে তুলেছেন। ওই সময়েই বাংলাদেশের ১০ বছর বয়সী আরেকটি বালিকার একই রকম সমস্যার কথা ধরা পড়ে। তার নাম সাহানা খাতুন। তার থুতনি, কান, নাক থেকে বেরিয়ে আসে আঁচিলের মতো বস্তু।
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন