জরিপের ফল শুনে কেঁদেছিলেন তেরেসা মে

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৪ জুলাই ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:৩১
নির্বাচন ডাকার কোনো প্রয়োজনই ছিল না তার। অনায়াসেই প্রধানমন্ত্রীর গদিতে থাকতে পারতেন আরও বছর কয়েক। পার্লামেন্টে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত। ওদিকে জনগণের কাছে তিনি তীব্র জনপ্রিয়। প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী নেতার চেয়ে যোজন যোজন ব্যবধানে এগিয়ে। কিন্তু এরপরও আগাম নির্বাচন ডেকে বসেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে।
অথচ, আগেও তিনি বলেছিলেন এই নির্বাচন ডাকার ইচ্ছে তার নেই। অনেকের ভ্রু কুঁচকালেও, সবাই অত গা করেননি। কারণ, জরিপে রেকর্ড ২৮ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা তেরেসা মে জিতবেন তো বটেই, বরং রেকর্ডসংখ্যক আসন পেতে পারেন Ñ এমনই ধারণা ছিল বেশিরভাগ মানুষের। মে নিজেও যুক্তি দিয়েছিলেন, সামনের ব্রেক্সিট নিয়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে দরকষাকষিতে শক্ত ম্যান্ডেট দরকার তার।
কিন্তু নিজের দুঃস্বপ্নেও যা ভাবেননি, তা-ই ঘটে যায় মের ভাগ্যে! বিরোধী নেতা জেরেমি করবিনের চমকপ্রদ উত্থানে নির্বাচনের দিন প্রায় সমান হয়ে যায় দুই দলের জনপ্রিয়তার হার। বেশিরভাগ আসন সেবার তেরেসা মে জিতে যান বটে, কিন্তু দল হারিয়ে ফেলে মহাগুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চিত অবস্থায় পড়ে যান তিনি। পরে নজিরবিহীন কায়দায় আয়ারল্যান্ডের ডানপন্থী আঞ্চলিক দল ডিইউপির সঙ্গে চুক্তি করে ‘সংখ্যালঘু’ সরকার গঠন করতে বাধ্য হয় শাসক দল কনজারভেটিভরা।  
নির্বাচনের শেষ দিনগুলো আর ফলাফল প্রকাশের আগে-পরে তেরেসা মে দৃশ্যত ছিলেন বিধ্বস্ত। খোদ দল থেকে ডাক উঠে পদত্যাগের। সেই দিনগুলোতে কেমন ছিল প্রধানমন্ত্রীর মানসিক অবস্থা?
বিবিসি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্নের সৎ উত্তর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের স্বভাবসুলভ ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে জটিল করে এড়িয়ে যাওয়া উত্তর দেননি এবার। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এক্সিট পোলে (বুথফেরত জরিপ) যখন দেখলেন পরিস্থিতি খারাপ, তখন কেমন লেগেছিল?
জবাবে তিনি জানান, কিছু কুসংস্কার মেনে চলায় এক্সিট পোল তিনি দেখেন না। তার স্বামীই গিয়ে তাকে বিধ্বংসী ফলাফলের খবরটি জানান। তেরেসা মে বলেন, ‘বিষয়টি উপলব্ধি করতে আমার কয়েক মিনিট সময় লেগেছিলো। কারণ আমরা ওই ফলাফল একেবারেই প্রত্যাশা করিনি।’ তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলো। আর আমার চোখ দিয়ে যেন কয়েক ফোঁটা অশ্রু নেমে আসে।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমি জানতাম যে, আমার নির্বাচনী প্রচারণা নির্ভুল হয়নি। কিন্তু সবমিলিয়ে মনে হচ্ছিলো, হাউজ অফ কমন্সে আমার সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়বে, বৈ কমবে না।’ এক্সিট পোল বা বুথফেরত জরিপের ফলাফল মোটামুটি নির্ভুলভাবেই গত বৃটিশ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের প্রতিফলন ঘটায়। শেষ পর্যন্ত দেখা গেল, সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়ানো দূরে থাক, উল্টো নিজের দলীয় উত্তরসূরি ডেভিড ক্যামেরনের আমলের চেয়ে ১৭টি আসন কম পান মে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট মানসী চিল্লার-এর

খেলার মাঠে দেয়াল ধসে দর্শক যুবকের মৃত্যু

‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মৃত্যু ঘটেছে’

কুমারিত্বের দাম ৩ মিলিয়ন ডলার!

ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আকরাম ৮ দিনের রিমান্ডে

১৫৪ টার্গেট গেইল-ম্যাককালামের

বাড়ি ফিরেছেন নিখোঁজ ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়

শিক্ষার্থীদের মাথা ন্যাড়ার শর্তে এসএসসি’র ফরম পূরণ!

একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ

রাবি অপহৃত ছাত্রী ঢাকায় উদ্ধার

‘সমাবেশে জোর করে লোক আনা হয়েছে’

সমাবেশ মঞ্চে শেখ হাসিনা

যুদ্ধাপরাধের ২৯তম রায়ের আপেক্ষা

সিরিয়া ইস্যুতে আবারো রাশিয়ার ভেটো

ইরাক ও ইসরায়েল সুন্দরী একসঙ্গে সেলফি তুলে বিপাকে

‘বিএনপিকে দূরে রেখে নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে’