ট্রাম্পের হাঁফ ছেড়ে বাঁচার সফর

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৪ জুলাই ২০১৭, শুক্রবার
ঘরে তুঙ্গে উঠেছে রাশিয়া কেলেঙ্কারি। এরই মাঝে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প পৌঁছেছেন ফ্রান্সে। ফ্রান্সের ঐতিহাসিক বাস্তিল দিবস উদযাপনে উপস্থিত থাকবেন তিনি। হোয়াইট হাউসের আশা, এই সফর ক্ষণিকের জন্য হলেও হাঁফ ছেড়ে বাঁচার সুযোগ করে দেবে প্রেসিডেন্টকে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এমনটিই বলা হয়েছে।
খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় প্যারিসের ওরলি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তার এই একদিনের সফর হচ্ছে ফরাসি জাতীয় দিবস ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত হওয়ার ১০০তম বার্ষিকীর সঙ্গে মিল রেখে। ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে তিনি এই প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফ্রান্সে গেলেন। তার সমর্থকদের আশা, এই সফরের মাধ্যমে তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে জিততে রাশিয়ার সঙ্গে যোগসাজশ করার অভিযোগ থেকে কিছুদিনের জন্য রেহাই পাবেন তিনি। এই কেলেঙ্কারিতে সর্বশেষে এসেছে তার ছেলে জুনিয়র ট্রাম্পের নাম। ফলে শিগগিরই আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন তিনি ও তার শীর্ষ সহযোগীরা। অন্যদিকে একের পর এক কেলেঙ্কারিতে পর্যদুস্ত হোয়াইট হাউস ও রিপাবলিকান দল এগিয়ে নিতে পারছে না নিজেদের এজেন্ডা।
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ছেলে জুনিয়র ট্রাম্প নিজের সাবেক নির্বাচনী প্রতিপক্ষ হিলারি ক্লিনটনের কেলেঙ্কারির সন্ধানে রাশিয়া সরকারের এজেন্ট পরিচয় দানকারী এক আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করে ভুল করেননি। তার ভাষ্য, তার স্থলে থাকলে অনেকেই একই কাজ করতো। অবশ্য তিনি দাবি করেন, তিনি এই ঘটনা আগে জানতেন না। উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রথম সংবাদ প্রকাশ করে যে, রাশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে ওই রাশিয়ান আইনজীবী হিলারি ক্লিনটন সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য দেয়ার প্রস্তাব দেন জুনিয়র ট্রাম্পকে। কিন্তু এ নিয়ে সতর্ক না হয়ে, ওই তথ্য পেতে ব্যাপক আগ্রহ দেখান জুনিয়র ট্রাম্প। ট্রাম্প শিবিরের অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই রাশিয়ার সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়েছে। ফলে কংগ্রেসের একাধিক কমিটি ও এফবিআই বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে তদন্তও করছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিশ্বাস, রাশিয়া ট্রাম্পকে নির্বাচনে জেতাতে বিভিন্ন চাল চেলেছিল। এ কারণেই খোদ ট্রাম্পের নিজ ছেলের নামই যখন এই কেলেঙ্কারিতে চলে আসে, তখন যেন আগুনে ঘি ঢালার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে।
পরে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, এই পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস টালমাটাল হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দেয়া দূরে থাক, শীর্ষ উপদেষ্টারা একে অপরকে সন্দেহের চোখে দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করে। এমনকি অনেকে নিজেদের অসহায়ত্বের কথাও তুলে ধরেন। ট্রাম্পের এক সহযোগী বিষয়টিকে ‘ক্যাটাগরি ৫ হ্যারিক্যান’ বলে আখ্যা দেন। কিন্তু রয়টার্সের সঙ্গে গতকালের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, হোয়াইট হাউসে সবার মুড ‘অসাধারণ’। হোয়াইট হাউস কাজ করছে খুব সুন্দরভাবে।
এছাড়া রাশিয়া এই নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে, গোয়েন্দা সংস্থার এমন দাবি ট্রাম্প নিজে মানতে রাজি নন। অবশ্য সাম্প্রতিক কালে তিনি সুর কিছুটা নরম করে বলেছেন, এই কাজ রাশিয়াও করতে পারে, অন্য কেউও করতে পারে। নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই। রয়টার্সের সঙ্গে গতকালের সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কয়েকদিন আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এই প্রশ্নটি উঠিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে (পুতিন) জিজ্ঞেস করি, আপনি কি আসলেই এসব করেছিলেন? তিনি উত্তর দেন, না, আমি কিছুই করি নি, একেবারেই নয়। আমি এরপর আবারও তাকে একই কথা জিজ্ঞেস করি, ভিন্নভাবে। এবারও তিনি বলেন, একেবারেই নয়। কেউ একজন বলেছিল, সত্যিই যদি তিনি (পুতিন) কাজটা করতেন, তাহলে আপনি কখনই তা বের করতে পারতেন না। এটা দারুণ একটা পয়েন্ট।’
এদিকে বার্তা সংস্থা এপি’র এক খবরে বলা হয়, ট্রাম্পের সঙ্গে ফ্রান্সের বিভিন্ন ইস্যুতে ইতিমধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এমনকি ফ্রান্সের তরুণ প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রনকে বলা হয় ট্রাম্প-বিরোধী রাজনীতিক। মাস কয়েক আগে দায়িত্ব নেয়া ম্যাক্রনের সঙ্গে ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বিরোধে লিপ্ত হয়েছেন ট্রাম্প। ট্রাম্প তার পূর্বসূরি বারাক ওবামার স্বাক্ষরিত প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছেন। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্ররা প্যারিস চুক্তির পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছেন। এপির খবরে বলা হয়, এই সফরে দুই নেতা নিজেদের মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে অভিন্ন স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করবেন।
এছাড়া তিনি এখন যে নগরীতে অবস্থান করছেন, ফ্রান্সের রাজধানী সেই প্যারিসকে নিয়ে অতীতে বেশ কয়েকটি নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। যেমন, প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, তিনি পিটার্সবার্গের (মার্কিন নগরী) নাগরিকদের রক্ষায় নির্বাচিত হয়েছেন, প্যারিসের নয়। প্যারিসে একবার সন্ত্রাসী হামলা হলে তিনি বলেন, প্যারিস আর প্যারিস নেই।
ফ্রান্স অবশ্য গত কয়েক বছর ধরে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে। গত বছরের এই বাস্তিল দিবস উদযাপনকালেই ১৯ টনের একটি কার্গো ট্রাক পথচারীদের ওপর উঠিয়ে ৮০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করে এক সন্ত্রাসী।

 
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন